Sunday, July 4, 2021

শরীরের মেদ কমাতে জিরার উপকারিতা


শরীরের মেদ কমাতে জিরার উপকারিতা 


জিরার যে এত জারিজুরি তা কি জানেন? না না, রান্নার কথা বলছি না।ঝোলে-ডালে-অম্বলে,সবেতেই সে আছে। কখনও পাঁচফোড়নে, কখনও তেজপাতার সঙ্গে ফোড়ন দিতে, কখন শুধুই জিরাবাটা, কখনও আবার আদার
সঙ্গে একসঙ্গে বাটা।রান্নায় জিরার ব্যবহার নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। শুধুই যে রান্নায় সুগন্ধের জন্য জিরা ব্যবহার হয়, তা কিন্তু নয়। স্বাস্থ্যের
কথা ভেবেও আমরা রান্নায় জিরা দিই।

স্পাইসি এই মশালা যে আপনার শরীর থেকে বাড়তি মেদ ঝরাতেও ওস্তাদ, সে খোঁজ কি রাখেন? হাতের কাছে ক্যালেন্ডার থাকলে, জাস্ট দিনটি দেখে নিয়ে গোল্লা পাকান।

ধৈর্য ধরে ১৫টি দিন দেখুন। এর মধ্যে রোজ নিয়ম করে এক চামচ গোটা জিরা খেয়ে ফেলুন। একদিনও বাদ দেবেন না। তার আগে আর একটি কাজ আপনাকে করতে হবে।নিজের ওজন নিয়ে, লিখে রাখুন। ১৫দিন পর ফের ওজন নিন। নিজেই অবাক হয়ে যাবেন। কলা দিয়ে জিরা খেলেও ওজন ঝরবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গোটা জিরা খুব দ্রুত শরীর থেকে ওজন ঝরাতে সক্ষম।

শুধু যে চর্বি বের করে দেয়, তা কিন্তু নয়। একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে বের করে দেয়। ফলে, যারা ওজন কমানোর জন্য জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাচ্ছেন, একবার ১৫ দিনের জন্য জিরার ওপর ভরসা রাখতে পারেন। নিরাশ হবেন না। গবেষকরা বলছেন, জিরার মধ্যে রয়েছে থাইমল ও অন্যান্য কিছু
তেলের উপস্থিতি। যার কাজ হলো লালা নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে উত্তেজিত করা। যার ফলে খাবার ভালো হজম হয়। এ ছাড়াও জিরার গুণে
পরিপাকতন্ত্র ভালো কাজ করে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, হজমের গন্ডগোল হলে, জিরা দিয়ে চা খেয়ে দেখতে পারেন। উপকার পাবেন। এক গেলাস পানিতে এক চামচ জিরা দিন। ভালো করে ফুটিয়ে নিন। পানির রং লালচে হয়ে এলে, গ্যাস বন্ধ করে, পাত্রটি চাপা দিয়ে রাখুন। একদম ঠান্ডা হওয়া অবধি অপেক্ষা করুন। এই জিরা চা দিনে তিন বার খেলে, হজমশক্তি বাড়বে। পেটে ব্যথা কমবে। 
কী ভাবে জিরা খাবেন?
এক: একটা গেলাসে বড় চামচের দু-চামচ গোটা জিরা সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই পানি গরম করে, জিরা না ছেঁকে চায়ের মতো খান। মুখে গোট জিরা পড়লে, ফেলবেন না। চায়ের মতো কয়েক দিন পান করুন, দেখবেন ওজন কমছে।
দুই: যদি দেখেন, উপরের দাওয়াই আপনার ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করছে না, তা হলে দ্বিতীয় উপায়ের
আশ্রয় নিন। খাবারে জিরার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। দইয়ের সঙ্গেও জিরা খেতে পারেন। ৫ গ্রাম
দুইতে এক চামচ জিরা গুঁড়ো মিশিয়ে নিয়মিত খান।
ওজন নিশ্চিত ভাবেই কমবে। তিন: কয়েক চামচ মধু ও তিন গ্রাম জিরা গুঁড়ো এক গেলাস পানিতে ভালো
করে মিশিয়ে নিন। নিয়মিত এই মিশ্রণটি খান। স্যুপ তৈরি করে, এক চামচ জিরাগুঁড়ো মিশিয়ে খেলেও ভালো কাজ দেবে। চার: পাতিলেবু ও রসুনও ওজন ঝরাতে খুব ভালো দাওয়াই। গাজর ও অন্যান্য
সবজি সেদ্ধ করে নিয়ে, রসুন কুচি ও লেবুর রস ঢেলে দিন। তাতে কিছুটা জিরার গুঁড়ো মেশান। রোজ রাতে
খেয়ে, ম্যাজিক পরিবর্তন দেখুন। ১৫ দিনে পরেই বুঝতে পারবেন আপনার ওজন কমেছে।

 


মাংস রান্নার চার ধরণের রেসিপি




  মাংস রান্নার চার ধরণের রেসিপি


মাংস কে না পছন্দ করে আর যদি মাংস একটু অন্য ভাবে রান্না করা হয় তবে তো কথাই নেই। সব অঞ্চলের মাংস রান্নার ধরণ এক রকমের নয় । তাই আজ আমি চার অঞ্চলের চার ধরণের মাংস রান্নার রেসিপি আপনাদের জন্য দিলাম-----

