Monday, January 24, 2022

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২১

 বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২১ ঘোষণা


বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২১ ঘোষণা করা হয়েছে। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখার জন্য এবার মোট ১১ টি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার পাচ্ছেন মোট ১৫ জন সাহিত্যিক। 

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কমিটি ২০২১-এর সদস্যদের সম্মতিতে এবং বাংলা একাডেমি নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির সচিব এইচ এম লোকমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিকদের নাম ঘোষণা করা হয়। 






 এবার যারা বাংলাএকাডেমী সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন:

★কথাসাহিত্যে ঝর্ণা রহমান ও বিশ্বজিৎ চৌধুরী, 

★প্রবন্ধ/গবেষণায় হোসেন উদ্দীন হোসেন, 

★কবিতায় আসাদ মান্নান ও বিমল গুহ, 

★অনুবাদে আমিনুর রহমান ও রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী,

★শিশুসাহিত্যে রফিকুর রশিদ, 

★মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় পান্না কায়সার, 

★নাটকে সাধনা আহমেদ, 

★বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় হারুন-অর-রশিদ, 

★আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণকাহিনিতে সুফিয়া খাতুন ও হায়দার আকবর খান রনো, 

★বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞান/পরিবেশবিজ্ঞানে শুভাগত চৌধুরী 

★ফোকলোরে আমিনুর রহমান সুলতান। 



প্রাবন্ধিক হোসেন উদ্দীন হোসেন

কবি আসাদ মান্নান

কথা সাহিত্যিক ঝর্ণা রহমান

কবি বিমল গুহ

৷ 
শিশু সাহিত্যিক রফিকুর রশিদ

কথা সাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী 

ফোকলোর আমিনুর রহমান সুলতান

অধ্যাপক পান্না কায়সার

অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী 

সাধনা আহমেদ



১৯৬০ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পুরস্কারের অর্থমূল্য ৩ লাখ টাকা। এছাড়াও পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মাননা পত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। 

বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ২০২২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার দেবেন। 

Saturday, January 8, 2022

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন ও পরিচিতি সভা

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন ও পরিচিতি সভা। 



৭ ই  জানুয়ারী,২০২২, রোজ শুক্রবার, পুরাতন পাবলিক লাইব্রেরী,রোটারী গ্যালারী হলরুম, কুষ্টিয়াতে  অত্যান্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে আয়োজিত হলো বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার নব গঠিত পরিষদের পরিচিতি সভা। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সিরাজুল হক আলো (সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি)। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাক্ষ আবু সাঈদ চৌধুরী (সাংগঠনিক সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি), সভাপতিত্ব করেন মোঃ মোফাজ্জেল হক( সভাপতি কুষ্টিয়া জেলা শাখা) । এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের গণ্যমাণ্য সদস্য গণ। সকলের বক্তব্য শেষে মধ্যাহ্ন ভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।











কবি কথন/ ফারহানা হৃদয়িনী

 


কবি কথন

কবি যখন কবি তখন সে সাধারণ কেউ নয়,  কবি হওয়া সহজ নয়,  যে অন্য হৃদয়ের দুঃখ ব্যথা আপন অন্তরে ধারণ করতে পারে সেই তো কবি, যে হৃদয়ের বাগানে কথার ফুল ফোটায় সেই তো কবি। কবি হৃদয় কারো একার নয়,  কবি সার্বজনীন কবির ভাষায় ফুটে ওঠে মানবতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কবি জ্বালায় দ্রোহের আগুণ। কবি যা লিখতে পারে সকলেই তা লিখতে পারেনা, কবি যে ব্যথা অনুধাবন করতে পারে সকলেই তা পারেনা। কবি যে প্রেমে উন্মত্ত হতে পারে সেটা সকলেই পারেনা। কবি জনতার মনের প্রতিচ্ছবি অংকন করে তার চেতনায় তার বিবেকে তার হৃদয়ের অণু পরমাণুতে। কবি গেঁথে চলে শব্দের স্বপ্নীল মালা। কবি ধণে নয় তার ভাষার গুণে ধণী হয়ে ওঠে, কবি ধনবান তার রচনায়। কবি মৃত্যুর পরেও বাস করে কারো কারো হৃদয়ে।  তাই কবিকে সাধারণ হলে মানায় না। কবি সব সময় অসাধারণ অভিব্যাক্তি নিয়ে পথ চলে তাই, সে হাজারের মাঝেও অসাধারণ রুপে ফুটে থাকে।

                                         ★ ফারহানা হৃদয়িনী ★

Tuesday, December 14, 2021

কবি নূর হেলেনের লেখা কবিতা "বকুল ফুল"




 






"বকুল ফুল"

লেখাঃ নূর হেলেন

মাঝি,

আমার কথা মনে নাই তোমার?

সেই যে মাঘের চান্নিপশর রাইত?

মাথার খোঁপাখান খুইল্যা কইছিলা,

বউরে,

তোরে খোলা চুলে পরীর লাহান দেখায়।

যেন আসমান থাইক্যা অহনি নাইম্যা আইলি।


তয় অহন আমি আর পাট কইরা চুল বান্ধিনা।

চিরুনির দাঁতে ছাত্রা পইড়্যা রইছে।

সুগন্ধি তেল শ্যাষবার কবে মাখছি,

মনে নাই।


তোমার লাহান তো কেউ ডাইক্যা কয় না,

আয়, বকুল, তোর চুলে বিলি কাইট্যা দেই।

লাল ফিতা দিয়া পাঁকায়া দেই মালা বেণি।


পা দুইখান কোলের পরে রাইখ্যা কেউ তো কয়না,

আলতার শিশি শ্যাষ?

