শরীরের মেদ কমাতে জিরার উপকারিতা
ক'দিন ধরেই চলছিলো রৌদ্র ছায়ার মিছিল,
জৈষ্ঠ্যের কাঠফাটা রোদে কাকেদের হাহাকার শুনেছি;
অভিমানে মুখ লুকিয়েছে চাতক পাখির দল।
এমনই সময় আষাঢ়ের আগমনী বার্তা নিয়ে
চারিদিকে তুললো শোরগোল ।
প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে-
ঝরঝর নূপুরের ছন্দতালে
দূর গগনের মেঘরাজ্য থেকে নেমে এসে
ঝরে পড়লো ধরণীতে।
বিশ্বভূবন লুটাতে চেয়ে
অঝোর ধারায় নেমে এলো আষাঢ় ঢল;
মেঘমালার এই ছন্দিত স্পর্শ বড়ই মধুর!
ধুয়ে মুছে দেয় জরা, আবর্জনা, খরা-
আর তৃষিত তপ্ত বালুকাময় ধরণী;
দখিনা পবনে সুরভী দোলানো নিটোল প্রেমে
ছুঁয়ে দেয় প্রেমিকার ললাট, চিবুক ও তপ্ত হৃদয়!
সুরহীন প্রাণকে সুরের মূর্ছনায় ভরিয়ে দেয় এ বর্ষা।
ভিজিয়ে দেয় শাড়ীর আঁচল আর আর নগ্ন দুটো পা।
এত সব আনন্দেও তোমার শূন্যতা আজ
চারদিকে বিরাজমান!
রূপকথা হারিয়েছে-
ডানা মেলে ওড়ার আকাশটুকু।
হারিয়েছে আধভেজা তুমি আমি
নগ্ন পায়ে হেঁটে চলার পথ!
আবারও আষাঢ় এসেছে
আসোনি তুমি-
হাতে নিয়ে বৃষ্টিভেজা মঞ্জুকেশিনী।
শব্দার্থ: মঞ্জুকেশিনী = কদমফুল
আমার জন্ম কুমারখালী দাদা বাড়ীতে কিন্তু বেড়ে ওঠার পুরোটাই কুষ্টিয়াতে।স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ের পুরোটাই কেটেছে কুষ্টিয়াই।আমাদের শৈশবের কুষ্টিয়া যে কী সুন্দর ছিল!মিশন স্কুলে পড়ার সময়টাতে আমাদের এক রিক্সাওয়ালা দাদু ছিলেন তার রিক্সাতেই আমি আর আমার বড় আপু একসাথে স্কুলে যেতাম।পুরো সবুজে ঢাকা ছিল কুষ্টিয়া তখন।যে দিকেই তাকানো যেত শুধু সবুজ আর সবুজ।আমাদের বাড়ির ছাদটাতে দাঁড়ালে মনে হতো মাথা উঁচু করে থাকা নারকেল গাছগুলো একটা সবুজ বেষ্টনিতে ঘিরে রেখেছে পুরো শহরটাকে।
এতো নিরিবিলি ছিল সেই সময়টাতে কুষ্টিয়ার রাস্তাগুলো।সেই সময়ের কুষ্টিয়া যারা দেখেছে তারা জানে তখন কুষ্টিয়ার জনসংখ্যা ছিল খুব কম আর খোলা জায়গা ছিল অনেক বেশী,আর ছিল বিশাল বড়,বড় পুকুর।কুষ্টিয়ার আদি মিষ্টির দোকানগুলো সেই সময়েও খুব খ্যাতিমান ছিল।এতো মজার দৈ,মিষ্টি পাওয়া যেত!
