Showing posts with label Poem. Show all posts
Showing posts with label Poem. Show all posts

Thursday, December 14, 2023

জানি আর ফিরবে না / ফারহানা হৃদয়িনী

 



★★জানি আর ফিরবে না★★

        ফারহানা হৃদয়িনী


এই বাংলার মাটিতে, একদিন এসেছিল,

মুক্তিকামী মানুষের সংঘর্ষের দিন,

বাংলার রাজপথ, মাঠ,ঘাট,বিল,

হয়েছিল বাঙালীর রক্তে রঙীন।

জানি আর ফিরবেনা তারা,

সোনারোদ ঝরা বাংলার নদী তীরে।

স্বাধীনতার বীজ বুনেছিল যারা,

বন্দীনি বাংলার কোমল বুকের পরে।

মুখে বিজয়ের গান, প্রাণে আহ্বান,

দেশকে ভালোবেসে দিয়ে গেছে প্রাণ।

এই বাংলার নদী-নালা, খাল -বিল,

প্রশান্তিতে উড়িছে দেখ কত গাঙচিল,

এতো মুক্তিকামী মানুষের বলীদান।

আমরা বাঙালী আমরা ভুলবো না,

কখনো তোমাদের রক্তের ঋন।

লাখো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে,

পেয়েছি আজ আমরা বিজয়ের দিন।



Saturday, December 9, 2023

তূয়া নূরের কবিতা /কৃষক

 