কাল হাটের থন ঠিক আইন্যা দিমু।


লোহার ছেকলের কালসিটে দাগ,

আমার আলতার নিশান ধুইয়া দিয়া গ্যাছে।

চিল শকুন আইসা আঁচড় কাঁটছে কোমরে ভাঁজে।


থুতনির সেই ছোট তিল,

যেইখানে ঠোঁট ছোঁয়াইয়া তুমি কইতা,

এইখানে আমার মন রাখছি কইলাম,

তুই সামলায়া রাহিস।


আমি, আমি তারে পারিনাই সামলাইতে।

কালা রক্তের ছোপে ডুইব্বা গ্যাছে তোমার মন।


তোমার বকুল এই উচ্ছিষ্ট শরীরডা লয়া দাঁড়ায়া এহনো।

ঘর নাই, গেরস্থি নাই, পাতে নাই এক নলা ভাত।

পথ চাইয়া থাকতে থাকতে দুই চউক্ষে ছানি পইড়া গেছে।


বয়স মুইছ্যা দিয়া গ্যাছে রূপের বহর!


যুদ্ধ শ্যাষে গবাদি লইয়া,

ঘরছাড়ারাও ঘরে ফিরছে।

নয়া সওদাগরেরা নোঙর ফালাইছে ঘাটে।


খালি আমার অন্তরের আগলখান টানা।

তুমি ছাড়া কাউরে দেইনাই সেই সোনার চাবি।

তুমি তো আর ফিইরা আইলানা মাঝি,

নাও ভীড়াইলানা এই উজানডাঙায়।


কলিজায় লাঙল টাইনা আবাদ করছি এই দ্যাশ,

আঁচল খোয়াইয়া পতাকা জরাইছি গতরে।

ওরা তাই নাম দিছে,

বীরাঙ্গনা!

কওতো কেমুন হইছে নামখান?


তবুও আমার মনের হাউস মেটেনা।

তোমার লাহান কেউ তো ডাকে না কাছে।

কেউ তো কয় না,

আয় বকুল তোর চুল বাইন্ধা দেই।

আয়, বকুল, আলতা দেই রাঙা দুইখান পায়।



Sunday, December 12, 2021

মুক্তি যুদ্ধের রনাঙ্গনের অকুতোভয় নারী নেত্রী রওশন আরা বেগম নীলার সংগ্রামী জীবন ...!!

মুক্তি যুদ্ধের রনাঙ্গনের অকুতোভয় নারী নেত্রী রওশন আরা বেগম  নীলার সংগ্রামী জীবন.......

 ©®✒️✒️ফারহানা হৃদয়িনী







বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নারীদের প্রচুর অবদান রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নারীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। 

"শত শত্রুর প্রতিরোধ রুখতে পারে নি তাদের,করতে পারে নি যাদের চেতনার ক্ষয়।নিঃশ্বাসে বারুদের গন্ধ, বুকে প্রত্যয়।ছিল না যাদের কোন প্রাণ হারাবার ভয়।

তাদের চেতনায় শুধু লাল সবুজের পতাকা উড়েছে, তারা রক্তদিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র গড়েছে। তারা অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা,তারা আমাদের বিজয়, আমাদের স্বাধীনতা এনেছে।"


তেমনি একজন সংগ্রামী নারী কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রওশন আরা বেগম নীলা। যিনি এমন একজন নারী যে দেশপ্রেমকে রক্তে প্রবাহিত করে এগিয়ে চলেছেন ১৯৬৮ সাল থেকে স্বাধীকার, স্বাধীনতা,অসহযোগ আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। আজ পর্যন্ত নারী মুক্তি, নারী কল্যান নারী সংগ্রাম,যৌতুক,বাল্যবিবাহ,ইভটিজিং প্রতিরোধ, ও নারীদের সার্বিক জীবনধারার উন্নয়ণে সংগ্রামী নারী রওশন আরা বেগম নীলা রাজপথের চির জাগ্রুক সৈনিক। 

 কুৃমারখালীর মত মফস্বল শহরে মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে নারীরা যে ভূমিকা রেখেছিল তা অনেক জেলার নারীরা রাখেন নি। সেই সব সংগ্রামী নারী আজ অনেকেই হয়তো রাজপথ হতে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু রওশন আরা বেগম  নীলা একনিষ্ঠ ভাবে কাজ  করে চলেছেন। 



তাঁর বাবার চাকরি সূত্রে বগুড়া জেলার শান্তাহারে অবস্থান কালীন সময়ে ১৯৫৪ সালের ৬ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন ।  ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে রওশন আরা নীলার রাজনীতি জীবনের শুরু। তিনি তখন কুমারখালী বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। সে সময় কুমারখালী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক রেজাউল করিম হান্নানের অনুপ্রেরণায় তিনি ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৬৮-৬৯ সালে প্রায় প্রতিটি মিটিং-মিছিলে যোগ দিতেন। তখন বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬ দফা ও ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে কুমারখালীতে আন্দোলন সংগ্রাম চলছিল। প্রতিটি মিছিলে তিনি সামনে থেকে স্লোগান দিতেন। ‘জেলের তালা ভাঙব শেখ মুজিবকে আনব’, আপোস না সংগ্রাম-সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো,জয় বাংলা’ প্রভৃতি স্লোগানে প্রতিদিন কুমারখালী শহর মুখরিত হতো।