পুজোর সময়টাতে হিন্দু বাড়িগুলোতে খুব আনন্দ হতে দেখেছি।ঈদ,শবে বরাতে মুসলিমদের ভেতরে দেখেছি শান্তিপূর্ণ আনন্দ আয়োজন।ছোট্ট শহর,লোক সংখ্যা কম কিন্তু সব কিছুতেই একটা ছিম,ছাম ভাব ছিল।আর আমের সীজনে আম খাওয়ার মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।বাসায় এতো আম আনতো আব্বু।
আজকাল কুষ্টিয়া গেলে সেই শান্তি,শান্তি ব্যাপারটা আর চোখে পড়ে না।বিশাল বিশাল বড়,বড় দালানগুলো কুষ্টিয়ার মায়াভরা সবুজ বেষ্টিনীকে ঢেকে দিয়েছে অনেক আগেই।সকালে ঘুম থেকে উঠলে পাখীর কলকাকলীর শব্দও তেমন কানে আসে না।কুষ্টিয়ার বিখ্যাত কুলফি আর তিলের খাঁজার স্বাদটাও যেন ঠিক আর আগের মতো নেই।রবীন্দ্রনাথ,লালন আর মীর মোশারফ হোসেনের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়ার প্রতি মনের টানটা অবশ্য সেই আগের মতোই আছে।শত মাইলের দূরত্বে থেকেও যে শহরটা মনের মাঝে জেগে থাকে সারাক্ষণ তার নাম”কুষ্টিয়া”।
লাশ কাটা মোড়। নাম শুনলেই কেমন ভয় ভয় লাগে। গায়ে শিহরন জাগে। আমাদের কুষ্টিয়ার সরকারী কলেজ এর পূর্বে লাশ কাটার মোড় অর্থাৎ পুরাতন কাটাই খানার মোড় অবস্থিত। এখানে ব্রিটিশ আমলের একটি পুরানো ভাঙা চোরা লাশ কাটা ঘর আছে। যেখানে আগে অপমৃত্যু হলে লাশ ময়নাতদন্ত করা হতো। এখন এই ঘরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। এই ঘরটির পাশ দিয়ে যেতে এখনো অনেক মানুষ ভয় পায়।
কারন, এই লাশকাটা ঘরের একটা ভৌতিক গল্প প্রচলিত আছে। এই ঘটনাটি ব্রিটিশ আমলের দুজন ডোমের গল্প। তাদের নাম মদন লাল আর বাদল লাল।
আমি প্রায় প্রতিদিনই ঐ ঘরের পাশ দিয়ে যায় আর ভাবি এই ঘরটির যে কাহিনী প্রচলিত আছে সেটা লিখবো। কিন্তু কখনোই সম্পুর্ন তথ্য না পাওয়ায় লেখা হয়নি।
বর্ষার এক দিনে হঠাৎ বৃষ্টি আসলে আমি লাশ কাটা ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নিলাম। তখন বিকাল আকাশে প্রচুর মেঘ অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে। আমার একটু ভয় ভয় করতে লাগলো। হঠাৎ দেখি একটা লোক চাদর গায়ে জড়িয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো। মুখটি ঢাঁকা বিড়ি খাচ্ছে। আমি বললাম আপনি কে? জবাব এলো, হামি ডোম আছি বাবু, লাশ কাটি। শুনে আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। এই অসময়ে লাশ কাটা ঘরের বারান্দায় আমি আর ডোম একসাথে দাঁড়িয়ে আছি।
আমি তাকে আস্তে করে জিজ্ঞাসা করলাম, আচ্ছা আপনি মদন আর বাদল সম্পর্কে কিছু জানেন? সঙ্গে সঙ্গে সে বললো জানি বাবু।ওরা সেই ব্রিটিশ আমলে ডোম ছিলো বাবু। ওদের একজন এই ঘরে মরেছিলো, আর এক জনের ওকে মারার জন্য ফাঁসি হয়েছিলো।
আমি তখন অতি উৎসাহী হয়ে তাকে বললাম, বলুনতো কি হয়েছিলো সেদিন।