কৃষক

তূয়া নূর

তুমি যখন কৃষিজীবী মানুষের কথা বলো

তাদের দুঃখ দৈন্যের কথা বলতে বলতে ক্ষুধাতুর মানুষের সামনে 

অথবা টিভির পর্দায় – ভেঙে পড়ো কপট কান্নায়

তখন আমার ঘৃণা হয়।


আমি এমন কৃষকের কথা জানি যার বুকে 

তপ্ত লাভার উৎস আছে 

সময়ে সময়ে কেঁপে ওঠে বিকট শব্দে ।

তার ঋজুময় বাহুতে খাঁজ খাঁজ মাংসপেশির শৈল্পিক কারুকাজ। 

তামাটে বর্ণের চামড়ার মায়াময় ভাঁজ। 

ভাঁজে ভাঁজে জমা হয়ে আছে ত্রিকালদর্শীর পলল প্রজ্ঞা

সে তার তন্তুময় পেশীতে ধারণ করে শক্তির আধান,

যেনো সামুদ্রিক বন্দরের আধুনিক প্রযুক্তির জেটি। 

বয়োবৃদ্ধ বৃক্ষের মতো দীর্ঘ তার বয়স 

তার চোখে ভাসে অশান্ত নীলিমার ঢেউ 

সোজা হয়ে দাঁড়ালে তার ন্যুব্জ দেহ,

বনানীর মুখে ফোটে স্পর্ধিত হাসি।

ভারী দু'টো পায়ের ছাপ লেপটে থাকে নরম শিলায়

কাঁপায় শুভ্র প্রান্তর, দীঘির নিটোল জল 

অথচ তার মুখটা কতো বেশী সৌম্য,কতবেশী যৌবনমন্ত 

সকালের শিশির ঝরা ঘাসের মতো সতেজ।


বিশাল পাতার মতো বিস্তৃত তার ভারী করতল,

কতো কিছু ধরে রাখে তার শক্তিমন্ত আঙ্গুল 

হাতের তালুতে রেখা গুলো শুকনো নদীর মতো ফুটে আছে যেনো এক পৃথিবীর ম্যাপ। 

পেশল করতল দিয়ে শক্ত করে ধরে রাখে লাঙলের হাতল। 

চকচকে ধাতব ফলা ফড়ফড় করে বিদীর্ণ করে পাথরের বুক,

চৈত্র খরায় তেজোবান হয় তার দ্রোহ 

শরীরের নোনা স্বেদবিন্দুর উষ্ণতা আর কালো মেঘের ভালোবাসা পেয়ে 

সবুজে ভরে যায় আদিগন্ত ফসলের মাঠ 

কেঁপে ওঠে সোনালী সুখ মনোরম রেখায় তার তামাটে ঠোঁটে। 

তার বুকে জমা হয় মোহময় ভালোবাসা 

চোখের তারায় জমে ক্রোধের পলি।


কৃষকের প্রার্থনায় নত হয়ে রাতভর জ্যোৎস্না ঝরায় রেশমি

আলো 

ঘরে ফেরা পাখী ডানা ঝাপটায় 

ঠোঁটে ঠোঁট রেখে বাচ্চার কাছে সে জমা করে রাখে ভালোবাসার অবিনাশী বীজ। 

গাভীর দুধের বোটায় জমা হয় সুখ ।


তার হাতে চিক্ মিক্ করে ধারালো পাথর—সে এক সোনালী মাধব যুবক


ঘন কুয়াশায় হেঁটে যায় সূর্যের কাছে 

ভারী দু'টো পা রেখে যায় ছাপ পাললিক শিলায়। 


আমি এমন কৃষকের কথা জানি

যে শক্ত কব্জিতে ধরে রাখে শানিত পাথর 

সে যেন আদিম চিত্রকলার পেশল পুরুষ—

যারা মাটিতে প্রথম রোপণ করেছিল সোনামুখী  শস্যের বীজ। 


রক্তবর্ণ শিলাখন্ডে লিখেছিলো জীবনের নাম

দেয়ালের গায়ে এঁকেছিলো সাহসের ছবি।

শিলার স্তর জমে জমে যেমন পৃথিবীর বুক অজানা রহস্যে ভরে ওঠে সহসা

এ বুকে তেমন বিদ্রোহ জমতে জমতে 

বিকট শব্দে চৌচির হয়ে যায় কোন এক সময় 

বিষাক্ত বাতাস নীল করে দেয় মোমের শরীর।


শিল্প-সত্ত্বায় কারুময় ভঙ্গিতে 

সে তার কাঠের লাঙলের নিরেট ধাতব ফলা 

আমূল বিদ্ধ করে উর্বরা জমিনে 

ঠোঁটে কাঁপে ভালোবাসার গান 

প্রাকৃতিক ভালোবাসায় গাঢ় হয়ে ওঠে তার উত্তরপুরুষ—

ঠিক অবিকল অবয়ব তার, একই রকম চোখ

সমান অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে চোয়ালে 

তেমনি দীর্ঘ গ্রীবা, পেশল বাহু, দৃপ্ত করতল—

রক্ত নদীতে একই স্রোতের জোয়ার ভাটার খেলা।


তুমি যখন কৃষিজীবী মানুষের কথা বলো তাদের 

দুঃখ-দৈন্যের কথা বল বলতে মেকী শব্দে কেঁদে ওঠো টিভির পর্দায়—

অথবা কোন জনসমাগমে—

তখন তোমার প্রতি আমার ঘৃণা হয় 

ভীষণ ঘৃণা হয়।




Sunday, September 3, 2023

অশ্রুজলের নিনাদ / ফারহানা হৃদয়িনী

 


অশ্রুজলের নিনাদ

ফারহানা হৃদয়িনী


কেউ খোঁজেনি বুকের ভেতর বরফ গলা নদী

কেউ বলেনি নীরব ব্যথায় বইছে নিরবধি 

কেউ শোনেনি পাঁড়ভাঙা সেই অশ্রজলের নিনাদ

কেউ দেখেনি নক্ষত্রের ঐ খসে পড়ার রাত।

এই যে আমার সত্তা জুড়ে তোমার উপস্থিতি

এই যে আমার হৃদয় জুড়ে তোমার অনুভূতি 

এই যে আমার না পাওয়াতেও তুমি শুধু তুমি

এই যে আমার সকল কাজে তুমি পূণ্য ভূমি।

তোমার অপেক্ষায় আজো বসে থাকি সবুজ তৃণের মাঠে,

তোমার অপেক্ষায় আজো বসে থাকি পুকুরের ঘাটে,

তোমাকে শোনাবো বলে কত গান বাঁধি, 

কত মায়ায় জড়াবো বলে দুচোখে কাজল আঁকি।

আসি আসি বলেও কেন তুমি এলেনা?

ভালোবাসি বলেও কেন ভালোবাসলে না?

আমার দুচোখ কাঁপে মৃত্যুহীন এক ক্ষুধায়,

আমার তৃষ্ণা জুড়াবে কবে তোমার প্রেম সুধায়!

আমি খুঁজি তোমার প্রতিচ্ছবি রূপকথাতে 

আমি খুঁজি তোমার পদধ্বনি পিচঢালা ওই পথে।

নিভৃত অন্ধকারে নিষিদ্ধ হয়েছে যে প্রাণ,

তার বেদনার হিসেব রাখেনি কোন মহান।

নিশীথের দেবালয়ে জাগে যে নিদ্রাহীন পাখি, 

অতৃপ্ত নোনাজলে ভেজা ভেজা দুটি আঁখি।

বুকে জমাট কষ্ট দহণে ম্লান তার মুখ-খানি,

তবু খুঁজে ফিরি মধুময় সেই জীবনের হাতছানি।

আমার দুচোখে বেয়ে এখনো ঝরে জল,

কত কিছু হারিয়ে ফেলার সে গরল, 

তোমার স্মৃতিরা আজো ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় এই মন, 

জানি মনের গভীরে তুমিই  যে ছিলে আপন।

এই তোমাকে পাই তবুও সেই তোমাকে পাই না,

সেই তোমাকে চাই তবুও এই তোমাকে চাই না।

তোমার তুমিকে হারিয়ে ফেলার সেই তব বেদনা,

চোখের তাঁরায় জমে জল শুধু তুমিই দেখতে পাওনা।


বল কেন তুমি এলে না!

কেন এলে না?

Monday, June 13, 2022

কবি লিটন আব্বাসের লেখা কবিতা *শংসাবচন*

 




শংসাবচন

✒️✒️লিটন আব্বাস


এবার আষাঢ়?