★খুলনার চুই ঝালের খাসির মাংস ভূনা 

খাসির মাংস ১কেজি
আদা বাটা ১টেঃচামচ
রসুন বাটা ১টেঃচামচ
হলুদ গুঁড়া ২চা চামচ
মরিচ বাটা ১টেঃ চামচ
পেঁয়াজ বাটা ২টেঃ চামচ
পেঁয়াজ কুচি ১/২কাপ
জিরা বাটা ১চা চামচ
ধনে বাটা ১চা চামচ
চুই ঝাল ১০/১১পিস
শুকনা মরিচ ৮টি
জয়ফল বাটা অর্ধেকটি
গরম মসলা গুঁড়া ১চা চামচ
লবঙ্গ ৪/৫টি
এলাচ ৪/৫টি
দারুচিনি ২/৩টুকরা
তেল ১/২কাপ
লবণ স্বাদ মতো
তেজ পাতা ২/৩টি
#প্রণালী----চুলার পাত্রে তেল দিয়ে পেঁয়াজ বাদামি করে ভেজে আস্ত গরম মসলা তেজপাতা দিয়ে একটু ভেজে সব বাটা মসলা দিবো অল্প পানি দিয়ে কষিয়ে তেল উঠলে মাংস দিয়ে ভালো ভাবে নেড়ে ঢেকে রান্না করবো ১০মিঃ যখন দেখবো মাংসের উপর তেল উঠে এসেছে তখন চুই ঝাল , জয়ফল বাটা ,শুকনা মরিচ অল্প চিরে দিবো সব কিছু দিয়ে ভালো ভাবে নেড়ে সিদ্ধ হবার জন্য পরিমাণ মতো পানি দিয়ে ঢেকে রান্না করবো।মাংস সিদ্ধ হয়ে গেলে উপরে গরম মসলা গুঁড়া দিয়ে ভালো ভাবে নেড়ে নিবো।তার পরে গরম গরম পরিবেশ করবো এই মাংসে বেশ ঝাল হয় খেতে।

★নোয়াখালির গরুর মাংসের কালো ভুনা

#উপকরণ ------
গরুর মাংস ১কেজি
আদা বাটা ১টেঃ চামচ
রসুন বাটা ১টেঃ চামচ
পেঁয়াজ কুচি ১কাপ
পেঁপে বাটা ২ টেঃ চামচ
হলুদ গুঁড়া ১চা চামচ
মরিচ গুঁড়া ১টেঃ চামচ
জিরা বাটা ১চা চামচ
মেথি গুঁড়া ১/২চা চামচ
পোস্ত বাটা ১/২চা চামচ
কালো জিরা গুঁড়া ১চা চামচ
গোল মরিচের গুঁড়া ১চা চামচ
জয়ফল ও জয়ত্রী গুঁড়া ১চা চামচ
এলাচ ও দারুচিনি ৮/৯টি
তেজ পাতা ২/৩টি
শুকনা মরিচ ৩/৪টি
গরম মসলা গুঁড়া ১চা চামচ
সরিষার ও সয়াবিন তেল ৩/৪ কাপ
লবণ স্বাদ মতো
রসুন কুচি ১টেঃ চামচ
#প্রণালী------মাংস ভালো ভাবে ধুয়ে অর্ধেক পেঁয়াজকুচি ,আদা,রসুনবাটা,হলুদ,মরিচের গুঁড়া,পেঁপে বাটা,জয়ফল জৈয়ত্রীর গুঁড়া,পোস্ত বাটা,গোল মরিচের গুঁড়া,জিরা গুড়া,এলাচ দারুচিনি তেজপাতা ,গরম মসলা গুঁড়া অল্প তেল সব এক সাথে মাংসের সাথে মিশিয়ে ৩০মিঃ ঢেকে রাখে দিবো।এর পরে চুলায় তেল দিয়ে বাকি পেঁয়াজ দিয়ে বাদামি করে ভেজে মাখানো মাংস দিয়ে ভালো ভাবে নেড়ে ঢেকে রান্না করবো কিন্তু লক্ষ রাখতে হবে যেন লেগে না যায় এই ভাবে বাব বার নেড়ে দিতে হবে মাংসে তেল উঠে এলে কালো জিরা ,মেথি গুঁড়া , দিয়ে ভালো ভাবে নেড়ে ঢেকে রান্না করতে হবে মাংস সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে অল্প গরম পানি দেওয়া যাবে শেষ অন্য একটি পাত্রে সরিষার তেল দিয়ে তার মধ্যে শুকনা মরিচ ফালি ,রসুন কুচি দিয়ে বাদামি করে ভেজে রান্না করা মাংসে মেশাবো এবার মাংস মাখা মাখা করে ফেলবো ।এই মাংস মাখা মাখা থাকে।শেষে উপরে পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে পরিবেশন করবো।

★ সিলেটের সাতকরা দিয়ে গরুর মাংস 

#উপকরণ-----
গরুর মাংস ১কেজি
আদা বাটা ১টেঃ চামচ
রসুন কুচি ১টেঃ চামচ
হলুদ গুঁড়া ১চা চামচ
মরিচ গুঁড়া ১টেঃ চামচ
জিরা বাটা ১চা চামচ
ধনে বাটা ১চা চামচ
জয়ত্রী বাটা ১/২চা চামচ
ভাজা জিরা গুঁড়া ১চা চামচ
সাত করা (ফালি করে কাটা) ৮/৯পিস
এলাচ ও দারুচিনি ৬/৭টি
তেজপাতা ২/৩টি
কালো গোল মরিচ ৫/৬টি
তেল ১/২কাপ
কাঁচা মরিচ ৫/৬টি
লবণ স্বাদ মতো
#প্রণালী------ চুলার পাত্রে তেল দিয়ে তেজ পাতা ,এলাচ,দারুচিনি দিয়ে অল্প ভেজে পেঁয়াজ দিয়ে বাদামি করে ভেজে সব মসলা দিয়ে অল্প পানি দিয়ে ভালো ভাবে কষিয়ে মাংস দিবো এর পরে মসলার সাথে মাংস ভালো ভাবে মিশিয়ে ১০মিঃ ঢেকে রান্না করে মাংসের উপর তেল উঠে এলে আবার পরিমান মত গরম পানি দিয়ে রান্না করবো মাংস সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত তবে মাঝে মাঝে নেড়ে দিতে হবে ।মাংস প্রায় সিদ্ধ হয়ে এলে সাতকরা ,কাঁচা মরিচ দিয়ে আরো ১০মিঃ রান্না করে শেষ ভাজা জিরা গুঁড়া দিয়ে নামিয়ে নেবো।