তখন তিনি বলতে থাকলেন, বললেন সে বাবু ব্রিটিশ আমল, এই ঘরের চারিদিকে শুধু বনজঙ্গল, এখানে বাঘ ভালুক ঘুরতো।
এইখানে লাশ কাটতো মদন আর বাদল ।
দুজনের মধ্যে কঠিন ভাব ছিলো। লাশ কাটার আগে একসাথে মাল মানে মদ খেয়ে আসতো। একদিন একটা লাশ আসলো সন্ধ্যায়। তখন লাশকাটা ঘরে ওরা লাশটি ঢুকিয়ে রাখলো। লাশটির মাথা ছিলো না। বিভৎস লাগছিলো। মদন বললো, দেখেছিসরে বাদল কেমন লাশ আছে, হামার ভয় লাগে রে। বাদল বললো, এতে ভয়ের কি আছেরে এত লাশ কাটিলাম, আর এতো এক গলা কাটা লাশ আছে, বলে হা হা করে হাসিলো। তা দেখে মদন বললো তুর ভয় করে না। বাদল বললো না। তাহলে একটা জুয়া খেলবি।
বাদল বললো কি বলছিস। মদন বললো তু যদি আজ রাতে এই লাশের দিলে পেরেক ঠুকে দিস তাহলে বুঝবো তু বীর আছিস। বাদল বললো এটা কুনো ব্যপার হলো, কি বাজি ধরবি বল? মদন বলিলো যদি তু কাজটি করতে পারিস তুকে হামি কালকে চার বোতল মাল খাওয়াবো। বাদল বললো হামি রাজি আছি। তারপর তারা ঘরে লাশ ঢুকিয়ে ডোমপট্টিতে চলে গেলো।
মধ্যরাত চারিদিকে থমথমে। মাঝে মাঝে শেয়াল বাঘের ডাক। এর মধ্যে বাদল পট্টি থেকে বের হলো লাশকাটা ঘরের উদ্দেশ্যে। গায়ে একখানা চাদর জড়িয়ে হাঁটা শুরু করলো। তার ভয় লাগছিলো, কিন্তু চার বোতল মালের কথা মনে হতেই সাহস ফিরে পেলো। ঘরের তালা খুলতেই মানুষ পচা গন্ধ তার নাকে লাগলো। এখন তার মনে ভয় লাগলো, কারন সে একা। জঙ্গলের ভেতরে লাশ কাটা ঘরে সে একা। কোন রকমে কাঁপতে কাঁপতে সে লাশের কাছে পৌঁছালো, তারপরে হাতুড়ি আর একটা পেরেক বের করে লাশের বুকের উপরে পেরেক রেখে হাতুড়ি দিয়ে কাঁপতে কাঁপতে ঠুকে দিলো। তারপরে তারাতারি বের হতে যেয়ে কে যেনো ওকে টেনে ধরলো। আবার যেতে গেলো আবার টেনে ধরলো। তখনি সে মেঝেতে পড়ে গেলো বাঁচাও বলে, আর উঠলো না।
সকালে মদন লাশ কাটা ঘরের কাছে যেয়ে দেখলো দরজার তালা খোলা। সে ভেতরে ঢুকে বাদল বলে ডাকতেই নিচে তাকিয়ে চমকে উঠলো, দেখলো বাদলের নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে আছে আর লাশের গায়ে চাদর সহ পেরেক ঢোকানো।মদনের বুঝতে বাকি রইল না যে বাদল লাশের গায়ে পেরেক মারতে যেয়ে চাদর সহ ঠুকেছিলো। যখনি ও বের হতে গিয়েছে তখনি চাদরে টান অনুভব করেছে, সে মনে করেছে লাশ তাকে টেনে ধরেছে। আর এই ভয়েই সে হার্টফেল হয়ে মারা গেছে।
সকালে ব্রিটিশ পুলিশ আসলো এসে লাশ দেখে মদন কে গ্রেফতার করলো। মদন বললো, হুজুর মাই বাপ হামি খুন করিনাই, খুন ঐ লাশ করিয়াছে। কিন্তু পুলিশ তার কথা শুনলো না, বাদলের খুনের দায়ে তাকে গ্রেফতার করে হাজতে দিলো।