আগুর!


বায়নার আগাম উসুলে

সমানে ভিজিয়ে যাবে ধারাপাত


এতোকিছুর পরও হারানো গৌরব

সমকালীন রৌরবে---

শোনা যাবে না হয়তো 

ব্যাঙের 'ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর'!


বিঁচি কলাগাছ, নারিকেল গাছে ফলন কম

তাই বরবাদের আশংকায় নকশিবালিশে দরপতনের গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে গেলো

কোলাব্যাঙ! 


ঘুম থেকে উঠে দেখে 

জানলায় লাগানো দামী পর্দাগুলো

বৃষ্টির ছিটেফোটায়

ফারদা ফাই হয়ে গেছে।


ঘরে দাওয়ায় লুকিয়ে থাকা কুনো

অতিমারীর কোপে গিফট পাওয়া 

সাতষট্টি ইঞ্চি এলইডি স্মার্টটিভিতে

ইউরোর জমালো ফুটবলরণন দেখে


অগাধ অবসর! কানামেঘির বায়োস্কোপে

খুব একটা মন দাগে না সোনা ব্যাঙের


সকল ব্যাঙেরা ঐক্যবদ্ধ

হাজার মিলিমিটার বৃষ্টিতেও

তাদের আর ডাকতে কিম্বা

ঘ্যানঘ্যান আওয়াজ তুলতে 

ভীষণ ইস্যু হয়ে গেছে;

তাদেরও দাবী আছে,

তাহারা নাকি উপেক্ষিত, 

ইশতেহারে ক্লিয়ার করে তাদের অস্তিত্বের অবস্থান পাকাপোক্ত করা নেই!

তাই,

যতোই নান্দীপাঠ করো না ক্যান---

'ঘ্যাঙর-ঘ্যাঙর' ঐতিহ্যিক এই শংসাবচন

আর শুনতে পাবে না কালেভদ্রেও---কারণ,

জুন আসা মানেই খুন আসে

প্লাবনে মন, বন, উনন, স্বপ্ন সব ভাসে।



২০২১/

Friday, June 10, 2022

কবি সুলতান নীলের কবিতা বৈশিষ্ট্যের মুখে এ্যালার্জি ঝোলানো

 বৈশিষ্ট্যের মুখে এ্যালার্জি ঝোলানো




প্রেমিক একটি শব্দসন্নিবেশ, এতে উহ্যভাবে পাগলামিসহ আরও বেশ কয়েকটি খোট্টামোট্টা শব্দের সন্নিবেশ থাকে। 

তবে প্রেমিক শব্দসন্নিবেশ থেকে উহ্যভাবে থাকা পাগলামি অংশটিকে সরিয়ে নিলে যা অবশিষ্ট থাকে তা হলো স্বামী,

স্বামী একটি চরম পুরুষতান্ত্রিক শব্দ যা কিচেনে তোমার নাকের ডগায় জমে থাকা হিরের মত মূল্যবান ঘামকে অবলীলায় অস্বীকার করবে এবং স্বামীসেবা নামক সামাজিকতা ও ধর্মান্ধতার বাটখারা দিয়ে মাপবে। 


কবিতাকে যদি আমাদের মত বাহ্যিকরুপে রুপায়িত করা যেত তাহলে তোমার নাম হতো, উত্তরাধুনিক কবিতা।

কবির কলমে তুমি যখন উত্তরাধুনিক কবিতা তখন ধর্মান্ধতা তোমার কাছে এ্যালার্জি,  এটা তোমার স্বাভাবিকতা নয়,  মনে রেখো এটা তোমার বৈশিষ্ট্য। 


অথচ বৈশিষ্ট্যের মুখে এ্যালার্জি ঝুলিয়ে কি দারুণ মায়াপ্রবঞ্চনায়, 

তোমার হৃদয়ের প্রবেশপথে ঢাউস সাইনবোর্ডে বড় বড় হরফে লেখা থাকে, 'এটা গরু ও ছাগলের সংরক্ষিত বিচরণক্ষেত্র, পাগল প্রবেশ নিষিদ্ধ '। 


© সুলতান নীল 


২৭ মে, ২০২২ইং 

মিরপুর, ঢাকা।

আহমেদ রাজিবের লেখা কবিতা *তুমি আমার*

তুমি আমার



✒️✒️আহমেদ রাজিব

 এখনও আগের মত ভাবি তোমাকে, 

এখনও স্বপ্ন বুনি আঁধারে বসে।

এখনও রাত জাগি ভোরের অপেক্ষায়-

এখনও চাঁদ সেই জোছনা বিলায়।

এখনও তুমি সেই আগের তুমিটাই-

দূরত্বের বেড়াজালে বন্দী বুক-পিঞ্জিরায়।


এখনও আকাশ বলে তুমি আমার-

এখনও সাগর জলে চোখ নদী ভিজে বারেবার।

এখনও ভাঙা-গড়ার অভিমান ঝরে,

এখনও কষ্ট গুলো পুষে রেখেছি গোপনে।

এখনও মন বলে তুমি আমার-

আসলে বাস্তবতায় গল্পের চিত্রনাট্যের বিরাট রদ-বদল।


এখনও ফাগুন আসে বসন্ত ছুঁয়ে-

এখনও শরৎ নামে ধূসর কাঁশবনে।

এখনও ভিজেও কদম আষাঢ়-শ্রাবণে,

এখনও হৃদয় ফাঁটে চৈত্রের দাবদাহে।

এখনও আকাশ কাঁদে,কাঁদো না তুমি

তোমার ঐ চোখের জল এতই কি দামি?