১৯৭১ সালে সারাদেশে শুরু হয়ে যায় মুক্তিকামী মানুষদের সঙ্গে পাকহানাদার আর রাজাকারদের রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধ। সেই সময় তিনি মুক্তি যোদ্ধাদের কাছে গ্রেনেড  হামলা ও মেশিনগান পরিচালনার ট্রেনিঙ গ্রহণ করেন। সেই সময় বোরকা পরে পথে পথে ঘুরে যুদ্ধকালীন সময়ের খবর সংগ্রহ করে, মুক্তি যোদ্ধাদের কাছে চিরকূট ও চিঠি পাঠিয়ে রাজাকার ও পাক হানাদারদের অবস্থান সম্বন্ধে খবর পাঠাতেন। তাই যুদ্ধকালীন সময়ে রওশন আরা বেগম নীলা সব সময় রাজাকারদের হুমকি ধমকিতে থাকতেন। একদিন রাতে রাজাকাররা তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। এক রাজাকার রাইফেল তাক করে তার বুকে। সেই মুহুর্তে তার বাবা অনেক অনুনয় বিনয় করেন তাকে ছেড়ে দেবার জন্য। এর মধ্যে একজন রাজাকার তাঁর সহপাঠী হওয়ায় তাকে সেদিনের মতো মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে দেন। 

 ১৩৭০ বঙ্গাব্দে (১৯৬৯) কুমারখালী জে এন হাই স্কুলে নির্মিত কুমারখালীর প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণেরও অন্যতম রূপকারও তিনি।



সমাজিক উন্নয়নে  বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য মহীয়সী এ নারী সরকারীভাবে কুমারখালী উপজেলা ও কুষ্টিয়া জেলার শ্রেষ্ঠ নারী হিসেবে  বেগম রোকেয়া দিবসে "জয়িতা" পদকে ভূষিত হয়েছেন।




মহীয়সী এ নারী এখন নিরন্তর ছুটে চলেছেন সমাজের অসহায় পিছিয়ে পড়া, সুবিধা বঞ্চিত হতদরিদ্র নারীদের কল্যাণে। বাল্যবিয়ে বন্ধ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার এ নারী দিন নেই রাত নেই আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন পাশাপাশি সামাজিক,সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য সংস্কৃতি-মুক্তিযুদ্ধের ওপর যারা কাজ করে যাচ্ছেন তাদের নানাভাবে সহযোগিতা, পরামর্শ দান করে যাচ্ছেন। 







Friday, December 10, 2021

কবি ও চিত্রশিল্পী শেখ রবিউল হক (শিল্পী থেকে শিল্পপতি; শিল্পপতি থেকে শিল্পী।) ✒️✒️রেফুল করিম

ছবিওয়ালা রবি (শেখ রবিউল হক)

শিল্পী থেকে শিল্পপতি; শিল্পপতি থেকে শিল্পী।

✒️✒️রেফুল করিম






সব জীবনই বোধহয় কোনো না কোনভাবে সৃজনশীলতার পরীক্ষা দিয়ে চলে। আর জীবন কে উজানের দিকে নিয়ে যাওয়া মানেই তো শিল্পিতভাবে বেঁচে থাকা। বেঁচে থাকাটা কারো কারো কাছে শুধুই জাগতিক হিসেব নয়। অতিসংবেদি মন নিয়ে তারা বোঝে জীবন শুধু এই মাটি - পৃথিবীর সঙ্গে সম্পর্কিত নয় - তা দূর নক্ষত্রের সঙ্গে বোঝা পড়া করে চলে।




 তখন চোখের কাছে দেখা সুন্দর একটা ভিন্ন মাত্রা পায়।বিষয়টি বোধহয় আরেকটু বিশ্লেষিত হওয়া দরকার। দুচোখ মেলে যা দেখা যায় তাকে চিত্রিত করা শিল্প নয়।অতিসংবেদিত শিল্পী মনে যে দূরের ইশারা আছে, তার কোনো সংকেত যুক্ত করতে হয় শিল্পে।দৃশ্য গ্রাহ্য একান্ত বাস্তবের মধ্যে একটা অধরা মায়া আছে। সেই মায়ার খোঁজে নিতে চান শিল্পী শেখ রবিউল হক। তিনি পেশায় শিল্পী নন; কিন্তু শিল্পী হয়ে বাঁচতে চান। নিজের অস্তিত্বে তিনি অনুভব করেন সেই অধরা সুন্দরের টান। তাকে মায়াচ্ছন্ন করে রেখেছে শিল্পের কুহক৷ 





শেখ রবিউল হকের  শিল্পচর্চার সূচনা শৈশবে। দেশি পেন্সিল ও দেশি রং দিয়ে তখন কোন মঞ্চ সজ্জার কাজে দক্ষতা  প্রমাণ করেন৷  তারপর বিষয় চিত্রিত করার সুখ তাকে শিল্পের নতুন নতুন দিগন্ত স্পর্শ করার প্রণোদনা দেয়৷ তাই তিনি জলরঙের  ললিত  ভাবটা বুঝে ছবি আঁকেন এবং তেল রঙের গাঢ় স্বভাবটা উপলব্ধি করে চিত্র রচনায় মনেনিবেশ করেন৷ কখনো বাস্তববাদী রীতি মেনে একাডেমির ব্যাকরণ  অনুসরণ করে ছবি আঁকেন, কখনো বা ছবি ছবি তৈরি হয়েছে দ্বিমাত্রিক নকশাধর্মিতায় জোর দিয়ে৷ 




