Wednesday, August 25, 2021

" বিতর্কিত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন "

 



" বিতর্কিত নারীবাদী লেখিকা   
         তসলিমা নাসরিন "


           তসলিমা নাসরিন সমাজের নড়বড়ে কাঠামোতে হয়তো অপরিকল্পিত ভাবে ধাক্কাটা দিয়েছেন; ফলে ভঙ্গুর স্তুপের নিচে তিনি নিজেই যেনো চাপা পড়ে গেছেন! তারপরও জঞ্জাল সরানোর অবিরাম চেষ্টা! 


          ডাক্তার হিসেবে রোগীর পালস্ হার্টবিট যতটা বুঝতেন; উপমহাদেশের শঙ্কর বাঙালি সংস্কৃতির নাড়িনক্ষত্রের সমীকরণ ততটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন কিনা; তা নিয়ে নিশ্চয়ই বিতর্ক রয়েছে। 


         নারীবাদী ও ধর্মীয় সমালোচনামূলক রচনার কারণে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন। তার রচনা ও ভাষণের মাধ্যমে লিঙ্গসমতা, মুক্তচিন্তা, নাস্তিক্যবাদ এবং ধর্মবিরোধী মতবাদ প্রচার করায় তসলিমা বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর রোষানলে পড়েন এবং ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে বাধ্য হন। 


         ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে আগস্ট ময়মনসিংহ শহরে তসলিমা নাসরিনের জন্ম হয়। তার মাতা ঈদুল ওয়ারা গৃহিণী এবং পিতা রজব আলী পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। তসলিমা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে এমবিবিএস পাস করেন। তিনি মিটফোর্ড হাসপাতালে স্ত্রীরোগ বিভাগে ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।



          তেরো বছর বয়স থেকে তসলিমা কবিতা লেখা শুরু করেন।  ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ হতে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও গ্রন্থ আকারে তসলিমার কবিতা, উপন্যাস সহ বিভিন্ন লেখা প্রকাশিত হয়। 


          ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে তসলিমা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র প্রেমে পড়েন এবং গোপনে বিয়ে করেন। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানের সাথে তার বিয়ে এবং ১৯৯১ সালে বিচ্ছেদ হয়। তিনি ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক বিচিন্তার সম্পাদক মিনার মাহমুদকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯২ সালে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়। তসলিমার কোন সন্তানাদি নেই।


           তার কাব্যগ্রন্থ ও সংবাদপত্রের কলামে নারীদের প্রতি মুসলিম মৌলবাদীদের শোষণের কথা লেখায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে এই পত্রিকার অফিস ভাঙচুর করা হয়। এই সময় নির্বাচিত কলাম নামক তার বিখ্যাত প্রবন্ধসংকলন প্রকাশিত হয়, যার জন্য ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে তসলিমা আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। 


          ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে "লজ্জা" নামক তার পঞ্চম উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে বাংলাদেশের মুসলিমদের দ্বারা একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর অত্যাচারের বর্ণনা করা হয়। এই উপন্যাসটি প্রকাশের পর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় মুসলিম মৌলবাদীরা তসলিমার ওপর শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে ও তার এই উপন্যাস নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি জানায়। গ্রন্থমেলা কর্তৃপক্ষ তাকে মেলায় প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। এই বছর অক্টোবর মাসে কাউন্সিল অব ইসলামিক সোলজার্স নামক এক মৌলবাদী সংগঠন তার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে।


           তসলিমা নাসরিনের সাতটি আত্মজীবনী গ্রন্থের অধিকাংশ বাংলাদেশ ও ভারত সরকার দ্বারা নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়। "আমার মেয়েবেলা" নামক তার প্রথম আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হলেও ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে এই বইয়ের জন্য তসলিমা দ্বিতীয়বার আনন্দ পুরস্কার জয় করেন। 


         ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে তার দ্বিতীয় আত্মজীবনী "উতাল হাওয়া" বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে  তার তৃতীয় আত্মজীবনী বাংলাদেশ উচ্চ আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই বইটি দ্বিখণ্ডিত নামে প্রকাশিত হলেও ভারতীয় মুসলিমদের একাংশের চাপে পশ্চিমবঙ্গেও বইটি নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়।  ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে "সেই সব অন্ধকার" নামক তার চতুর্থ আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।


         ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইসলামি ধর্মীয় আইন শরিয়া অবলুপ্তির কথা বলেন। এর ফলে ইসলামি দলগুলো তার ফাঁসির দাবিতে সমাবেশ ও দেশ জুড়ে তার শাস্তির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট ডাকা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে জনগণের ধর্মীয় ভাবনাকে আঘাত করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয় এবং জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেসময় এক আলোকচিত্র শিল্পীর আশ্রয়ে তিনি লুকিয়ে ছিলেন। এরপর উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাকে জামিন মঞ্জুর করা হয় এবং তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।


          বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর তিনি ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে সুইডেনে ও ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত জার্মানিতে বসবাস করেন। ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন। এই সময় তার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি দেশে ফেরার অনুমতি চেয়ে ব্যর্থ হন এবং জাতিসংঘের ভ্রমণ নথি ত্যাগ করে সুইডিশ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে তার বাংলাদেশের পাসপোর্ট ফেরত পান ও বিনা অনুমতিতে বাংলাদেশ প্রবেশ করেন। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে পুনরায় জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রুজু হলে তিনি পুনরায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ১৯৯৯ থেকে ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ফ্রান্সে বসবাস করেন।



          দীর্ঘ ছয় বছর অপেক্ষার পর ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারতে প্রবেশ করার ভিসা সংগ্রহ করতে সমর্থ হলে তিনি কলকাতা যাত্রা করেন।  পরবর্তীতে তিনি "শোধ" নামক তার একটি উপন্যাসের মারাঠি ভাষায় অনুবাদকর্মের প্রচারে মুম্বই শহরে পৌঁছানোর সময় মুসলিম মৌলবাদীরা তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেন। ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে তসলিমার পিতা মৃত্যুশয্যায় শায়িত হলে তসলিমার বাংলাদেশ প্রবেশে অনুরোধ করে ব্যর্থ হন। 


          ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে অস্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হলে তসলিমা কলকাতা শহরে বসবাস শুরু করেন। ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম সৈয়দ নূরুর রহমান বরকতি নাসরিনের মুখে কালিলেপন করলে পুরস্কৃত করার কথা ঘোষণা করেন। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল বোর্ড নামক একটি সংগঠন তার মুন্ডচ্ছেদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করেন। 


         ২০০৭ খ্রী: ৯ই আগস্ট তিনি "শোধ" উপন্যাসের তেলুগু ভাষায় অনুবাদকর্মের প্রচারে হায়দ্রাবাদ শহরে গেলে অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন নামক একটি রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় উত্তেজিত জনতা তাকে আক্রমণ করে। ১৭ই আগস্ট কলকাতা শহরের মুসলিম নেতারা তসলিমাকে হত্যা করার জন্য বিপুল অর্থ পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। ২১শে নভেম্বর অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটি ফোরাম নামক একটি ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠী কলকাতা শহরে তাণ্ডব শুরু করলে সেনাবাহিনীকে আইন ও শান্তিরক্ষার জন্য মোতায়েন করা হয়। এই দাঙ্গার পর নাসরিনকে কলকাতা থেকে জয়পুর হয়ে নতুন দিল্লি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।



          ভারত সরকার তাকে পরবর্তী সাত মাস একটি অজ্ঞাত স্থানে গৃহবন্দি করে রাখে। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে তাকে সিমোন দ্য বোভোয়ার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হলেও তিনি ভারতে প্রবেশে অনুমতি না পাওয়ার আশঙ্কায় ফ্রান্স যাত্রা করে পুরস্কার নিতে অসম্মত হন। এই সময় তিনি নেই কিছু নেই নামক তার আত্মজীবনীর ষষ্ঠ ভাগ প্রকাশ বাতিল করেন ও কলকাতার দাঙ্গার জন্য দায়ী দ্বিখণ্ডিত নামক তার বিতর্কিত বইটির কিছু অংশ অপসারণ করতে বাধ্য হন।


         ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত মৌলবাদীরা তার প্রাণনাশের হুমকি দিলে সেন্টার ফর ইনক্যুয়ারি তাকে ঐ বছর ২৭শে মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে সহায়তা করে এবং তার খাদ্য, বাসস্থান নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।”   


          তসলিমা নাসরিনের জীবনভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র নির্বাসিত ২০১৪ সালে মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসবে মুক্তি পায়। ২০১৫ সালে এই চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র বিভাগে ৬২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছে।


          তসলিমা তার উদার ও মুক্তচিন্তার মতবাদ প্রকাশ করায় দেশ-বিদেশ থেকে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা গ্রহণ করেছেন।  আনন্দ সাহিত্য পুরস্কার, নাট্যসভা পুরস্কার,  ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট কর্তৃক শাখারভ পুরস্কারসহ ফ্রান্স, সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল পেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচ, নরওয়েভিত্তিক হিউম্যান-এটিস্ক ফরবান্ড কর্তৃক বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