Sunday, June 5, 2022

কবি খন্দকার উল্লাসের লেখা কবিতা নিষিদ্ধ শহর

 

খন্দকার উল্লাস 

নিষিদ্ধ শহর

✒️✒️খন্দকার উল্লাস

গোলক ধাঁধার অন্ধগলির পথগুলোতে,

নিষিদ্ধ স্বপ্নের কেনাবেচা চলে।

ঘৃণ্য জগতের হয় আনাগোনা,

অগোচরে কুকর্মের পসরা সাজায় ভিন্ন জগতের দোকানীরা।

পতিতার শরীর যেখানে উৎকৃষ্ট পণ্য।


অন্ধগলির বাসিন্দারা কি তবে অন্ধকারে এসেছিল ধরণীতে,

তাদের স্বপ্নগুলো কি নিষিদ্ধ ছিল?

সুন্দর মনুষত্ব বহনে তারা হয়তোবা ভূমিষ্ঠ কোন কোমল মৃত্তিকায়।

বৈষম্য তাদের করেছে ভিন্ন,

ক্ষুধা নামক আর্তনাদের জন্য।


---

Tuesday, February 22, 2022

কবি রকিবুল হাসানের লেখা কবিতা "শেকড়ের ছবি"

শেকড়ের ছবি




রকিবুল হাসান

তোমার সুখের প্রত্যেকটি চাবুকের ঘা এসে আমার বুকে লাগে

আমি হাসি;

নরম মাটির মতো পেতে দিই নিজেকে- তোমাকে ভালোবাসি।


কবিতায় অবজ্ঞা ও অবহেলা সযত্নে বাঁধাই করে রাখি

শব্দ খুলে খুলে তোমাকে দেখি;

নির্ঘুম জীবন ক্যানভাসে তোমার ছবিই আঁকি।


তোমার উপেক্ষা কখনো আমাকে করেনি উজান ঢেউ

একটুও জমিন নেই-নি:স্ব আমি;

শুধু বুকটুকু আছে-তার সবটুকু সুবাসিত ঘ্রাণ তুমি। 


ভালোবাসার আদরে দারুণ কৌশলে যতবার দাও 

বিষের পেয়ালা;

গহিন তৃষ্ণায় পান করি আশ্চর্য সমুদ্রসুখ জীবনবেলা।


কতোটা ভালোবাসলে ভালোবাসা হয়-অংকটা জানিনি 

শেকড়টা ধরে রাখি;

শেকড়ই যে বুকে-পিঁঠে শৈল্পিক ছবি অবজ্ঞা ও অপমানের।


মিরপুর, ঢাকা

আট. দুই. বাইশ

Sunday, February 20, 2022

ফারহানা হৃদয়িনী'র লেখা কবিতা বাংলায় ডাকি মা



 *বাংলায় ডাকি মা*



           ফারহানা হৃদয়িনী 


আমি বাংলায় ডাকি মা,

বাংলা মায়ের মধুর ভাষার হয় কি তুলনা?

এই ভাষাকে কাড়তে চেয়েছিল পাকিস্থানী হায়েনা,

ওরা বোঝেনি বাঙালী অন্যায় মানেনা।

অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিতে, বাঙালীর নাই কোন তুলনা।

ঊনিশশো বায়ান্নো সালের একুশের সেই রক্তঝরা দিনে,

প্রকৃতিতে ছিলো ফাগুন, আর কন্ঠে ঝরেছে আগুন।

স্বাধীকারের দাবীতে রাজপথে নেমেছিলো ছাত্র জনতা মিলে,

বাংলাভাষার দাবীতে রাজপথের মিছিলে।

রাষ্ট্র ভাষা, রাষ্ট্র ভাষা; বাংলা চাই, বাংলা চাই,

মুখের ভাষা না পেলে যে, আজ ঘরে ফেরার উপায় নাই।

রফিক, শফিক, জব্বার, বরকত, সালাম,

আরো নাম না জানা কত দেশ প্রেমিকের নাম।

বাংলা ভাষার জন্য যারা দিয়ে গেছে প্রাণ,

তাদের রক্তে অর্জিত বাঙালীর সম্মান।

সারা বিশ্বে বাঙালীর জয়গান,

এতো সেই ভাষা শহীদদের অবদান।

স্মৃতির মিনারে শহীদদের স্মৃতি রবে চির অম্লান,

আমরা বাঙালী  দিয়ে যাব চিরকাল তাদের মান।

Tuesday, December 14, 2021

কবি নূর হেলেনের লেখা কবিতা "বকুল ফুল"




 






"বকুল ফুল"

লেখাঃ নূর হেলেন

মাঝি,

আমার কথা মনে নাই তোমার?