শেখ রবিউল হক শিল্পী থেকে শিল্পপতি, শিল্পপতি থেকে শিল্পী। তাঁর পেশা আবাসন শিল্প। বানিজ্যের লক্ষী বসত করে। লক্ষীর সঙ্গে স্বরস্বতীর যুগলবাসেই জীবন পূর্ণতা পায়- একথা পৌরাণিক কাল থেকে বহুবার সত্য প্রমাণিত হয়েছে। বৈভবের  কাছে এলে অনেক সময়ই মানবতাবোধ ও শিল্পবোধ জীবন থেকে লুপ্ত হয়ে যায়।শেখ রবিউল হকের সুন্দরের সুষমায় স্নিগ্ধজীবন প্রত্যাশা করেন এবং সে পথেই নিবিড় নিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন। দেশে ও বিদেশে তিনি প্রচুর শিল্পীর সঙ্গে মেলামেশা করে চিত্র রচনায়র গূঢ় অর্থ বুঝাতে চেষ্টা করেছেন। পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত ছবি পাঠ করে বুঝতে চেয়েছেন সৃজনশীলতার মর্ম। ছবি আঁকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা  এবং এ আকাঙ্ক্ষাকে ফলবতী করার জন্য নিজের মতো করে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন এই শিল্পী। বানিজ্য সফল শেখ রবিউল হকের জীবন শিল্পের সুফলতা ও সফলতা অন্বেষণ করে চলেছে। 




নিসর্গের গীতময় প্রকাশ আর মানুষের অনাবিল ও স্নিগ্ধ অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন এই স্বশিক্ষিত শিল্পী। অপেশাদার ও নিজস্ব  অনুশীলনে যারা শিল্পী হয়ে ওঠেন তারা বিচিত্র বিষয় আঁকেন। তাছাড়া তাদের ভাষাও হয় বিচিত্র রকমের। যেখানে পেশাদার ও একাডেমি শিক্ষিত  শিল্পী  কতগুলো রীতিমাফিক পর্ব অতিক্রম করে নিজের বিষয় ও শিল্প ভাষায় স্হির হন,  সেখানে স্বশিক্ষিত শিল্পী কখনোই একক কোনো ধারা অনুসরণ করতে চান না। একারণেই হয়তো শেখ রবিউল হকের ছবিতে একই সঙ্গে একাডেমিক রিয়ালিজম, ইস্প্রেশনইজম, অ্যাবাস্ট্র্যাকট ইত্যাদি শিল্প রীতি প্রকাশ দেখা যায়। 




সুন্দরের প্রতি পক্ষপাত মানুষের স্বভাবের অন্তর্লীন বৈশিষ্ট্য। যদিও সংজ্ঞা সুন্দরের ব্যাখ্যা করতে গেলে সুন্দর কে আর সীমিত শর্তে সীমায়িত রাখা যাবেনা। তার অনেক সংজ্ঞা তৈরি হবে এবং ইতিমধ্যে অনেক সংজ্ঞাই তাত্বিকেরা নিরূপণ করেছে। তবুও তো প্রকৃতিতে সুন্দরের ধ্রুবক রয়ে গেছে। ফুল সুন্দর, শিশুমুখ সুন্দর অথবা ব্যাপ্ত করে যদি তবে বলতে হয় নিসর্গ, মানুষ ও প্রাণিকূল ইশ্বরের হিসেবে বা প্রকৃতির নিয়মের সুন্দরের প্রতিনিধি। এরকম ভাবন থেকে শেখ রবিউল হক ফুল এঁকেছেন, মানুষ, নিসর্গ দৃশ্য,নারী এবং ভাইবোনের সম্পর্কে গভীরে যে প্রীতি ও স্নেহ আছে, তা ও চিত্রায়িত করেছেন৷ 



শিল্পের একটা বড় বৈশিষ্ট্য উপরিতল দেখে বিষয়টির গভীরতাকে আবিস্কার করা।চোখের দেখা নয়, মনের অনুভবকে দৃশ্যায়িত করার মধ্য দিয়ে চিত্রকলা মাধ্যম প্রকাশের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছে। ' অক্সিজেন কারখানা ', ' তিনি একজন ',' নিটোল বন্ধুত্ব' এসব নামের ছবিতে শেখ রবিউল হক বিষয় ছাপিয়ে রং ও গড়নকে স্বাধীনভাবে বিচরণ করিয়েছেন। এ ধরনের ছবিতে ফিগার থাকলেও তা রঙিন নিসর্গের চেয়ে বড় অবয়বে উপস্থাপিত হয়নি। রঙের বিমূর্ত এক চলাচল আছে। শেষে রং নিজের কথা বলবে। চিত্রকলা গভীরতর অর্থে রঙের সংলাপ বিনিময়, অনেক রঙের কাকলি,আলো- অন্ধকারের বুনট মাত্র। এই সত্য যে শেখ রবিউল হকের মর্ম ছুঁয়েছে, তা তার চিত্রকলার দিকে তাকালেই বোঝা যায়। 






Wednesday, August 25, 2021

" বিতর্কিত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন "

 



" বিতর্কিত নারীবাদী লেখিকা   
         তসলিমা নাসরিন "


           তসলিমা নাসরিন সমাজের নড়বড়ে কাঠামোতে হয়তো অপরিকল্পিত ভাবে ধাক্কাটা দিয়েছেন; ফলে ভঙ্গুর স্তুপের নিচে তিনি নিজেই যেনো চাপা পড়ে গেছেন! তারপরও জঞ্জাল সরানোর অবিরাম চেষ্টা! 