 

          দেশে, বিদেশে এবং নির্বাসিত জীবনে বহু কবিতা, উপন্যাস, আত্মজীবনী ও কলাম লিখে তিনি যেমন নন্দিত  হয়েছেন; তেমন নিন্দিতও হয়েছেন। তারপরও তিনি অনেকের কাছে আধুনিক নারীজাগরণের পথিকৃত; মুখোশ আর খোলস ভাঙার চেষ্টায় অবিচল এক ব্যতিক্রমী কালজয়ী নারী।


©  হারুন-অর-রশীদ। 

(Source- "Bangladesh bans new Taslima book"- Ahmed, Kamal (13 August 1999)/BBC News(1 June 2009), Wikipedia)

Sunday, August 22, 2021

শরীরে পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণ করে যেসব খাবার



 


শরীরে পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণ করে যেসব খাবার


 (এড. মোঃ সোহরাব হোসেন ভূঁঞা(মিঠু)

আইনজীবী, জজকোর্ট ঢাকা/কুমিল্লা, বাংলাদেশ।)

শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষা জন্য যেসব খনিজ প্রয়োজন তার মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পটাশিয়াম। এটা হৃদপিণ্ড, কিডনি, মস্তিষ্ক এবং পেশীর টিস্যুর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খুব প্রয়োজনীয়।


রক্তে পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে বিভিন্ন ধরনের মাথাব্যথা, বুক ধড়পড় এবং অন্যান্য অনেক প্রকারের জটিল সমস্যা হয়। দিনে কতখানি পটাশিয়াম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় এটা সবারই জানা প্রয়োজন।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীর ভাল রাখতে দিনে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার মিলিগ্রাম পটাশিয়ামের প্রয়োজন। খাবার কিংবা সাপ্লিমেন্ট ওষুধ খেয়ে শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা সাপ্লিমেন্টের চেয়ে পটাশিয়ামসৃদ্ধ খাবার খাওয়াটাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। 


এক কাপ সাদা শিমের বিচিতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পটাশিয়াম এবং ৬৭৩ ক্যালরি থাকে। এটা প্রতিদিনের চাহিদার প্রায় ১০৪ ভাগ পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে।


এ কাপ বরইতে ১ হাজার ২৭৪ মিলিগ্রাম পাটাশিয়াম এবং ৪১৮ ক্যালরি থাকে। যা শরীরের প্রতিদিনের পটাশিয়ামের ঘাটতির শতকরা ৩৬ ভাগ পুরণ করে। এছাড়া ভিটামিন এ থাকায় বরই দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে এবং চোখের নানা রোগ সারাতে সাহায্য করে।


এক কাপ পালং শাকে ১৬৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম এবং শতকরা ৭ ভাগ ক্যালরি থাকে। পালং শাক আয়রনেরও দারুণ উৎস। এটি চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখে এবং রক্তশূন্যতা  পূরণে সাহায্য করে। 


কলাতে ৪৮৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম এবং ১২১ ক্যালরি থাকে। এটি প্রাণশক্তি বাড়াতেও দারুন কাজ করে। এতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি বাড়ায়। 


মিষ্টি আলুও পটাশিয়ামের দারুন উৎস। এতে ৪৪৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ও ১১৪ ক্যালরি  থাকে। গাজরের রসে ৬০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ও ৪৬ ক্যালরি থাকে। শরীরের পটামিয়ামের ঘাটতি পূরণে নিয়মিত গাজর খেতে পারেন। এছাড়া ডাবের পানি, দই, বাদাম এগুলোও শরীরে পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে সহাযতা করে। নিয়মিত পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খেলে হার্ট ভাল থাকবে, মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করবে। এছাড়া এ ধরনের খাবার হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।



Friday, August 20, 2021

বানী ডিয়ায এর লেখা কবিতা " স্মৃতির পাতায় খন্ড খন্ড চিত্র "


 " স্মৃতির পাতায় খন্ড খন্ড চিত্র "

  বানী ডিয়ায 



ছোট্ট যে শিশুটি জন্মেছিলো ছোট্ট সেই গ্রামে

আছো তুমি স্মৃতির পাতায় খন্ড খন্ড চিত্রে

  সেতো আর কেউ নয় স্পস্টভাষী ন্যায়পরায়ণ, 

ব্যক্তিত্বে মহান...........