যথাসময়ে বিচার হলো বিচারে প্রমান হলো মদন বাদল কে রাগের বসে খুন করেছে। মদনের ফাঁসির অর্ডার হলো। মদন বার বার বললো মাই বাপ হামি খুন করি নাই, লাশ খুন করিয়াছে, কিন্তু তার কথা কেউ শুনলো না। যথাসময়ে মদনের ফাঁসি কার্যকর হলো। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে মদন বললো হামি খুন করিনাই লাশ খুন করিয়াছে। কিন্তু তার ফাঁসি কার্যকর হলো।
এখনো এখানে মাঝে মাঝে শোনা যায় আমি খুন করিনাই, লাশ খুন করিয়াছে।
আমি মন দিয়ে লোকটির কথা শুনছিলাম।
লোকটি বলল, বাবু বৃষ্টি কমিয়া গিয়াছে চলিয়া যান। আমি বললাম যাবো, কিন্তু আপনি বললেন আপনি ডোম, আপনার নাম কি? এবার লোকটি হা হা হা করে হেসে উঠলো, আমার গা ঠান্ডা হয়ে গেলো। লোকটি যেই আমার দিকে ঘুরে গায়ের চাদর সরালো দেখলাম একটা কংকাল বিড়ি টানছে। সে আমার সামনে এসে বললো, হামি মদন বাবু, হামি খুন করিনাই বাবু লাশ খুন করিয়াছে।
এরপর আমি আবিষ্কার করলাম আমি হাসপাতালের বেডে। আমাকে সবাই বললো আমি অজ্ঞান হয়ে লাশ কাটা ঘরের বারান্দায় পড়ে ছিলাম। কয়েকজন লোক আমাকে দেখে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আমি ঘটনাটি সবাইকে বললাম। সবাই বললো আমার দৃষ্টি ভ্রম রোগ হয়েছে। রেস্ট নিলে ঠিক হয়ে যাবে। কেবিন থেকে সবাই চলে গেলো। হঠাৎ দেখি দরজার বাইরে কে দাঁড়িয়ে আছে। আমি বললাম কে ওখানে? মুখ ভেতরে ঢুকিয়ে বললো হামি মদন আছি বাবু, হামি খুন করিনাই লাশ খুন করিয়াছে, বলেই চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। সঙ্গে সঙ্গে আমি আবার জ্ঞান হাঁরাইলাম।।
জানো আজকাল
কোনকিছুতেই যেন আর
মন বসে না!! বারে বারে শুধু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া সেই পুরনো স্মৃতির হাওয়া বয়ে যায় আমার
শুন্য হৃদয়ে।তোমার সেই ভূবন ভোলানো হাসি-মাখা চাঁদ বদনের দৃশ্যপট চোখের সামনে প্রতি মূহুর্তে ভেসে উঠে।তোমার সাথে কাটানো প্রতিটা আবেগঘন মূহুর্তের
মায়া আমি এখনো কাটাতে পারিনি।জানিনা কখনো পারবো কিনা??আচ্ছা তোমার কি এসব মনে পড়ে??
তোমার মনে আছে? আমাকে একটি লাল গোলাপ দিয়েছিলে!সেটি এখনো আমি সযত্নে বইয়ের
ভাজে রেখে দিয়েছি।এতদিন পর হয়তো তুমি সেটা চিনতে পারবে না।সেটার আগের রুপ
যে আর নেই!!তবে আমি কিন্তু সেই ফুলটির গন্ধ এখনো পাই।যতবার ফুলটা স্পর্শ
করি কেন যেন মনে হয় তোমাকেই স্পর্শ করি। ফুলের গন্ধের সাথে তোমার শরীরের
গন্ধের অনেক মিল খুঁজে পাই।
জানি কিসব আবোল-তাবোল বকছি।তোমার সাথেই যত কথা বলতে পারতাম।এখন আর
ততটা পারি না।কিছু বলতে গেলেই কথা খুঁজে পাই না।তুমি কি যেতে যেতে আমার
শব্দগুলোও নিয়ে গেলে?আচ্ছা,তুমি কি এখনো বৃষ্টি দিনে আমার কল্পনার আহ্লাদী
নায়িকাদের মত
বৃষ্টি বিলাস করো?পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে কি এখনো মধ্যরাতে ছাদে শ্বেত কাপড়ে অবস্থান করো?শিশির ভেজা ঘাসে কি খালি পায়ে হাঁটো?