          ডাক্তার হিসেবে রোগীর পালস্ হার্টবিট যতটা বুঝতেন; উপমহাদেশের শঙ্কর বাঙালি সংস্কৃতির নাড়িনক্ষত্রের সমীকরণ ততটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন কিনা; তা নিয়ে নিশ্চয়ই বিতর্ক রয়েছে। 


         নারীবাদী ও ধর্মীয় সমালোচনামূলক রচনার কারণে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন। তার রচনা ও ভাষণের মাধ্যমে লিঙ্গসমতা, মুক্তচিন্তা, নাস্তিক্যবাদ এবং ধর্মবিরোধী মতবাদ প্রচার করায় তসলিমা বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর রোষানলে পড়েন এবং ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে বাধ্য হন। 


         ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে আগস্ট ময়মনসিংহ শহরে তসলিমা নাসরিনের জন্ম হয়। তার মাতা ঈদুল ওয়ারা গৃহিণী এবং পিতা রজব আলী পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। তসলিমা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে এমবিবিএস পাস করেন। তিনি মিটফোর্ড হাসপাতালে স্ত্রীরোগ বিভাগে ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।



          তেরো বছর বয়স থেকে তসলিমা কবিতা লেখা শুরু করেন।  ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ হতে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও গ্রন্থ আকারে তসলিমার কবিতা, উপন্যাস সহ বিভিন্ন লেখা প্রকাশিত হয়। 


          ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে তসলিমা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র প্রেমে পড়েন এবং গোপনে বিয়ে করেন। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানের সাথে তার বিয়ে এবং ১৯৯১ সালে বিচ্ছেদ হয়। তিনি ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক বিচিন্তার সম্পাদক মিনার মাহমুদকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯২ সালে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়। তসলিমার কোন সন্তানাদি নেই।


           তার কাব্যগ্রন্থ ও সংবাদপত্রের কলামে নারীদের প্রতি মুসলিম মৌলবাদীদের শোষণের কথা লেখায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে এই পত্রিকার অফিস ভাঙচুর করা হয়। এই সময় নির্বাচিত কলাম নামক তার বিখ্যাত প্রবন্ধসংকলন প্রকাশিত হয়, যার জন্য ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে তসলিমা আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। 


          ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে "লজ্জা" নামক তার পঞ্চম উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে বাংলাদেশের মুসলিমদের দ্বারা একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর অত্যাচারের বর্ণনা করা হয়। এই উপন্যাসটি প্রকাশের পর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় মুসলিম মৌলবাদীরা তসলিমার ওপর শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে ও তার এই উপন্যাস নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি জানায়। গ্রন্থমেলা কর্তৃপক্ষ তাকে মেলায় প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। এই বছর অক্টোবর মাসে কাউন্সিল অব ইসলামিক সোলজার্স নামক এক মৌলবাদী সংগঠন তার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে।


           তসলিমা নাসরিনের সাতটি আত্মজীবনী গ্রন্থের অধিকাংশ বাংলাদেশ ও ভারত সরকার দ্বারা নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়। "আমার মেয়েবেলা" নামক তার প্রথম আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হলেও ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে এই বইয়ের জন্য তসলিমা দ্বিতীয়বার আনন্দ পুরস্কার জয় করেন। 


         ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে তার দ্বিতীয় আত্মজীবনী "উতাল হাওয়া" বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে  তার তৃতীয় আত্মজীবনী বাংলাদেশ উচ্চ আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই বইটি দ্বিখণ্ডিত নামে প্রকাশিত হলেও ভারতীয় মুসলিমদের একাংশের চাপে পশ্চিমবঙ্গেও বইটি নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়।  ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে "সেই সব অন্ধকার" নামক তার চতুর্থ আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।


         ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইসলামি ধর্মীয় আইন শরিয়া অবলুপ্তির কথা বলেন। এর ফলে ইসলামি দলগুলো তার ফাঁসির দাবিতে সমাবেশ ও দেশ জুড়ে তার শাস্তির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট ডাকা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে জনগণের ধর্মীয় ভাবনাকে আঘাত করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয় এবং জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেসময় এক আলোকচিত্র শিল্পীর আশ্রয়ে তিনি লুকিয়ে ছিলেন। এরপর উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাকে জামিন মঞ্জুর করা হয় এবং তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।


          বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর তিনি ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে সুইডেনে ও ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত জার্মানিতে বসবাস করেন। ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন। এই সময় তার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি দেশে ফেরার অনুমতি চেয়ে ব্যর্থ হন এবং জাতিসংঘের ভ্রমণ নথি ত্যাগ করে সুইডিশ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে তার বাংলাদেশের পাসপোর্ট ফেরত পান ও বিনা অনুমতিতে বাংলাদেশ প্রবেশ করেন। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে পুনরায় জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রুজু হলে তিনি পুনরায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ১৯৯৯ থেকে ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ফ্রান্সে বসবাস করেন।



          দীর্ঘ ছয় বছর অপেক্ষার পর ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারতে প্রবেশ করার ভিসা সংগ্রহ করতে সমর্থ হলে তিনি কলকাতা যাত্রা করেন।  পরবর্তীতে তিনি "শোধ" নামক তার একটি উপন্যাসের মারাঠি ভাষায় অনুবাদকর্মের প্রচারে মুম্বই শহরে পৌঁছানোর সময় মুসলিম মৌলবাদীরা তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেন। ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে তসলিমার পিতা মৃত্যুশয্যায় শায়িত হলে তসলিমার বাংলাদেশ প্রবেশে অনুরোধ করে ব্যর্থ হন। 


          ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে অস্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হলে তসলিমা কলকাতা শহরে বসবাস শুরু করেন। ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম সৈয়দ নূরুর রহমান বরকতি নাসরিনের মুখে কালিলেপন করলে পুরস্কৃত করার কথা ঘোষণা করেন। ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল বোর্ড নামক একটি সংগঠন তার মুন্ডচ্ছেদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করেন। 


         ২০০৭ খ্রী: ৯ই আগস্ট তিনি "শোধ" উপন্যাসের তেলুগু ভাষায় অনুবাদকর্মের প্রচারে হায়দ্রাবাদ শহরে গেলে অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন নামক একটি রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় উত্তেজিত জনতা তাকে আক্রমণ করে। ১৭ই আগস্ট কলকাতা শহরের মুসলিম নেতারা তসলিমাকে হত্যা করার জন্য বিপুল অর্থ পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। ২১শে নভেম্বর অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটি ফোরাম নামক একটি ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠী কলকাতা শহরে তাণ্ডব শুরু করলে সেনাবাহিনীকে আইন ও শান্তিরক্ষার জন্য মোতায়েন করা হয়। এই দাঙ্গার পর নাসরিনকে কলকাতা থেকে জয়পুর হয়ে নতুন দিল্লি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।



          ভারত সরকার তাকে পরবর্তী সাত মাস একটি অজ্ঞাত স্থানে গৃহবন্দি করে রাখে। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে তাকে সিমোন দ্য বোভোয়ার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হলেও তিনি ভারতে প্রবেশে অনুমতি না পাওয়ার আশঙ্কায় ফ্রান্স যাত্রা করে পুরস্কার নিতে অসম্মত হন। এই সময় তিনি নেই কিছু নেই নামক তার আত্মজীবনীর ষষ্ঠ ভাগ প্রকাশ বাতিল করেন ও কলকাতার দাঙ্গার জন্য দায়ী দ্বিখণ্ডিত নামক তার বিতর্কিত বইটির কিছু অংশ অপসারণ করতে বাধ্য হন।


         ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত মৌলবাদীরা তার প্রাণনাশের হুমকি দিলে সেন্টার ফর ইনক্যুয়ারি তাকে ঐ বছর ২৭শে মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে সহায়তা করে এবং তার খাদ্য, বাসস্থান নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।”   


          তসলিমা নাসরিনের জীবনভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র নির্বাসিত ২০১৪ সালে মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসবে মুক্তি পায়। ২০১৫ সালে এই চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র বিভাগে ৬২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছে।


          তসলিমা তার উদার ও মুক্তচিন্তার মতবাদ প্রকাশ করায় দেশ-বিদেশ থেকে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা গ্রহণ করেছেন।  আনন্দ সাহিত্য পুরস্কার, নাট্যসভা পুরস্কার,  ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট কর্তৃক শাখারভ পুরস্কারসহ ফ্রান্স, সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল পেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচ, নরওয়েভিত্তিক হিউম্যান-এটিস্ক ফরবান্ড কর্তৃক বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

 

          দেশে, বিদেশে এবং নির্বাসিত জীবনে বহু কবিতা, উপন্যাস, আত্মজীবনী ও কলাম লিখে তিনি যেমন নন্দিত  হয়েছেন; তেমন নিন্দিতও হয়েছেন। তারপরও তিনি অনেকের কাছে আধুনিক নারীজাগরণের পথিকৃত; মুখোশ আর খোলস ভাঙার চেষ্টায় অবিচল এক ব্যতিক্রমী কালজয়ী নারী।


©  হারুন-অর-রশীদ। 

(Source- "Bangladesh bans new Taslima book"- Ahmed, Kamal (13 August 1999)/BBC News(1 June 2009), Wikipedia)

Sunday, August 22, 2021

শরীরে পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণ করে যেসব খাবার



 


শরীরে পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণ করে যেসব খাবার


 (এড. মোঃ সোহরাব হোসেন ভূঁঞা(মিঠু)

আইনজীবী, জজকোর্ট ঢাকা/কুমিল্লা, বাংলাদেশ।)

শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষা জন্য যেসব খনিজ প্রয়োজন তার মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পটাশিয়াম। এটা হৃদপিণ্ড, কিডনি, মস্তিষ্ক এবং পেশীর টিস্যুর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খুব প্রয়োজনীয়।


রক্তে পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে বিভিন্ন ধরনের মাথাব্যথা, বুক ধড়পড় এবং অন্যান্য অনেক প্রকারের জটিল সমস্যা হয়। দিনে কতখানি পটাশিয়াম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় এটা সবারই জানা প্রয়োজন।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীর ভাল রাখতে দিনে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার মিলিগ্রাম পটাশিয়ামের প্রয়োজন। খাবার কিংবা সাপ্লিমেন্ট ওষুধ খেয়ে শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা সাপ্লিমেন্টের চেয়ে পটাশিয়ামসৃদ্ধ খাবার খাওয়াটাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। 


এক কাপ সাদা শিমের বিচিতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পটাশিয়াম এবং ৬৭৩ ক্যালরি থাকে। এটা প্রতিদিনের চাহিদার প্রায় ১০৪ ভাগ পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে।