মাতৃভক্ত, অত্যন্ত দয়ালু শেখ মুজিবর রহমান ।


গোপালগঞ্জের সেই ছোট্ট কিশোর................

অক্লান্তকর্মী, প্রতিবাদী, দুর্জয় সাহসের বহমান

আর কেউ নয় নির্ভিক, রাজনৈতিক অংকুর...

মহাপুরুষ শেখ মুজিবর রহমান...................।



বিরুদ্ধবাদীদের চক্রে পড়ে যখন অাঠারোতে

যেতে হলো জেলে জীবনে প্রথম...........

রাজনৈতিক চেতনা সহসা হলো জাগ্রত......

ব্যাঘ্র শিশুর মতো ফুসে উঠেছিলো..........

সেতো আর কেউ নয়.... সোচ্চার কৈশোরের

সেই সতীর্থ বন্ধু... শেখ মুজিবর রহমান......।


কিশোর বয়সেই দিয়েছিল দোলা মনের কোণে

পরাধীনতার নাগপাশ ছিঁড়ে স্বদেশকে করবো জয়

বেজেছিলো সুর করবে ইংরেজ শাসনের অবসান

সেতো আর কেউ নয়... বর্ষীয়াণ বিপ্লবী সেনা

বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান...................।


রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই......বাংলা চাই ধ্বনিত হতেই

মায়ের ভাষাকে কেড়ে নিতে চাইলো যে শাসক

প্রতিবাদী কন্ঠে মুহুর্মুহু ধ্বনিত হলো........

রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই....... বাংলা চাই........

কৃষক -শ্রমিক -মজুরদের সক্রিয় বঙ্গ বন্ধু

পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর শোষণ নীতির বিরুদ্ধে 

ধরলো অস্ত্র, লাঠি সোঠা, কন্ঠে প্রতিবাদের বজ্রসুর

সেতো আর কেউ নয় আমাদেরই বিপ্লবীনেতা

বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান.............।


ভাষার দাবীতে রঞ্জিত হয়েছিলো ঢাকার রাজপথ

বায়ান্নের বাঙ্গালী...... আর রইলোনা বসে ঘরে

ফিরিয়ে দিতে হবে মা-কে তার ভাষা, দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে

তরুণ -তাজা সংগ্রামী ছাত্র-ছাত্রী-জনতা..........

কৃষক- শ্রমিক, শিল্পী -সাহিত্যিক -বুদ্ধিজীবি.........

দুর্জয়  সংকল্প নিয়ে ত্রিশলক্ষ বাঙ্গালীর

রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে নিয়ে এলো বিজয়ীবেশে

আমাদেরই প্রাণপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবর রহমান ।


স্বাধীন বাংলার সুখ বুকে নিয়ে মহাউল্লাসে

ফিরে এলেন মায়ের বুকে দৃপ্ত কন্ঠে.......

জনসমুদ্রের ভীড় ঠেলে মুজিব রমনার সেই

ঐতিহাসিক বিশাল ময়দানে................

দাঁড়ালেন অশ্রু ভারাক্রান্ত কন্ঠে জানালে শ্রদ্ধা,

জানালেন শ্রদ্ধা অমর শহীদের তরে বারবার

সেতো আর কেউ নয় আমাদের রাস্ট্র নায়ক

বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ......।


হে প্রাণপ্রিয় ভাষা-সৈনিক,  রাস্ট্র নায়ক

তোমাকেই প্রাণ দিতে হলো বৃষ্টি ভেজা  

সেই শ্রাবণের শেষদিনে............

লুটিয়ে পড়তে হলো খুনীদের দাবানলের

গুলিতে, সিঁড়িতেই নির্মমভাবে হত্যা চালিয়ে

পরিবারের সদস্যদের করে দিলো নিঃশেষ।

১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ সাল, করি শ্রদ্ধাভরে  স্মরন

রবে তুমি আমাদেরই হৃদয়ে হয়ে চিরদিন অম্লান 

 সেতো আর কেউ নয়, বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।

  

<<<<<<<<<<<<<<< # >>>>>>>>>>>>>>>


   ( প্রাণপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীকে স্মরন করে লেখা) 


   ১০/৮/২০১৫ ইং

Thursday, August 19, 2021

ফারহানা হোসেনের "অনুভূতি"

 


অনুভূতি 

ফারহানা হোসেন 

(“ ফারহা ডায়রী “ থেকে কিছু অংশ) 