সেই যে মাঘের চান্নিপশর রাইত?

মাথার খোঁপাখান খুইল্যা কইছিলা,

বউরে,

তোরে খোলা চুলে পরীর লাহান দেখায়।

যেন আসমান থাইক্যা অহনি নাইম্যা আইলি।


তয় অহন আমি আর পাট কইরা চুল বান্ধিনা।

চিরুনির দাঁতে ছাত্রা পইড়্যা রইছে।

সুগন্ধি তেল শ্যাষবার কবে মাখছি,

মনে নাই।


তোমার লাহান তো কেউ ডাইক্যা কয় না,

আয়, বকুল, তোর চুলে বিলি কাইট্যা দেই।

লাল ফিতা দিয়া পাঁকায়া দেই মালা বেণি।


পা দুইখান কোলের পরে রাইখ্যা কেউ তো কয়না,

আলতার শিশি শ্যাষ?

কাল হাটের থন ঠিক আইন্যা দিমু।


লোহার ছেকলের কালসিটে দাগ,

আমার আলতার নিশান ধুইয়া দিয়া গ্যাছে।

চিল শকুন আইসা আঁচড় কাঁটছে কোমরে ভাঁজে।


থুতনির সেই ছোট তিল,

যেইখানে ঠোঁট ছোঁয়াইয়া তুমি কইতা,

এইখানে আমার মন রাখছি কইলাম,

তুই সামলায়া রাহিস।


আমি, আমি তারে পারিনাই সামলাইতে।

কালা রক্তের ছোপে ডুইব্বা গ্যাছে তোমার মন।


তোমার বকুল এই উচ্ছিষ্ট শরীরডা লয়া দাঁড়ায়া এহনো।

ঘর নাই, গেরস্থি নাই, পাতে নাই এক নলা ভাত।

পথ চাইয়া থাকতে থাকতে দুই চউক্ষে ছানি পইড়া গেছে।


বয়স মুইছ্যা দিয়া গ্যাছে রূপের বহর!


যুদ্ধ শ্যাষে গবাদি লইয়া,

ঘরছাড়ারাও ঘরে ফিরছে।

নয়া সওদাগরেরা নোঙর ফালাইছে ঘাটে।


খালি আমার অন্তরের আগলখান টানা।

তুমি ছাড়া কাউরে দেইনাই সেই সোনার চাবি।

তুমি তো আর ফিইরা আইলানা মাঝি,

নাও ভীড়াইলানা এই উজানডাঙায়।


কলিজায় লাঙল টাইনা আবাদ করছি এই দ্যাশ,

আঁচল খোয়াইয়া পতাকা জরাইছি গতরে।

ওরা তাই নাম দিছে,

বীরাঙ্গনা!

কওতো কেমুন হইছে নামখান?


তবুও আমার মনের হাউস মেটেনা।

তোমার লাহান কেউ তো ডাকে না কাছে।

কেউ তো কয় না,

আয় বকুল তোর চুল বাইন্ধা দেই।

আয়, বকুল, আলতা দেই রাঙা দুইখান পায়।



Friday, August 20, 2021

বানী ডিয়ায এর লেখা কবিতা " স্মৃতির পাতায় খন্ড খন্ড চিত্র "


 " স্মৃতির পাতায় খন্ড খন্ড চিত্র "

  বানী ডিয়ায 



ছোট্ট যে শিশুটি জন্মেছিলো ছোট্ট সেই গ্রামে

আছো তুমি স্মৃতির পাতায় খন্ড খন্ড চিত্রে

  সেতো আর কেউ নয় স্পস্টভাষী ন্যায়পরায়ণ, 

ব্যক্তিত্বে মহান...........

মাতৃভক্ত, অত্যন্ত দয়ালু শেখ মুজিবর রহমান ।


গোপালগঞ্জের সেই ছোট্ট কিশোর................

অক্লান্তকর্মী, প্রতিবাদী, দুর্জয় সাহসের বহমান

আর কেউ নয় নির্ভিক, রাজনৈতিক অংকুর...

মহাপুরুষ শেখ মুজিবর রহমান...................।



বিরুদ্ধবাদীদের চক্রে পড়ে যখন অাঠারোতে

যেতে হলো জেলে জীবনে প্রথম...........

রাজনৈতিক চেতনা সহসা হলো জাগ্রত......

ব্যাঘ্র শিশুর মতো ফুসে উঠেছিলো..........