এ কাপ বরইতে ১ হাজার ২৭৪ মিলিগ্রাম পাটাশিয়াম এবং ৪১৮ ক্যালরি থাকে। যা শরীরের প্রতিদিনের পটাশিয়ামের ঘাটতির শতকরা ৩৬ ভাগ পুরণ করে। এছাড়া ভিটামিন এ থাকায় বরই দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে এবং চোখের নানা রোগ সারাতে সাহায্য করে।


এক কাপ পালং শাকে ১৬৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম এবং শতকরা ৭ ভাগ ক্যালরি থাকে। পালং শাক আয়রনেরও দারুণ উৎস। এটি চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখে এবং রক্তশূন্যতা  পূরণে সাহায্য করে। 


কলাতে ৪৮৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম এবং ১২১ ক্যালরি থাকে। এটি প্রাণশক্তি বাড়াতেও দারুন কাজ করে। এতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি বাড়ায়। 


মিষ্টি আলুও পটাশিয়ামের দারুন উৎস। এতে ৪৪৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ও ১১৪ ক্যালরি  থাকে। গাজরের রসে ৬০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ও ৪৬ ক্যালরি থাকে। শরীরের পটামিয়ামের ঘাটতি পূরণে নিয়মিত গাজর খেতে পারেন। এছাড়া ডাবের পানি, দই, বাদাম এগুলোও শরীরে পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে সহাযতা করে। নিয়মিত পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খেলে হার্ট ভাল থাকবে, মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করবে। এছাড়া এ ধরনের খাবার হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।



Friday, August 20, 2021

বানী ডিয়ায এর লেখা কবিতা " স্মৃতির পাতায় খন্ড খন্ড চিত্র "


 " স্মৃতির পাতায় খন্ড খন্ড চিত্র "

  বানী ডিয়ায 



ছোট্ট যে শিশুটি জন্মেছিলো ছোট্ট সেই গ্রামে

আছো তুমি স্মৃতির পাতায় খন্ড খন্ড চিত্রে

  সেতো আর কেউ নয় স্পস্টভাষী ন্যায়পরায়ণ, 

ব্যক্তিত্বে মহান...........

মাতৃভক্ত, অত্যন্ত দয়ালু শেখ মুজিবর রহমান ।


গোপালগঞ্জের সেই ছোট্ট কিশোর................

অক্লান্তকর্মী, প্রতিবাদী, দুর্জয় সাহসের বহমান

আর কেউ নয় নির্ভিক, রাজনৈতিক অংকুর...

মহাপুরুষ শেখ মুজিবর রহমান...................।



বিরুদ্ধবাদীদের চক্রে পড়ে যখন অাঠারোতে

যেতে হলো জেলে জীবনে প্রথম...........

রাজনৈতিক চেতনা সহসা হলো জাগ্রত......

ব্যাঘ্র শিশুর মতো ফুসে উঠেছিলো..........

সেতো আর কেউ নয়.... সোচ্চার কৈশোরের

সেই সতীর্থ বন্ধু... শেখ মুজিবর রহমান......।


কিশোর বয়সেই দিয়েছিল দোলা মনের কোণে

পরাধীনতার নাগপাশ ছিঁড়ে স্বদেশকে করবো জয়

বেজেছিলো সুর করবে ইংরেজ শাসনের অবসান

সেতো আর কেউ নয়... বর্ষীয়াণ বিপ্লবী সেনা

বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান...................।


রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই......বাংলা চাই ধ্বনিত হতেই

মায়ের ভাষাকে কেড়ে নিতে চাইলো যে শাসক

প্রতিবাদী কন্ঠে মুহুর্মুহু ধ্বনিত হলো........

রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই....... বাংলা চাই........

কৃষক -শ্রমিক -মজুরদের সক্রিয় বঙ্গ বন্ধু

পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর শোষণ নীতির বিরুদ্ধে 

ধরলো অস্ত্র, লাঠি সোঠা, কন্ঠে প্রতিবাদের বজ্রসুর

সেতো আর কেউ নয় আমাদেরই বিপ্লবীনেতা

বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান.............।


ভাষার দাবীতে রঞ্জিত হয়েছিলো ঢাকার রাজপথ

বায়ান্নের বাঙ্গালী...... আর রইলোনা বসে ঘরে

ফিরিয়ে দিতে হবে মা-কে তার ভাষা, দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে

তরুণ -তাজা সংগ্রামী ছাত্র-ছাত্রী-জনতা..........

কৃষক- শ্রমিক, শিল্পী -সাহিত্যিক -বুদ্ধিজীবি.........

দুর্জয়  সংকল্প নিয়ে ত্রিশলক্ষ বাঙ্গালীর

রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে নিয়ে এলো বিজয়ীবেশে

আমাদেরই প্রাণপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবর রহমান ।


স্বাধীন বাংলার সুখ বুকে নিয়ে মহাউল্লাসে

ফিরে এলেন মায়ের বুকে দৃপ্ত কন্ঠে.......

জনসমুদ্রের ভীড় ঠেলে মুজিব রমনার সেই

ঐতিহাসিক বিশাল ময়দানে................

দাঁড়ালেন অশ্রু ভারাক্রান্ত কন্ঠে জানালে শ্রদ্ধা,

জানালেন শ্রদ্ধা অমর শহীদের তরে বারবার

সেতো আর কেউ নয় আমাদের রাস্ট্র নায়ক

বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ......।


হে প্রাণপ্রিয় ভাষা-সৈনিক,  রাস্ট্র নায়ক

তোমাকেই প্রাণ দিতে হলো বৃষ্টি ভেজা  

সেই শ্রাবণের শেষদিনে............