————————————


অনুভূতিগুলো ভোতা হয়ে গেছে। খুব সকালে ডায়রী লিখি, ছোটবেলার অভ্যাস। আজ মনে হলো অবাক হবার পরিধি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে আমার।

যেমন বর্ষার মেঘলা আকাশে টলটলা বিশাল চাঁদ বা কালপুরুষ দেখলেও অবাক হইনা আর। অবাক হই না যখন দেখি কেউ অলিখিত পাপগুলো করে যাচ্ছে কিংবা কোন মহিলা এক স্বামী থাকা কালিন আবার বিয়ে করছে, আমি একটুও অবাক হই না। কারন আমার মনে হয় এমনই তো হবার কথা।

যখন শুনি এক সময় কিছু বাবা-মা ধর্ম নিয়ে খুব বেশি বাড়াবাড়ি করেছে তাদের ছেলেমেয়ারা বিদেশী বিয়ে করেছে; আমি একটুও চমকাই না। কারন এমনই তো হবার কথা। শুধু করুণা হয় বাবা মা গুলোর জন্য। সত্যিতো খুব কস্টের।

যখন বুঝি খুব কাছের মানুষগুলো ষড়যন্ত্র করছে আমাকে নিয়ে আমি একটুও বিচলিত হই না। কারন বিচলিত হবার বা কস্ট পাবার কিছু নেই। মানুষতো আমরা, এটা করতেই পারে তারা। 

কোন ছোট বাচ্চা রেপ হলে বা কোন ছোট ছেলে এবিইউস হলে অবাক হই না এখন আর। কারন এমনই তো হবার কথা। আজকাল শুধু বাবা মা'দের একটু সাবধান হতে হবে। আর বাচ্চাগুলোর জন্য ভীষণ কষ্ট হয় আমার। কারন তারা বুঝে গেলো পৃথিবী কতো নোংরা জায়গা।


লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে প্রতিদিন। কেউ না কেউ পরিচিত। মানুষ নাই হয়ে যাচ্ছে; একটুও অবাক হই না। কারন এটাই ভাগ্য আল্লাহ লিখে রেখেছেন। ভাগ্যের উপর খবরদারী করার সাধ্য কার আমাদের! তবুও কষ্ট হয় মানুষগুলোর জন্য। আর দেখবো না কোনদিন। কিন্তু অবাক হবার পালা শেষ। কারন এতো মৃত্যু প্রতিদিন অনুভূতি শুন্য করে দিয়েছে। শুধু কষ্টগুলো গুমরে উঠে দু চারদিন খেতে পারিনা। একেই মনে হয় ডিপ্রেশন বলে। কষ্ট পাই তারপরও অবাক হইনা এই তো জীবন। 

কেউ কিছু সারপ্রাইজ বা গিফট দিলে শুধু বলি ওয়াও, একটুও অনুভূতি কাজ করে না। মনে হয় এটাই তো হবার কথা। আমি জানতাম আমাকে সারপ্রাইজ দিবে। 

এই যে দিনে দিনে অবাক হবার পালা আর অনুভূতি গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে-- আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখি আর নিজে নিজে বলি নিজেকে, 'হে সৃস্টিকর্তা এমন কিছু ম্যাজিক করে দাও আমার জন্য যা দেখে আমি বিস্মিত জ্ঞানশুন্য হই'।

আমি সৃষ্টিকর্তাকে বলি, 'যা আমার তা আমার জন্যই রাখো। আমি আবার অনুভূতি ফিরে পেতে চাই এই পৃথিবীর বুকে...'

যদি কোন অপরিচিত মানুষ অধিকার নিয়ে বলে-- তুমি বাইরে যেও না অবস্হা 

খারাপ।

আমি অবাক হবো আবারও কারন কেউ তো স্বার্থ ছাড়া ফিলিংস দেখায় না আজকাল। আমি  সৃস্টিকর্তাকে বলি আমার জন্য এমন কিছু আশ্চর্য করো যাতে আমার মনে ছোট একটা পাখির গান শুনলেও অনুভূতি জাগ্রত হয়। একটা ঘাস ফড়িং উড়তে দেখলেও আমি যেন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি।

অচেনা কেউ মারা গেলেও চিৎকার করে কাঁদি। কেউ ষড়যন্ত্র করলে যেন ভিষন কষ্ট পাই।

আমি চাই আবার আমার অনুভূতিগুলো ফিরে আসুক। আমি চেয়ে চেয়ে অবাক হবো। পৃথিবীর সব কষ্ট, সৌন্দর্যগুলো মনে গেঁথে।