আমারও খুব ইচ্ছে করে শীতের সকালে তোমায় নিয়ে খালি পায়ে তোমার হাতটি ধরে শিশির ভেজা ঘাস পদদলিত করবো।আর তুমি উষ্ণতা খুঁজতে গিয়ে আমার বুকে মুখ লুকাবে।।
আর তোমার সাথে বৃষ্টি বিলাস করা?সেতো আমার মনের কোণে লুকানো সঞ্চিত ইচ্ছা।যার অপেক্ষা আমি আজো করি।।অনেক অভিমান হয়তো আমার বিপরীতে তুলে রেখেছো। কিছুটা ঘৃণাও হয়তো থাকতে পারে!! আমারও কিন্তু অনেক
কষ্ট জমা হয়ে আছে। কিন্তু সেটা তখন আর প্রকাশ করি না, কষ্টকে লুকিয়ে রাখতে
শিখেছি।মাঝে মাঝে ভাবী আবার হয়তো কোন এক স্বপ্নিল ভবিষ্যতে আমরা আবার
একত্রিত হব।
যেখানে পুরনো ক্ষতগুলো আর বিরাজমান থাকবে না!
যেখানে তুমি-আমি মিলে গড়বো কোন কল্পরাজ্যের স্বপ্নিল নগরী।।
📝সুমন তালুকদার
(প্রাপ্তি প্রিন্ট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত লেখা থেকে নেওয়া)
আমি ভেবে ভেবে একটি জায়গায় এসে স্থির হতে পেরেছি । এখন নিজেকে আমি শতভাগ সুখি মনে করি ।সারাটা জীবন সুখের পিছনে ছুটতে ছুটতে আমি হয়রান হয়ে পড়েছিলাম ।ক্লান্ত, শ্রান্ত ,নিস্তেজ , নির্জিব হয়ে পড়েছিলাম !
এক সময় জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা এসে পড়েছিল ! মৃত্যুর জন্য ও প্রস্তুত ছিলাম ।
এতদিন কি বোকাটাই না ছিলাম ! তুচ্ছ কিছুর জন্য মরে যেতে চাইতাম ।তা ঠিক যে আবেগী মানুষেরাই বেশী কষ্ট পায় ছুতোয় নাতায় । মরে যেতে চায় যখন তখন ।আমি এসব তুচ্ছতাকে এখন জয় করেছি ।ধীরে ধীরে নিজেকেই নিজে ধরে ধরে বুঝিয়েছি , জীবনকে বুঝতে শিখেছি ।
যে কোন অবস্তায় প্রতিকূলতাকে জয় করে বেঁচে থাকার মধ্যে যে আনন্দ আর অনাবিল সুখ তা আর অন্য কিছুতে নেই।
ধরুন আপনার প্রেমিক /প্রেমিকা আছে
আপনার স্বামী / স্ত্রী আছে , আপনার ছেলে, মেয়ে আছে , ভাই/ বোন ,আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব কত জন আছে । আপন আছে , পর আছে ।
তাদের পিছনে আপনি কখনো ছুটবেন না । কারণ তারা সবাই আলাদা স্বত্বা । এরা কেউ আপনার আয়ত্বে বা অধীনে নয় ।এরা কেউ আপনার মনের মত নয় বলে আপনি দুঃখে মরে যাবেন না ।
এই পৃথিবীতে কেউ কারো মনের মত হয়না ।একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হতে পারে । এই সময় টা চলে গেলে খুব কাছের মানুষ বদলে যায় ।এই বদলে যাওয়া দেখে আপনি কেঁদে কেটে অস্থির হবেন না ।
সারাদিন মন খারাপে ডুবে থাকবেন না ।কারণ পৃথিবীতে কিছু অলিখিত নিয়ম আছে এরমাঝে স্বার্থপর হয়ে উঠা একটা ! কিন্তু সবাই এই নিয়মে গা ভাসাতে পারেনা ।তো আপনি কি করবেন ? আপনার নিজের আয়ত্বে যা আছে তার গভিরে ডুব দেন। যেমন গানের ভিতরে , পড়ার ভিতরে , আবৃত্তি শুনেন ইচ্ছে হলে শিখেন , অবসরে নিজের মনের কথা ডায়রীতে লিখে রাখেন । ঘুড়তে বেড়িয়ে পড়েন ।