★চট্রগ্রামের মেজবানি মাংস রান্না 

মাংস ও কলিজা ১কেজি
আদা বাটা ১টেঃ চামচ
রসুন বাটা ১/২টেঃ চামচ
জিরা বাটা ১চা চামচ
পেঁয়াজ বাটা ২টেঃ চামচ
বাদাম বাটা ১/২ টেঃ চামচ
নারকেল বাটা ১টেঃ চামচ
টেমটো কুচি ১/৪কাপ
হলুদ গুঁড়া ১চা চামচ
মরিচ বাটা ১/২টেঃচামচ
ধনে বাটা ১চা চামচ
জয়ফল ও জয়ত্রী বাটা ১চা চামচ
শাহি জিরা বাটা ১/২চা চামচ
গরম মসলা গুঁড়া ১চা চামচ
গোল মরিচ বাটা ১/২চা চামচ
পোস্ত বাটা ১/২চা চামচ
পেঁয়াজ কুচি ১/২কাপ
সরিষার তেল ১/২কাপ
এলাচ ও দারুচিনি ৬/৭ টি
তেজপাতা ২/৩টি
লবণ স্বাদ মতো
#প্রণালী------হলুদ,মরিচের গুঁড়া,টমেটো কুচি,গরম মসলা গুঁড়া,পেঁয়াজ কুচি, তেল বাদে সব মসলা দিয়ে মাংস ৩০মিঃ মাখিয়ে রেখে দিবো।চুলার পাত্র তেল দিয়ে আস্ত গরম মসলা,তেজ পাতা দিয়ে ভেজে পেঁয়াজ দিয়ে বাদামি করে ভেজে হলুদ,মরিচ গুঁড়া দিয়ে অল্প পানি দিবো তার পরে কষিয়ে মাখানো মাংস দিয়ে ভালভাবে নেড়ে ঢেকে রান্না করবো ১০মিঃ এর পরে টমেটো কুচি দিতে হবে মাংসের উপরে তেল উঠে এলে পরিমার মতো পানি দিয়ে মাংস সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করবো শেষে গরম মসলা গুঁড়া,কাঁচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করবো।


 

রোকসানা সিদ্দিক এর লেখা কবিতা "বৃষ্টিভেজা মঞ্জুকেশিনী"

 


বৃষ্টিভেজা মঞ্জুকেশিনী

-----রোকসানা সিদ্দিক  


ক'দিন ধরেই চলছিলো রৌদ্র ছায়ার মিছিল,

জৈষ্ঠ্যের কাঠফাটা রোদে কাকেদের হাহাকার শুনেছি; 

অভিমানে মুখ লুকিয়েছে চাতক পাখির দল।

এমনই সময় আষাঢ়ের আগমনী বার্তা নিয়ে 

চারিদিকে তুললো শোরগোল । 

প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে-

ঝরঝর নূপুরের ছন্দতালে

দূর গগনের মেঘরাজ্য থেকে নেমে এসে 

ঝরে পড়লো ধরণীতে।

বিশ্বভূবন লুটাতে চেয়ে  

অঝোর ধারায় নেমে এলো আষাঢ় ঢল;

মেঘমালার এই ছন্দিত স্পর্শ বড়ই মধুর!

ধুয়ে মুছে দেয় জরা, আবর্জনা, খরা-

আর তৃষিত তপ্ত বালুকাময় ধরণী;

দখিনা পবনে সুরভী দোলানো নিটোল প্রেমে

ছুঁয়ে দেয় প্রেমিকার ললাট, চিবুক ও তপ্ত হৃদয়!

সুরহীন প্রাণকে সুরের মূর্ছনায় ভরিয়ে দেয় এ বর্ষা।

ভিজিয়ে দেয় শাড়ীর আঁচল আর আর নগ্ন দুটো পা। 


এত সব আনন্দেও তোমার শূন্যতা আজ

চারদিকে বিরাজমান!

রূপকথা হারিয়েছে-

ডানা মেলে ওড়ার আকাশটুকু।

হারিয়েছে আধভেজা তুমি আমি

নগ্ন পায়ে হেঁটে চলার পথ!