Wednesday, August 18, 2021

শিমুল ভূঁইয়ার লেখা কবিতা "চাহিদার শর্তে সাজে নর্তক"


চাহিদার শর্তে সাজে নর্তক

শিমুল ভূঁইয়া
তারিখঃ-০৫/০৮/২০২১


নিজেকে বিলীন হতে দেখলে এখন আর কষ্ট হয়না?
কারণ একটিই তো জীবন!
জীবন শুধু খাই,খাই
আর এই খাই,খাই মানুষ গুলোর কাছে

অর্থই শুধু মূখ্য? হোক তা বর্জ্য!
এরা অর্থ দিয়েই হতে চায় অগ্রজ
চাহিদার শর্তে সাজে নর্তক
কলুষিত ভরা তাঁদের মস্তক।

সহজ লভ্য এই জীবনে
তাই সহজ লভ্য মৃত্য চাই
অনাগত ভবিষ্যৎ বলতে কিছু নেই
তা শুধু মাটির পুতুলের ভ্রান্ত ধারণা।।

আমি অমানুষ হতে চাই না
আমি মাটির মানুষ হতে চাই
আমি বর্জ্য হতে চাই না
আমি হতে চাই এক টুকরো শুদ্ধ মাটি।




ত্বক ভালো রাখতে চাইলে মোটেও খাবেন না যে খাবারগুলো

 

ত্বক ভালো রাখতে চাইলে মোটেও খাবেন না যে খাবারগুলো


এড. মোঃ সোহরাব হোসেন ভূঁঞা(মিঠু)
আইনজীবী, জজকোর্ট ঢাকা/কুমিল্লা, বাংলাদেশ।

সুস্থ ত্বক সৌন্দর্যের প্রতীক। ত্বকের রঙ যেমনই হোক, ত্বক যদি ভালো থাকে তাকে দেখতে এমনিতেই ভালো লাগে। তাই ত্বকের রঙ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে ত্বক কীভাবে ভালো রাখা যায় তাই ভাবা উচিৎ। সে কারণেই ত্বকের যত্নে আমরা সব চাইতে বেশি কাজ করে থাকি। সঠিকভাবে ত্বক পরিষ্কার রাখা, ত্বকের নানা সমস্যা থেকে ত্বককে মুক্ত রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন অনেকেই। কিন্তু আপনি জানেন কি, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন কিছু খাবার রয়েছে যা আপনার সকল চেষ্টা বৃথা করে দিচ্ছে? সুস্থ সুন্দর ত্বক পেতে চাইলে এই ধরণের খাবার থেকে যতোটা সম্ভব দূরে থাকাই শ্রেয়। আজ চলুন তাহলে চিনে নিন ত্বকের জন্য ক্ষতিকর সেই খাবারগুলোকে।

অতিরিক্ত লবণ
অনেকেই খাবারে লবণ বেশি খান। আবার অনেকে খাবারের সাথে প্লেটে আলাদা করে খানিকটা লবণ নিয়ে নেন। এটি দেহের পাশাপাশি ত্বকের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর একটি কাজ। অতিরিক্ত লবণের সোডিয়াম দেহে বাড়তি লিক্যুইড তৈরি করে যা ত্বক ঝুলে পরার জন্য দায়ী। এছাড়াও এই বাড়তি লবণ ত্বকের নিচে এসে জমা হয়ে ত্বকের টিস্যু নষ্ট করে ফেলে। তাই অতিরিক্ত লবন আছে এমন খাবার যেমন, পাঁপড়, আচার, চিপস, টিনজাত খাবার খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিন।

যে খাবারগুলো দেহকে পানিশূন্য করে
দেহে পানিশূন্যতা হলে ত্বকের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে, ত্বকে বলিরেখা পড়ে যায়। কফি, চিনি সমৃদ্ধ খাবার, ফ্রাইড খাবার, ফাস্ট ফুড ধরনের খাবার ইত্যাদি খেলে দেহে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হয়। তাই এই জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকাই ভালো।

ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার
ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার অতিরিক্ত খাওয়া ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ক্যাফেইন দেহে কারটিসোল উৎপন্ন করে যা ত্বকের দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী। এবং ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার দেহকে পানিশূন্য করে ফেলে ত্বকে বয়সের ছাপ তথা বলিরেখা তৈরি করে। তাই ত্বকের সুস্থতা চাইলে খুব বেশি ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার খাবেন না।