গাছ লাগান , নিজের হাতে লাগানো গাছে যখন ফুল , ফল ধরবে এত সুখি হবেন , এত সুখি হবেন যে ভাবতেই পারবেন না ! এত অল্পতেই এতটা সুখের মালিক হওয়া যায় ।
এমন অনেক কিছু আছে যা আপনার নাগালের ভিতরে , আপনি নিজে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন ।এমন কিছুর পিছনে ছুটবেন না যা আপনার নিয়ন্ত্রন বা আয়ত্বের বাইরে ।
নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন সব কিছু বাদ দিয়ে ।নিজেকে সময় দিন নিজে সুন্দর করে সাজুন ।নিজেকে নিজেই দেখে মুগ্ধ হোন ।নিজের সৌন্দর্য্যের চর্চা করুন । নিজের হাত পায়ের যত্ন নিন ।ডিজাইনার পোষাক পরুন । যেন নিজেকে নিজে দেখে ওয়াও বেরিয়ে আসে আপন মনে ।
এভাবেই আপনি অল্প অল্প করে নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন ।নিজের জন্য আলাদা একটা জগৎ তৈরী করুন । নিজে ভালো থাকার জন্য । আর হ্যাঁ উজার করে শুধু নিজেকেই ভালোবাসুন । আপনি নিশ্চয়ই আপনাকে ঠকাবেন না ।
নিজেকে নিজে সম্মান করুন । একদম বিগলিত হয়ে পাপোষ হতে যাবেন না । আর কাউকে সে যা না ,ভালোবেসে তাকে নিজের চেয়ে বেশী সম্মান দিতে যাবেন না । আসলে সে অন্যের কাছে কিছুই না আপনার কাছে অনেককিছু ছিল আর এই অহংকারেই সে সমূলে বিনাশ হল !
সে ভেবেছে সব জায়গায় তার একি রকম ভাবে গ্রহণযোগ্যতা ! যার যতটুকু প্রাপ্য ততটুকুই তাকে দিতে হয় । কারণ সবাই সবকিছু ধারণ করতে পারে না ! আপনি তাকে বেশুমার ভালোবেসে অহংকার ও দুর্লভ ভাবের জন্ম দিয়েছিলেন তার ভিতর ।আপনি সাধারণ কে অসাধারণ করে তুলেছিলেন সীমাহীন ভালোবেসে !
তাই আপনি নিজে অহংকারী হয়ে উঠুন নিজেকে ভালোবেসে অন্যকে নয় ।কেউ কাউকে সুখি করতে পারেনা । সুখ আপনার নাগালের ভিতর । সুখি হওয়ার জন্য নিজেই যথেষ্ট কারো উপর নির্ভরশীল বা পরগাছা হয়ে নয় !
সুখ হল অন্তর্নিহিত ব্যাপার ।সব সময় সব অবস্থায় নিজেকে সুখি ভাবুন একদিন দেখবেন পোষা বেড়ালের মত সুখ আপনার পায়ে পায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে !
“আমি সবসময় নিজেক সুখী ভাবি, কারণ আমি কখনো কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করি না, কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করাটা সবসময়ই দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়"
(অনুকথন)
Shuvra Nilanjona