সেতো আর কেউ নয়.... সোচ্চার কৈশোরের

সেই সতীর্থ বন্ধু... শেখ মুজিবর রহমান......।


কিশোর বয়সেই দিয়েছিল দোলা মনের কোণে

পরাধীনতার নাগপাশ ছিঁড়ে স্বদেশকে করবো জয়

বেজেছিলো সুর করবে ইংরেজ শাসনের অবসান

সেতো আর কেউ নয়... বর্ষীয়াণ বিপ্লবী সেনা

বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান...................।


রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই......বাংলা চাই ধ্বনিত হতেই

মায়ের ভাষাকে কেড়ে নিতে চাইলো যে শাসক

প্রতিবাদী কন্ঠে মুহুর্মুহু ধ্বনিত হলো........

রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই....... বাংলা চাই........

কৃষক -শ্রমিক -মজুরদের সক্রিয় বঙ্গ বন্ধু

পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর শোষণ নীতির বিরুদ্ধে 

ধরলো অস্ত্র, লাঠি সোঠা, কন্ঠে প্রতিবাদের বজ্রসুর

সেতো আর কেউ নয় আমাদেরই বিপ্লবীনেতা

বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান.............।


ভাষার দাবীতে রঞ্জিত হয়েছিলো ঢাকার রাজপথ

বায়ান্নের বাঙ্গালী...... আর রইলোনা বসে ঘরে

ফিরিয়ে দিতে হবে মা-কে তার ভাষা, দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে

তরুণ -তাজা সংগ্রামী ছাত্র-ছাত্রী-জনতা..........

কৃষক- শ্রমিক, শিল্পী -সাহিত্যিক -বুদ্ধিজীবি.........

দুর্জয়  সংকল্প নিয়ে ত্রিশলক্ষ বাঙ্গালীর

রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে নিয়ে এলো বিজয়ীবেশে

আমাদেরই প্রাণপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবর রহমান ।


স্বাধীন বাংলার সুখ বুকে নিয়ে মহাউল্লাসে

ফিরে এলেন মায়ের বুকে দৃপ্ত কন্ঠে.......

জনসমুদ্রের ভীড় ঠেলে মুজিব রমনার সেই

ঐতিহাসিক বিশাল ময়দানে................

দাঁড়ালেন অশ্রু ভারাক্রান্ত কন্ঠে জানালে শ্রদ্ধা,

জানালেন শ্রদ্ধা অমর শহীদের তরে বারবার

সেতো আর কেউ নয় আমাদের রাস্ট্র নায়ক

বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ......।


হে প্রাণপ্রিয় ভাষা-সৈনিক,  রাস্ট্র নায়ক

তোমাকেই প্রাণ দিতে হলো বৃষ্টি ভেজা  

সেই শ্রাবণের শেষদিনে............

লুটিয়ে পড়তে হলো খুনীদের দাবানলের

গুলিতে, সিঁড়িতেই নির্মমভাবে হত্যা চালিয়ে

পরিবারের সদস্যদের করে দিলো নিঃশেষ।

১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ সাল, করি শ্রদ্ধাভরে  স্মরন

রবে তুমি আমাদেরই হৃদয়ে হয়ে চিরদিন অম্লান 

 সেতো আর কেউ নয়, বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।

  

<<<<<<<<<<<<<<< # >>>>>>>>>>>>>>>


   ( প্রাণপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীকে স্মরন করে লেখা) 


   ১০/৮/২০১৫ ইং

Wednesday, August 18, 2021

শিমুল ভূঁইয়ার লেখা কবিতা "চাহিদার শর্তে সাজে নর্তক"


চাহিদার শর্তে সাজে নর্তক

শিমুল ভূঁইয়া
তারিখঃ-০৫/০৮/২০২১


নিজেকে বিলীন হতে দেখলে এখন আর কষ্ট হয়না?
কারণ একটিই তো জীবন!
জীবন শুধু খাই,খাই
আর এই খাই,খাই মানুষ গুলোর কাছে

অর্থই শুধু মূখ্য? হোক তা বর্জ্য!
এরা অর্থ দিয়েই হতে চায় অগ্রজ
চাহিদার শর্তে সাজে নর্তক
কলুষিত ভরা তাঁদের মস্তক।

সহজ লভ্য এই জীবনে
তাই সহজ লভ্য মৃত্য চাই
অনাগত ভবিষ্যৎ বলতে কিছু নেই
তা শুধু মাটির পুতুলের ভ্রান্ত ধারণা।।

আমি অমানুষ হতে চাই না
আমি মাটির মানুষ হতে চাই
আমি বর্জ্য হতে চাই না
আমি হতে চাই এক টুকরো শুদ্ধ মাটি।




Tuesday, August 17, 2021

সোহেল বিশ্বাসের লেখা কবিতা "মানুষ কি বাঁধা যায় প্রেমে?"

 


মানুষ কি বাঁধা যায় প্রেমে?

-সোহেল বিশ্বাস


মানুষ কি বাঁধা যায় প্রেমে?

অর্থের অভিলাসে যদি যায়

ভালোবাসা থেমে!

যদি থেমে যায় হুড তোলা রিক্সাটা

ঝুমঝুম বৃষ্টির নাচনে।

যদি থেমে যায় নরোম যুগল হাত

উদোম বাতাসী মন্থনে।


মানুষ কি বাঁধা যায় প্রেমে? 