অ্যালকোহল
অ্যালকোহল এবং অ্যালকোহল সমৃদ্ধ খাবারের কারণে ভ্যাসোডিলাটেশন ঘটে সোরিয়াসিস তীব্র পর্যায়ে নিয়ে যায়। এছাড়াও অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানের ফলে দেহে অ্যান্টি-ডিউরেটিক হরমোনের নিঃসরণ করে যা দেহকে ডিহাইড্রেট করে ফেলে। এতে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

উচ্চমাত্রার গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ খাবার
যে কোনো ধরণের বেকড খাবার ও টিনজাত প্রসেসড খাবারে থাকে এই গ্লাইসেমিক উপাদান যা রক্তের সুগারের মাত্রার বিপুল তারতম্যের জন্য দায়ী। এতে করে অনেক বেশি ইনসুলিন ও আন্ড্রোজেনের নিঃসরণ ঘটে যা ত্বকের নিচে মেদ জমা, মৃত কোষ উৎপাদন এবং ত্বকের ব্রণের সমস্যা হতে সহায়তা করে।

অতিরিক্ত চিনি সমৃদ্ধ খাবার
চিনি সমৃদ্ধ খাবার অতিরিক্ত খাওয়া হলে তা ত্বকের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে থাকে। রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে এটি ত্বকের নিচে রক্ত সঞ্চালনে বাঁধা দেয়। এতে ত্বক নিষ্প্রাণ হয়ে যায়, ত্বকের ইলাস্টিসিটি নষ্ট হয়ে যায় এবং ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দেয়। শুধুমাত্র চিনিই নয়, অতিরিক্ত গুড় এবং মধু খাওয়াও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

বোতলজাত পানীয়
বোতলজাত যেসকল পানীয় আমরা সফটড্রিংকস হিসেবে পান করে থাকি তা আমাদের ত্বকের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হিসেবে ধরা যায়। ত্বক ঝুলে পড়া, ত্বকে বয়সের ছাপ ফেলা ইত্যাদির মূল কারণ খুব বেশি সফটড্রিংকস পান করা। এগুলো থেকে দূরে থাকুন।

লাল মাংস
লাল মাংস খাওয়া দেহের জন্য যতোটা ক্ষতিকর তেমনই ক্ষতিকর ত্বকের জন্যেও। লাল মাংস খেলে দেহে ইনফ্লেমেটরি রিঅ্যাকশান বেড়ে যায়। এছাড়াও লাল মাংসের স্যাচ্যুরেটেড ফ্যাট রেডিকেলে সৃষ্টি করে। তাই লাল মাংস থেকে দূরে থাকুন।

তেলে ভাজা খাবার এবং হাইড্রোজেনেটেড ফ্যাট
খুব বেশি তেলে ভাজা খাবার এবং হাইড্রোজেনেটেড ফ্যাট যেমন ঘি, চর্বি ইত্যাদি ফ্যাটি এসিডের অক্সিডাইজেশন ঘটায় এবং দেহের ভিটামিন ই ও ওমেগা৩ ফ্যাটি এসিড জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নষ্ট করে দেয়। ফলে ত্বকের ইলাস্টিসিটি নষ্ট হয়ে যাওয়া, ত্বকের টিস্যু শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই খুব বেশি তেলে ভাজা খাবার থেকে দূরে থাকুন।

আর্টিফিশিয়াল চিনি, রঙ এবং ফ্লেভার
ক্যালরি কম খাওয়ার আশায় অনেকেই আর্টিফিশিয়াল চিনি খেয়ে থাকেন যা ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এবং এর পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল চিনি, রঙ এবং ফ্লেভারে যে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় তা ত্বকের টিস্যুর মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই এই জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকুন ত্বকের সুরক্ষায়।

Tuesday, August 17, 2021

সোহেল বিশ্বাসের লেখা কবিতা "মানুষ কি বাঁধা যায় প্রেমে?"

 


মানুষ কি বাঁধা যায় প্রেমে?

-সোহেল বিশ্বাস


মানুষ কি বাঁধা যায় প্রেমে?

অর্থের অভিলাসে যদি যায়

ভালোবাসা থেমে!

যদি থেমে যায় হুড তোলা রিক্সাটা

ঝুমঝুম বৃষ্টির নাচনে।

যদি থেমে যায় নরোম যুগল হাত

উদোম বাতাসী মন্থনে।


মানুষ কি বাঁধা যায় প্রেমে? 