আবারও আষাঢ় এসেছে 

আসোনি তুমি-

হাতে নিয়ে বৃষ্টিভেজা মঞ্জুকেশিনী।


শব্দার্থ: মঞ্জুকেশিনী = কদমফুল

Saturday, July 3, 2021

বাংলা ভাষার অগ্রযাত্রা নিয়ে লিখেছেন তাপস বিশ্বাস

 

বাংলা ভাষার অগ্রযাত্রা

তা প স বি শ্বা স

.
মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হলো ভাষা।এটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়।বহমান নদীর মতো চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এগিয়ে চলে সামনের দিকে।অনেক ভাষা কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।আবার অনেক ভাষা স্ব-মহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।ভাষার স্থায়িত্ব মূলত নির্ভর করে সাধারণ মানুষ ভাষাটি কতোটা চর্চা করছে তার উপর। ভাষাবিদদের হিসাব অনুযায়ী পৃথিবীর মোট ভাষার সংখ্যা প্রায় ৮০০০। 'এথনোলগ-দ্য ল্যাংগুয়েজেস অব দ্য ওয়ার্ল্ড' নামের ভাষা সংক্রান্ত একটি প্রকাশনার ১৯৯৯ সালের জরিপ অনুযায়ী পৃথিবীর ভাষার সংখ্যা প্রায় ৬০০০।তবে বর্তমানে পৃথিবীতে প্রচলিত ভাষা আছে প্রায় ৩৫০০-এর উপরে।ভাষাভাষী জনসংখ্যার বিবেচনায় বাংলা ভাষার স্থান বিশ্বে চতুর্থ।বিশ্বের প্রায় ত্রিশ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে।বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের সরকারি ভাষা বাংলা।এছাড়া ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দীপপুঞ্জের অন্যতম ভাষাও বাংলা।ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্য ও পাকিস্তানের করাচীর দ্বিতীয় সরকারি ভাষা হলো বাংলা।২০০২ সাল থেকে সিয়েরা লিওনের একটি অন্যতম সরাকারি ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।অনেক বাধা পেরিয়ে, অনেক রক্ত গায়ে মেখে বাংলা ভাষা আজকের অবস্থানে এসেছে।
.
বাংলা ভাষার উদ্ভবের সুনির্দিষ্ট সময় নির্ণয় করা বেশ কঠিন। বাংলা ভাষার শিকড় নিহিত আছে মূলত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষায়।এ-ভাষায় কথা বলে এমন কিছু মানুষ ভারতবর্ষে আসেন বহুকাল আগে।তাদের মুখের ভাষা একসময় মাগধি প্রাকৃতে পরিবর্তিত হয় এবং পরবর্তীতে মাগধি অপভ্রংশ পার হয়ে ৯০০-১০০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ভারতীয় আর্যভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়।উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৩৫০), মধ্যবাংলা (১৩৫০-১৮০০) এবং আধুনিক বাংলা (১৮০০-বর্তমান)।
.
চর্যাপদকে বাংলা ভাষার প্রাচীন নিদর্শন বলা হয়ে থাকে।চর্যাপদের সময়কাল নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।কারও মতে খ্রিস্টীয় ৭ম-১০ম শতক।আবার কারও মতে খ্রিস্টীয় ৮ম-১২শ শতক।তবে এ-বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই যে, চর্যাপদ রচিত হয়েছিল পাল আমলে।১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ উদ্ধার করেন।এতে ৫০টির মতো কবিতা ও গান রয়েছে।এগুলো মূলত সমাজের সাধারণ মানুষের সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনার উপর ভিত্তি করে রচিত।চর্যাপদের ভাষা স্থায়িত্ব লাভ করার আগেই ভারতের কর্ণাটক থেকে আগত সংস্কৃতভাষী সেন শাসকেরা বাংলা ভাষা চর্চা নিষিদ্ধ করেন।তাদের ভয়ে সমাজের অভিজাত লোকজন বাংলা ভাষা চর্চা করা বাদ দিলেও সাধারণ মানুষ কখনো বাংলা ভাষার চর্চা বন্ধ করেনি।১২০৩ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির মাধ্যমে সেন আমলের অবসান হয়।মানুষ আবার বাংলা ভাষা চর্চা করার সুযোগ পায়।তবে ব্যক্তিজীবনে ব্যবহৃত হলেও এ-সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনো সাহিত্য বাংলা ভাষায় রচিত হয়নি।
.
প্রাচীন বাংলার পরেই চলে আসে মধ্য বাংলা বা মধ্যযুগ।বাংলা ভাষার অগ্রযাত্রায় মধ্যযুগের অবদান অপরিসীম।
হাজি শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে বাংলাভাষী অঞ্চলকে একত্রিত করে 'সুবহি বাঙ্গালা' নাম দেন এবং এর অধিবাসীদের নাম দেন বাঙ্গালী।সেই থেকেই মূলত আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচিত।ভাষার অগ্রযাত্রা নির্ণয়ের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হলো সংশ্লিষ্ট ভাষায় রচিত সাহিত্যের অগ্রগতি।মধ্যযুগে বড়ু চণ্ডীদাস রচনা করেন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'(১৩৫০) কাব্য, পরে শাহ মুহাম্মদ সগীর রচনা করেন 'ইউসুফ জুলেখা' (১৩৮৯-১৪১০)।পরবর্তীকালে মালাধর বসু, জৈনুদ্দীন, বিজয় গুপ্ত, কৃত্তিবাস প্রমুখ সাহিত্যিকগণ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন।পাঠান সুলতানদের শাসনামালে (১৩৩৮-১৫৭৫) বাংলাভাষা আরও এগিয়ে যায়।এরপর মোঘল আমলে সৈয়দ সুলতান, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, আব্দুল হাকিম, দৌলত উজির বাহরাম খান, সৈয়দ আলাওল প্রমুখ সাহিত্যিকগণ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন।এ-সময় বাংলাভাষায় অনেক বিদেশি শব্দ সংযুক্ত হয়।মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে শুধু কাব্য সাহিত্যই পাওয়া যায়।
.
মধ্যযুগ মূলত বাংলা ভাষার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দেয়।বাঙালি জাতির স্বীকৃতি ও পরিচিতি লাভ,বাংলা শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধকরণ এবং লিপিপদ্ধতি প্রনয়ণ এ-সময়কালের উল্লেখযোগ্য অবদান। বাংলা শব্দভাণ্ডারের প্রধান উপাদান সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত তৎসম, তদ্ভব ও অর্ধতৎসম শব্দ।সেই সাথে আছে অজস্র দেশি শব্দ, যেগুলি হয়তো দ্রাবিড়, অস্ট্রিক বা ভোটবর্মী ভাষা থেকে এসেছে।এছাড়াও আছে প্রচুর ফারসি, আরবি, ইংরেজি, পর্তুগিজ এবং অন্যান্য বিদেশি শব্দ।বিভিন্ন সময়ে বাংলাভাষী অঞ্চল বিদেশিদের দ্বারা শাসিত হওয়ায় বাংলা ভাষায় এসব বিদেশি শব্দ সংযুক্ত হয়েছে।সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের 'বাঙ্গালা ভাষার অভিধান'-এর মোট শব্দের পরিসংখ্যান নিয়ে দেখেছিলেন যে, তাতে তদ্ভব ৫১.৪৫%, তৎসম ৪৪%, ফারসি-আরবি ৩.৩০%, ইংরেজি-পর্তুগিজ ইত্যাদি ১.২৫%।অবশ্য এ-পরিসংখ্যান থেকে ব্যবহারিক (কথ্য ও লেখ্য) কোনো প্রকৃত ছবি পাওয়া যায় না।বাংলালিপি পদ্ধতি এসেছে মূলত প্রাচীন ভারতীয় ব্রাক্ষ্মীলিপির বিবর্তিত রুপ কুটিল লিপি থেকে।পরবর্তীতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় লিপিপদ্ধতি আদর্শায়িত হয়।