লুটিয়ে পড়তে হলো খুনীদের দাবানলের

গুলিতে, সিঁড়িতেই নির্মমভাবে হত্যা চালিয়ে

পরিবারের সদস্যদের করে দিলো নিঃশেষ।

১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ সাল, করি শ্রদ্ধাভরে  স্মরন

রবে তুমি আমাদেরই হৃদয়ে হয়ে চিরদিন অম্লান 

 সেতো আর কেউ নয়, বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।

  

<<<<<<<<<<<<<<< # >>>>>>>>>>>>>>>


   ( প্রাণপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীকে স্মরন করে লেখা) 


   ১০/৮/২০১৫ ইং

Thursday, August 19, 2021

ফারহানা হোসেনের "অনুভূতি"

 


অনুভূতি 

ফারহানা হোসেন 

(“ ফারহা ডায়রী “ থেকে কিছু অংশ) 

————————————


অনুভূতিগুলো ভোতা হয়ে গেছে। খুব সকালে ডায়রী লিখি, ছোটবেলার অভ্যাস। আজ মনে হলো অবাক হবার পরিধি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে আমার।

যেমন বর্ষার মেঘলা আকাশে টলটলা বিশাল চাঁদ বা কালপুরুষ দেখলেও অবাক হইনা আর। অবাক হই না যখন দেখি কেউ অলিখিত পাপগুলো করে যাচ্ছে কিংবা কোন মহিলা এক স্বামী থাকা কালিন আবার বিয়ে করছে, আমি একটুও অবাক হই না। কারন আমার মনে হয় এমনই তো হবার কথা।

যখন শুনি এক সময় কিছু বাবা-মা ধর্ম নিয়ে খুব বেশি বাড়াবাড়ি করেছে তাদের ছেলেমেয়ারা বিদেশী বিয়ে করেছে; আমি একটুও চমকাই না। কারন এমনই তো হবার কথা। শুধু করুণা হয় বাবা মা গুলোর জন্য। সত্যিতো খুব কস্টের।

যখন বুঝি খুব কাছের মানুষগুলো ষড়যন্ত্র করছে আমাকে নিয়ে আমি একটুও বিচলিত হই না। কারন বিচলিত হবার বা কস্ট পাবার কিছু নেই। মানুষতো আমরা, এটা করতেই পারে তারা। 

কোন ছোট বাচ্চা রেপ হলে বা কোন ছোট ছেলে এবিইউস হলে অবাক হই না এখন আর। কারন এমনই তো হবার কথা। আজকাল শুধু বাবা মা'দের একটু সাবধান হতে হবে। আর বাচ্চাগুলোর জন্য ভীষণ কষ্ট হয় আমার। কারন তারা বুঝে গেলো পৃথিবী কতো নোংরা জায়গা।


লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে প্রতিদিন। কেউ না কেউ পরিচিত। মানুষ নাই হয়ে যাচ্ছে; একটুও অবাক হই না। কারন এটাই ভাগ্য আল্লাহ লিখে রেখেছেন। ভাগ্যের উপর খবরদারী করার সাধ্য কার আমাদের! তবুও কষ্ট হয় মানুষগুলোর জন্য। আর দেখবো না কোনদিন। কিন্তু অবাক হবার পালা শেষ। কারন এতো মৃত্যু প্রতিদিন অনুভূতি শুন্য করে দিয়েছে। শুধু কষ্টগুলো গুমরে উঠে দু চারদিন খেতে পারিনা। একেই মনে হয় ডিপ্রেশন বলে। কষ্ট পাই তারপরও অবাক হইনা এই তো জীবন। 

কেউ কিছু সারপ্রাইজ বা গিফট দিলে শুধু বলি ওয়াও, একটুও অনুভূতি কাজ করে না। মনে হয় এটাই তো হবার কথা। আমি জানতাম আমাকে সারপ্রাইজ দিবে। 

এই যে দিনে দিনে অবাক হবার পালা আর অনুভূতি গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে-- আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখি আর নিজে নিজে বলি নিজেকে, 'হে সৃস্টিকর্তা এমন কিছু ম্যাজিক করে দাও আমার জন্য যা দেখে আমি বিস্মিত জ্ঞানশুন্য হই'।

আমি সৃষ্টিকর্তাকে বলি, 'যা আমার তা আমার জন্যই রাখো। আমি আবার অনুভূতি ফিরে পেতে চাই এই পৃথিবীর বুকে...'

যদি কোন অপরিচিত মানুষ অধিকার নিয়ে বলে-- তুমি বাইরে যেও না অবস্হা 

খারাপ।

আমি অবাক হবো আবারও কারন কেউ তো স্বার্থ ছাড়া ফিলিংস দেখায় না আজকাল। আমি  সৃস্টিকর্তাকে বলি আমার জন্য এমন কিছু আশ্চর্য করো যাতে আমার মনে ছোট একটা পাখির গান শুনলেও অনুভূতি জাগ্রত হয়। একটা ঘাস ফড়িং উড়তে দেখলেও আমি যেন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি।

অচেনা কেউ মারা গেলেও চিৎকার করে কাঁদি। কেউ ষড়যন্ত্র করলে যেন ভিষন কষ্ট পাই।

আমি চাই আবার আমার অনুভূতিগুলো ফিরে আসুক। আমি চেয়ে চেয়ে অবাক হবো। পৃথিবীর সব কষ্ট, সৌন্দর্যগুলো মনে গেঁথে।