মানুষের এক জোড়া নিলাজ চোখ,

চোখের ছিঁড়ে যাওয়া পর্দায় উকি দেয়

উদ্ধত বেহায়া বোধ।

মানুষের বেহায়া চঞ্চু ভ্রমণ করে

সহস্র চঞ্চুর বিবস্র শহর।

মানুষেরেই ভালোবাসি, মানুষেই ক্রোধ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জ্যোতির লেখা কবিতা "স্বাধীন দেশে"

 


স্বাধীন দেশে

জান্নাতুল ফেরদৌস জ্যোতি


দেশের জন্য যুদ্ধ করে 
দিয়েছি মোদের প্রাণ। 
সোনার দেশে দাড়িয়ে তাই আজ
গাইছি স্বাধীনতার গান। 

স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষ
মোদের নেইকো ভয়। 
জীবন দিয়ে বাংলাকে মোরা 
করেছি যে জয়। 

বঙ্গবন্ধুর মহান ত্যাগে
পেলাম স্বাধীনতা। 
বঙ্গবন্ধু শব্দটি চিরদিন রবে
 বাঙ্গালীর হৃদয়ে গাঁথা। 

অজস্র বীর গিয়েছিলো সেদিন
স্বাধীন করতে দেশ,
মায়ের বুকে আজও ফেরেনি,
যাদের শ্রেষ্ঠত্বে স্বাধীন দেশ।



Sunday, August 15, 2021

ইমরান খান রাজের লেখা কবিতা "বঙ্গবন্ধু"

 



বঙ্গবন্ধু 

ইমরান খান রাজ


মুজিব মানে বঙ্গবন্ধু
মহান যুদ্ধের চেতনা,
মুজিব মানে জয়বাংলা
এগিয়ে যাবার প্রেরণা।

মুজিব মানে স্বাধীনতা
আলোকিত বাংলার পথ,
মুজিব মানে বিদ্রোহ সুরে
বাংলা বিজয়ের শপথ।

মুজিব মানে ভরসার বন্ধু
এক বিশ্বনেতার নাম,
মুজিব মানে জাগ্রত বাঙালি
বীর শহীদের রক্তের দাম।

মুজিব মানে বাংলার হাসি
লাল-সবুজের দেশ,
মুজিব মানে চিরচেনা
অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশ।


--

 ইমরান খান রাজ

শিক্ষার্থী, শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ।
স্টাফ রিপোর্টার, ডেইলি নয়া আলো ডট কম।
সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা৷

সাতভিটা, নারিশা

পাঞ্জাব বিশ্বাসের লেখা কবিতা "আগস্টের রক্তকণা"

 



আগস্টের রক্তকণা

পাঞ্জাব বিশ্বাস


যারা ইতিহাসকে খুন করতে চেয়েছিল তোমাকে খুন করে,

যাদের হৃদপিণ্ডের নির্মাণ পরজীবী কালো পাথরে, 

তারা ভুল করেছিল। ওরা অর্বাচীন কুলাঙ্গার, 

দুর্গন্ধময় সত্য পুড়ানো অঙ্গার। 


ইতিহাস কখনো খুন হয়না, খুন করা যায়না!

যারা চেষ্টা করে তারাই বেঘোরে মরে!

ইতিহাসের এমনই অদ্ভুত প্রাণ, 

যতবার খুনের চেষ্টা হয়েছে ততবারই হয়েছে কালজয়ী উত্থান। 

ইতিহাস সত্যাশ্রয়ী সুমহান চিরন্তন,

দেখতেও ঠিক তোমারই মতোন!

তুমি ইতিহাসের সন্তান, 

তুমি স্বদেশ স্বাধীনতা এবং সত্যের শেষ ঠিকানা! ওরা জানেনা, তুমি যতবার খুন হবে,

ততবারই পৃথিবীর স্বপ্ন হয়ে উঠে দাঁড়াবে! 

ক্ষুধার্ত পৃথিবীর উদ্বেলিত বাহু তোমার দিকে বাড়াবে!

তুমি পরাধীনতায় কালোত্তীর্ণ আলো,

নিকশ কালো রাতের উঠোনে দীপ্ত প্রদীপ জ্বালো! 


আগস্টের প্রতিটি রক্তকণা একটি মুজিব হয়! 

প্রতিটি রক্তকণার বুক সূর্যের মতো দীপ্তিময়, অকুতোভয়।

স্বাধীনতার সাহসী স্তম্ভ এই আগস্ট মাস!