.
উনিশ শতকে শুরু হয় আধুনিক যুগ।বাংলা ভাষায় রচিত গদ্যের সূচনালগ্ন বলা যায় এ-সময়টিকে। খ্রিস্টধর্ম প্রচারকদের প্রচেষ্টায় বাংলায় প্রথমবারের মতো গদ্য-ভাষার কার্যকর ব্যবহার শুরু হয়।১৮০১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর তার প্রধান উইলিয়াম কেরি ও তাঁর সহযোগী বাঙালি পণ্ডিতদের প্রচেষ্টায় বাংলা ভাষায় সৌষ্ঠবপূর্ণ গদ্য-সাহিত্য রচনার পথ প্রশস্ত হয়।পরবর্তীতে রাজা রামমোহন রায়, ভবানীচরণ বন্দোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মধুসূদন দত্ত, মীর মোশাররফ হোসেন প্রমুখের অনবদ্য প্রচেষ্টায় বাংলা ভাষার উৎকর্ষ সাধিত হয়।১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমোহন রায় 'গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' নামক একটি ব্যকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।এই মহান সমাজসংস্কারক বাংলা ভাষায় গতিশীলতা ও আধুনিকতা নিয়ে আসার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।এ-সময়ের আরেকজন দিকপাল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলালিপি পরিমার্জিত করেন।বাংলা ভাষাকে একটি পরিপূর্ণ ভাষায় পরিণত করার জন্য তাঁর অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।রাজা রামমোহন রায় গদ্যের যুগোপযোগী কাঠামোগত দিকটি নির্মাণ করেন এবং এতে প্রাণ সঞ্চার করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। 
.
বিশ শতকে বাংলা ভাষা উন্নীত হয় অনন্য উচ্চতায়।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, প্রমথ চৌধুরী, মোহিতলাল মজুমদার, জীবনানন্দ দাস, জসীম উদ্দীন, ফররুখ আহমদ প্রমুখ কবি-সাহিত্যিকগণ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে অনেক অনেক সমৃদ্ধ করেন।১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পাওয়ায় বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে। বিশ শতকে বাংলা ভাষার ইতিহাসে অন্যতম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি এবং ইউনেস্কো কতৃক ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করা।ভাষা আন্দোলনই মূলত বাঙালির অধিকারবোধ তীব্রভাবে জাগিয়ে তোলে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
.
বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলা ভাষার অগ্রযাত্রা চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান জঘন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় ঘোষণা করন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা'।উপস্থিত ছাত্র-জনতা এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পল্টন ময়দানের জনসভায় একই ঘোষণা প্রদান করেন।এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে।নতুনভাবে গঠিত হয় 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'।২১ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট এবং ঐদিন রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা, সমাবেশ, মিছিল এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।কিন্তু ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যায়।পুলিশ মিছিলের উপর গুলিবর্ষণ করলে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ অনেকে শহিদ হন, অনেকে আহত হন।এ-খবর ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে।ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' শীর্ষক কবিতা এবং কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ 'স্মৃতির মিনার' কবিতাটি রচনা করেন।আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচনা করেন, 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি,' সঙ্গীতশিল্পী আব্দুল লতিফ রচনা ও সুর করেন, 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়'।ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক, জহির রায়হান রচনা করেন 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি।মূলত বাঙালিই একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে।অবশেষে পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় এবং ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।এটা বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতির জন্য অনন্য এক অর্জন।
.
বিশ শতকে বাংলা ভাষার গতিরোধ করার চেষ্টা হলেও এ-শতকেই মূলত বাংলা ভাষা সবচেয়ে বেশি বিকশিত হয়েছে।বিশ শতকের সাহিত্যের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করলেই ভাষার অগ্রযাত্রা সম্পর্কে সম্যক ধারনা লাভ করা যায়।বাংলা ভাষায় রচিত ছড়া, কবিতা, গান, প্রবন্ধ, নাটক, গল্প, রম্যরচনা, উপন্যাস সুগন্ধী ফুলের মতো প্রস্ফুটিত হয়ে বাংলা ভাষা নামক বৃক্ষকে চিরঞ্জীব করে তুলেছে।বিশ শতকের প্রথমার্ধে তৈরিকৃত ভিত্তির উপর দ্বিতীয়ার্ধের কবি-সাহিত্যিকগণ নান্দনিক চুনকাম করেছেন।সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, অন্নদাশংকর রায়, বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে, বিমল মিত্র, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, এস ওয়াজেদ আলী, কাজী মোতাহার হোসেন, বেগম সুফিয়া কামাল, আবু ইসহাক, জহির রায়হান, শওকত ওসমান, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, সেলিনা হোসেন, নির্মলেন্দু গুণ, আলাউদ্দিন আল আজাদ, বিপ্রদাশ বড়ুয়া প্রমুখ কবি-সাহিত্যিকদের হাতের ছোঁয়ায় বাংলা ভাষা উপহার দিয়েছে অসাধারণ সব সাহিত্যকর্ম।জীবনের প্রতিটি স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে এ-শতকে।বাংলা ভাষার অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান।
.
বিপুলসংখ্যক জনসংখ্যা দ্বারা চর্চিত একটি সাবলীল ভাষার গতি কখনো রোধ করা যায় না।বাংলা ভাষা তার উৎকৃষ্ট প্রমান।শত বাধা পেরিয়ে বাংলা ভাষা এগিয়ে চলেছে এবং অনন্তকাল গতিশীল থেকে অনুভূতি প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হয়ে থাকবে অগণিত মানুষের, উপহার দিয়ে যাবে নন্দিত সাহিত্য।
.
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক ভোরের কাগজ।