মানুষের এক জোড়া নিলাজ চোখ,

চোখের ছিঁড়ে যাওয়া পর্দায় উকি দেয়

উদ্ধত বেহায়া বোধ।

মানুষের বেহায়া চঞ্চু ভ্রমণ করে

সহস্র চঞ্চুর বিবস্র শহর।

মানুষেরেই ভালোবাসি, মানুষেই ক্রোধ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জ্যোতির লেখা কবিতা "স্বাধীন দেশে"

 


স্বাধীন দেশে

জান্নাতুল ফেরদৌস জ্যোতি


দেশের জন্য যুদ্ধ করে 
দিয়েছি মোদের প্রাণ। 
সোনার দেশে দাড়িয়ে তাই আজ
গাইছি স্বাধীনতার গান। 

স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষ
মোদের নেইকো ভয়। 
জীবন দিয়ে বাংলাকে মোরা 
করেছি যে জয়। 

বঙ্গবন্ধুর মহান ত্যাগে
পেলাম স্বাধীনতা। 
বঙ্গবন্ধু শব্দটি চিরদিন রবে
 বাঙ্গালীর হৃদয়ে গাঁথা। 

অজস্র বীর গিয়েছিলো সেদিন
স্বাধীন করতে দেশ,
মায়ের বুকে আজও ফেরেনি,
যাদের শ্রেষ্ঠত্বে স্বাধীন দেশ।



Sunday, August 15, 2021

বেগুন চাট রন্ধন প্রণালী ঃ-কাওসার পারভীন




বেগুন চাট

কাওসার পারভীন


বড় বেগুন ১ টা

তেঁতুল ১০০ গ্রাম।

হলুদ গুরা-১/৪ চা চামচ

মরিচগুরা ১ চা চামচ (শুকনা মরিচ গরম তাওয়ায় টেলে করে গুরা করতে হবে।)

জিরা ভাজা গুরা-১ চা চামচ। 

বিট লবন-১ চা চামচ 

গোল মরিচ গুরা ১ চা চামচ

পিয়াজ বাটা ১/২ টেবিল চামচ। 

রসুন বাটা - ১ চা চামচ।

ধনে পাতা কাঁচামরিচ একসাথে বাটা ১ টেবিল চামচ। 

চিনি ২ চা চামচ

লবন পরিমান মত 

তেল ।

টমেটো ১ টা টুকরা করা

আস্ত কাচামরিচ। 


প্রনালী:-


বেগুন বোঁটা রেখে একই ভাবে সমান করে ফুলের মত করে কেটে হলুদ মরিচ লবন পিয়াজ রসুন বাটা কাচামরিচ বাটা মেখে রেখে দিন ১/২ ঘণ্টা।


তারপর মাঝারি আঁচে ডুবো তেলে ভাজুন। খুব সাবধানে ভাজতে হবে যেন উপরের ডাঁটা ভেঙ্গে না যায়।বেগুনও যেন ভেঙে না যায়। বাদামি হলে নামিয়ে নিন। 


তেঁতুল আগেই পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন। বিচি ফেলে তার সাথে বিট লবন,মরিচ গুরা ,চিনি মিক্সড করুন।এবার ভাজা বেগুন এর উপরে ছড়িয়ে ঢেলে দিন।


টমেটো অল্প তেলে ২ মিনিট মত কশিয়ে নিবেন। বেগুন এর ফাঁকে ফাঁকে টমেটো আর আস্ত কাঁচামরিচ দিয়ে সাজিয়ে নিন। কিংবা নিজের পছন্দ মত সাজিয়ে পোলাও খিচুড়ি বিরিয়ানির সাথে পরিবেশন করুন মজাদার, মুখরোচক বেগুন চাট।

ইমরান খান রাজের লেখা কবিতা "বঙ্গবন্ধু"

 



বঙ্গবন্ধু 

ইমরান খান রাজ


মুজিব মানে বঙ্গবন্ধু
মহান যুদ্ধের চেতনা,
মুজিব মানে জয়বাংলা
এগিয়ে যাবার প্রেরণা।

মুজিব মানে স্বাধীনতা
আলোকিত বাংলার পথ,
মুজিব মানে বিদ্রোহ সুরে
বাংলা বিজয়ের শপথ।

মুজিব মানে ভরসার বন্ধু
এক বিশ্বনেতার নাম,
মুজিব মানে জাগ্রত বাঙালি
বীর শহীদের রক্তের দাম।

মুজিব মানে বাংলার হাসি
লাল-সবুজের দেশ,
মুজিব মানে চিরচেনা
অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশ।


--

 ইমরান খান রাজ

শিক্ষার্থী, শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ।
স্টাফ রিপোর্টার, ডেইলি নয়া আলো ডট কম।
সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা৷

সাতভিটা, নারিশা