আর

ইতিহাসের বুকে গন্ধ ছড়াবে পরজীবী লাশ।

Friday, August 13, 2021

মোঃ মাজহারুল আলমের লেখা "শৈশবের স্মৃতি"


  

 শৈশবের স্মৃতি  


মোঃ মাজহারুল আলম


এই তো সেদিন পাখির ডাকে

  ঘুম পালাতো নদীর বাঁকে

  এই সময়ে দোয়ার খুলে

 বেড়িয়ে যেতাম দুলে দুলে।


ক্বোরআন হাতে এই প্রভাতে

   দলবেঁধে সব মক্তবেতে

  দোয়া দুরুদ আরবী পড়া

 ঘুচতো যতো গ্লানি-জরা।


এই তো সেদিন স্কুল পালিয়ে

  দলবেঁধে সব পা-চালিয়ে

  বনের ধারে,নদীর পাড়ে

গাছের শাখা,বাঁশের ঝারে।


পাখির ছানা মেলতো ডানা

  লুকিয়ে সবাই দিতাম হানা

বুলবুলি আর শালিক যতো

 চড়ুই সারস আরো কতো।


এই তো সেদিন বিকেল বেলা

গোল্লাছুট আর বউছি খেলা

 উঠোন ভরা ছেলে-মেয়েরা

মাতিয়ে দিতো নিরব পাড়া।


   বুড়ো দাদু লাঠি দেখিয়ে

বলতো এসে দেই ঝেটিয়ে?

   হঠাৎ গিয়ে লাঠি নিয়ে

বলতো সবাই দাদুর বিয়ে।


এই তো সেদিন বৃষ্টি এলে

মাঠ-ঘাট সব তলিয়ে গেলে

স্কুলে যেতে থাকতো মানা

তাই তো ঘরে দিতাম হানা।


চোর-পুলিশে হারিয়ে যেতাম

হুল্লোড়ে সব বকা খেতাম।

এরপরে সব লুকিয়ে গিয়ে

দিতাম সবাই পুতুল বিয়ে।


এই তো সেদিন,যেদিন গেলো

দাঁড় কাকেরা সময় খেলো

শালিক,সারস,ময়না,টিয়ে

ছাড়লো সবই না জানিয়ে।


দাদুর কবর পুকুর পাঁড়ে

হারিয়ে গেলো সব আঁধারে

সোনার ছিলো সেই স্মৃতি সব

করছি এখন খুব অনুভব।

Monday, August 9, 2021

সেলিম রহমানে'র লেখা কবিতা "মুজিব মানে"

 


মুজিব মানে

সেলিম রহমান

মুজিব ছিলো বাংলাদেশে
সবার চোখের মনি;
মুজিব ছিলো সবার কাছে
সাহস নামের খনি।

সেই খনিতে সাহস ছিলো
রক্ত ছিলো বুকে;
অন্যায়েরা করলে খেলা
উঠত মুজিব রুখে।

ন্যায়ের পথে চলত মুজিব
মুষ্টি করা হাত;
জেল হাজতে তার কেটেছে
হাজার দিবস,রাত।

তার কথাতেই উঠত জেগে
শাহবাগের ঐ সড়ক;
তার কথাতেই ধ্বংস হতো
পাকিস্তানি নরক।

সব তরুণের আদর্শ হোক
শেখ মুজিবের মত;
বাংলাদেশের তরুণ সমাজ
মুছবে দেশের ক্ষত।


ফেরারী মুরাদের লেখা কবিতা "আগস্টের বুলেট"


 আগস্টের বুলেট

→ফেরারী মুরাদ


ততোটা রক্ত ঝরাসনি বুকে

বায়ান্ন একাত্তরে

যতোটা রক্ত ঝরালি বুলেট

আগস্টের সে ভোরে।


বাঙালি জাতিকে ঠেলে দিলি

অনিশ্চিত অন্ধকারে

পিতৃশোকে শোকাহত জাতি

আজ কাঁদে অকাতরে।


বুঝলিনা অবুঝ বাংলাদেশ মানে

শেখ মুজিবর রহমান

মৃত্যু পিতাকে নিঃশেষ করেনি

করেছে চিরো অম্লান।


১৫/০৮/২০১৬ইং

Saturday, August 7, 2021

দালান জাহানের কবিতা 'পৃথিবী এক হাসপাতাল'



 পৃথিবী এক হাসপাতাল

--------------✒️📝দালান জাহান 


শ্মশানঘাট পেরিয়ে নদীর ঘাটে যাই

নদীতে ভাসে মানুষ পোড়া ছাই। 

অতীতে বা ভবিষ্যতে 

কখনও এক পয়সার শত্রু কিনিনি

তবুও প্রতিরাতে শুনি রোদনধ্বনি-রক্তধ্বনি। 

উন্মাদ ঘোড়ার শব্দে খোলে যায় কসমিক দুয়ার 

হৃদপিণ্ডে ঝড় তোলে টর্নেডো-হ্যারিকেন

গাঙের বাতাস ধরে আসে খবরের ট্রেন 

দীর্ঘশ্বাসে খোদাইকৃত শত বছরের শিল্পকর্ম 

চিত্রের চোখে ফুটে যে গণিতের ফুল 

শিম্পাঞ্জি হাসতে-হাসতে কয় তা বানরের বাল

আজও পাথর ভাঙা মাছেরা দেয় বাঁচার সাঁতার 

অরণ্যের শেষ বিবৃতি পৃথিবী এক হাসপাতাল। 


দালান জাহান 

০১.০৮.২১