 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 


ফারজানা রহমান শর্মী লিখেছেন কুষ্টিয়াকে নিয়ে তার নানা স্মৃতি

 

 

স্মরণে কুষ্টিয়া

ফারজানা রহমান শর্মী 


আমার জন্ম কুমারখালী দাদা বাড়ীতে কিন্তু বেড়ে ওঠার পুরোটাই কুষ্টিয়াতে।স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ের পুরোটাই কেটেছে কুষ্টিয়াই।আমাদের শৈশবের কুষ্টিয়া যে কী সুন্দর ছিল!মিশন স্কুলে পড়ার সময়টাতে আমাদের এক রিক্সাওয়ালা দাদু ছিলেন তার রিক্সাতেই আমি আর আমার বড় আপু একসাথে স্কুলে যেতাম।পুরো সবুজে ঢাকা ছিল কুষ্টিয়া তখন।যে দিকেই তাকানো যেত শুধু সবুজ আর সবুজ।আমাদের বাড়ির ছাদটাতে দাঁড়ালে মনে হতো মাথা উঁচু করে থাকা নারকেল গাছগুলো একটা সবুজ বেষ্টনিতে ঘিরে রেখেছে পুরো শহরটাকে।


এতো নিরিবিলি ছিল সেই সময়টাতে কুষ্টিয়ার রাস্তাগুলো।সেই সময়ের কুষ্টিয়া যারা দেখেছে তারা জানে তখন কুষ্টিয়ার জনসংখ্যা ছিল খুব কম আর খোলা জায়গা ছিল অনেক বেশী,আর ছিল বিশাল বড়,বড় পুকুর।কুষ্টিয়ার আদি মিষ্টির  দোকানগুলো সেই সময়েও খুব খ্যাতিমান ছিল।এতো মজার দৈ,মিষ্টি পাওয়া যেত!


পুজোর সময়টাতে হিন্দু বাড়িগুলোতে খুব আনন্দ হতে দেখেছি।ঈদ,শবে বরাতে মুসলিমদের ভেতরে দেখেছি শান্তিপূর্ণ আনন্দ আয়োজন।ছোট্ট শহর,লোক সংখ্যা কম কিন্তু সব কিছুতেই একটা ছিম,ছাম ভাব ছিল।আর আমের সীজনে আম খাওয়ার মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।বাসায় এতো আম আনতো আব্বু।


আজকাল কুষ্টিয়া গেলে সেই শান্তি,শান্তি ব্যাপারটা আর চোখে পড়ে না।বিশাল বিশাল বড়,বড় দালানগুলো কুষ্টিয়ার মায়াভরা সবুজ বেষ্টিনীকে ঢেকে দিয়েছে অনেক আগেই।সকালে ঘুম থেকে উঠলে পাখীর কলকাকলীর শব্দও তেমন কানে আসে না।কুষ্টিয়ার বিখ্যাত কুলফি আর তিলের খাঁজার স্বাদটাও যেন ঠিক আর আগের মতো নেই।রবীন্দ্রনাথ,লালন আর মীর মোশারফ হোসেনের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়ার প্রতি মনের টানটা অবশ্য সেই আগের মতোই আছে।শত মাইলের দূরত্বে থেকেও যে শহরটা মনের মাঝে জেগে থাকে সারাক্ষণ তার নাম”কুষ্টিয়া”।

লাশ কাটা মোড়ের গল্প লিখেছেন হাসানুল হক সোহাগ

 


লাশ কাটা মোড়ের গল্প

  সোহাগ হক। 

লাশ কাটা মোড়। নাম শুনলেই কেমন ভয় ভয় লাগে। গায়ে শিহরন জাগে। আমাদের কুষ্টিয়ার সরকারী কলেজ এর পূর্বে লাশ কাটার মোড় অর্থাৎ পুরাতন কাটাই খানার মোড় অবস্থিত। এখানে ব্রিটিশ আমলের একটি পুরানো ভাঙা চোরা লাশ কাটা ঘর আছে। যেখানে আগে অপমৃত্যু হলে লাশ ময়নাতদন্ত করা হতো। এখন এই ঘরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। এই ঘরটির পাশ দিয়ে যেতে এখনো অনেক মানুষ ভয় পায়।

কারন, এই লাশকাটা ঘরের একটা ভৌতিক গল্প প্রচলিত আছে। এই ঘটনাটি ব্রিটিশ আমলের দুজন ডোমের গল্প। তাদের নাম মদন লাল আর বাদল লাল। 

আমি প্রায় প্রতিদিনই ঐ ঘরের পাশ দিয়ে যায় আর ভাবি এই ঘরটির যে কাহিনী প্রচলিত আছে সেটা লিখবো। কিন্তু কখনোই সম্পুর্ন তথ্য না পাওয়ায় লেখা হয়নি। 

বর্ষার এক দিনে হঠাৎ বৃষ্টি আসলে আমি লাশ কাটা ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নিলাম। তখন বিকাল আকাশে প্রচুর মেঘ অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে। আমার একটু ভয় ভয় করতে লাগলো। হঠাৎ দেখি একটা লোক চাদর গায়ে জড়িয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো। মুখটি ঢাঁকা বিড়ি খাচ্ছে। আমি বললাম আপনি কে?  জবাব এলো, হামি ডোম আছি বাবু, লাশ কাটি। শুনে আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। এই অসময়ে লাশ কাটা ঘরের বারান্দায় আমি আর ডোম একসাথে দাঁড়িয়ে আছি। 

আমি তাকে আস্তে করে জিজ্ঞাসা করলাম, আচ্ছা আপনি মদন আর বাদল সম্পর্কে কিছু জানেন? সঙ্গে সঙ্গে সে বললো জানি বাবু।ওরা সেই ব্রিটিশ আমলে ডোম ছিলো বাবু। ওদের একজন এই ঘরে মরেছিলো, আর এক জনের ওকে মারার জন্য ফাঁসি হয়েছিলো। 

আমি তখন অতি উৎসাহী হয়ে তাকে বললাম, বলুনতো কি হয়েছিলো সেদিন। 

তখন তিনি বলতে থাকলেন, বললেন সে বাবু ব্রিটিশ আমল, এই ঘরের চারিদিকে শুধু বনজঙ্গল, এখানে বাঘ ভালুক ঘুরতো। 

এইখানে লাশ কাটতো মদন আর বাদল ।

দুজনের মধ্যে কঠিন ভাব ছিলো। লাশ কাটার আগে একসাথে মাল মানে মদ খেয়ে আসতো। একদিন একটা লাশ আসলো সন্ধ্যায়। তখন লাশকাটা ঘরে ওরা লাশটি ঢুকিয়ে রাখলো। লাশটির মাথা ছিলো না। বিভৎস লাগছিলো। মদন বললো, দেখেছিসরে বাদল কেমন লাশ আছে, হামার ভয় লাগে রে। বাদল বললো, এতে ভয়ের কি আছেরে এত লাশ কাটিলাম, আর এতো এক গলা কাটা লাশ আছে, বলে হা হা করে হাসিলো। তা দেখে মদন বললো তুর ভয় করে না। বাদল বললো না। তাহলে একটা জুয়া খেলবি। 

বাদল বললো কি বলছিস। মদন বললো তু যদি আজ রাতে এই লাশের দিলে পেরেক ঠুকে দিস তাহলে বুঝবো তু বীর আছিস। বাদল বললো এটা কুনো ব্যপার হলো, কি বাজি ধরবি বল? মদন বলিলো যদি তু কাজটি করতে পারিস তুকে হামি কালকে চার বোতল মাল খাওয়াবো। বাদল বললো হামি রাজি আছি। তারপর তারা ঘরে লাশ ঢুকিয়ে ডোমপট্টিতে চলে গেলো।

মধ্যরাত চারিদিকে থমথমে। মাঝে মাঝে শেয়াল বাঘের ডাক। এর মধ্যে বাদল পট্টি থেকে বের হলো লাশকাটা ঘরের উদ্দেশ্যে। গায়ে একখানা চাদর জড়িয়ে হাঁটা শুরু করলো। তার ভয় লাগছিলো, কিন্তু চার বোতল মালের কথা মনে হতেই সাহস ফিরে পেলো। ঘরের তালা খুলতেই মানুষ পচা গন্ধ তার নাকে লাগলো। এখন তার মনে ভয় লাগলো, কারন সে একা। জঙ্গলের ভেতরে লাশ কাটা ঘরে সে একা। কোন রকমে কাঁপতে কাঁপতে সে লাশের কাছে পৌঁছালো, তারপরে হাতুড়ি আর একটা পেরেক বের করে লাশের বুকের উপরে পেরেক রেখে হাতুড়ি দিয়ে কাঁপতে কাঁপতে ঠুকে দিলো। তারপরে তারাতারি বের হতে যেয়ে কে যেনো ওকে টেনে ধরলো। আবার যেতে গেলো আবার টেনে ধরলো। তখনি সে মেঝেতে পড়ে গেলো বাঁচাও বলে, আর উঠলো না। 

সকালে মদন লাশ কাটা ঘরের কাছে যেয়ে দেখলো দরজার তালা খোলা। সে ভেতরে ঢুকে বাদল বলে ডাকতেই নিচে তাকিয়ে চমকে উঠলো, দেখলো বাদলের নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে আছে আর লাশের গায়ে চাদর সহ পেরেক ঢোকানো।মদনের বুঝতে বাকি রইল না যে বাদল লাশের গায়ে পেরেক মারতে যেয়ে চাদর সহ ঠুকেছিলো। যখনি ও বের হতে গিয়েছে তখনি চাদরে টান অনুভব করেছে, সে মনে করেছে লাশ তাকে টেনে ধরেছে। আর এই ভয়েই সে হার্টফেল হয়ে মারা গেছে। 

সকালে ব্রিটিশ পুলিশ আসলো এসে লাশ দেখে মদন কে গ্রেফতার করলো। মদন বললো, হুজুর মাই বাপ হামি খুন করিনাই, খুন ঐ লাশ করিয়াছে। কিন্তু পুলিশ তার কথা শুনলো না, বাদলের খুনের দায়ে তাকে গ্রেফতার করে হাজতে দিলো। 

যথাসময়ে বিচার হলো বিচারে প্রমান হলো মদন বাদল কে রাগের বসে খুন করেছে। মদনের ফাঁসির অর্ডার হলো। মদন বার বার বললো মাই বাপ হামি খুন করি নাই, লাশ খুন করিয়াছে, কিন্তু তার কথা কেউ শুনলো না। যথাসময়ে মদনের ফাঁসি কার্যকর হলো। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে মদন বললো হামি খুন করিনাই লাশ খুন করিয়াছে। কিন্তু তার ফাঁসি কার্যকর হলো। 

এখনো এখানে মাঝে মাঝে শোনা যায় আমি খুন করিনাই, লাশ খুন করিয়াছে। 

আমি মন দিয়ে লোকটির কথা শুনছিলাম। 

লোকটি বলল, বাবু বৃষ্টি কমিয়া গিয়াছে চলিয়া যান। আমি বললাম যাবো, কিন্তু আপনি বললেন আপনি ডোম, আপনার নাম কি? এবার লোকটি হা হা হা করে হেসে উঠলো, আমার গা ঠান্ডা হয়ে গেলো। লোকটি যেই আমার দিকে ঘুরে গায়ের চাদর সরালো দেখলাম একটা কংকাল বিড়ি টানছে। সে আমার সামনে এসে বললো, হামি মদন বাবু, হামি খুন করিনাই বাবু লাশ খুন করিয়াছে। 

এরপর আমি আবিষ্কার করলাম আমি হাসপাতালের বেডে। আমাকে সবাই বললো আমি অজ্ঞান হয়ে লাশ কাটা ঘরের বারান্দায় পড়ে ছিলাম। কয়েকজন লোক আমাকে দেখে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আমি ঘটনাটি সবাইকে বললাম। সবাই বললো আমার দৃষ্টি ভ্রম রোগ হয়েছে। রেস্ট নিলে ঠিক হয়ে যাবে। কেবিন থেকে সবাই চলে গেলো। হঠাৎ দেখি দরজার বাইরে কে দাঁড়িয়ে আছে। আমি বললাম কে ওখানে? মুখ ভেতরে ঢুকিয়ে বললো হামি মদন আছি বাবু, হামি খুন করিনাই লাশ খুন করিয়াছে, বলেই চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। সঙ্গে সঙ্গে আমি আবার জ্ঞান হাঁরাইলাম।।

কাব্য চিঠি "প্রিয় টুনটুনি"

 


প্রিয় টুনটুনি
আজ অনেকদিন হল তোমায় দেখিনা।তুমি কি এখনো আগের মতোই আছো?জেদী, অভিমানী,আহ্লাদী!!নাকি সময়ের বিবর্তনে বদলেছে তোমার চারিত্রিক উপাধি তোমার মনের অনুভূতি!!

জানো আজকাল কোনকিছুতেই যেন আর
মন বসে না!! বারে বারে শুধু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া সেই পুরনো স্মৃতির হাওয়া বয়ে যায় আমার
শুন্য হৃদয়ে।তোমার সেই ভূবন ভোলানো হাসি-মাখা চাঁদ বদনের দৃশ্যপট চোখের সামনে প্রতি মূহুর্তে ভেসে উঠে।তোমার সাথে কাটানো প্রতিটা আবেগঘন মূহুর্তের
মায়া আমি এখনো কাটাতে পারিনি।জানিনা কখনো পারবো কিনা??আচ্ছা তোমার কি এসব মনে পড়ে??

তোমার মনে আছে? আমাকে একটি লাল গোলাপ দিয়েছিলে!সেটি এখনো আমি সযত্নে বইয়ের
ভাজে রেখে দিয়েছি।এতদিন পর হয়তো তুমি সেটা চিনতে পারবে না।সেটার আগের রুপ যে আর নেই!!তবে আমি কিন্তু সেই ফুলটির গন্ধ এখনো পাই।যতবার ফুলটা স্পর্শ করি কেন যেন মনে হয় তোমাকেই স্পর্শ করি। ফুলের গন্ধের সাথে তোমার শরীরের গন্ধের অনেক মিল খুঁজে পাই। 

জানি কিসব আবোল-তাবোল বকছি।তোমার সাথেই যত কথা বলতে পারতাম।এখন আর ততটা পারি না।কিছু বলতে গেলেই কথা খুঁজে পাই না।তুমি কি যেতে যেতে আমার শব্দগুলোও নিয়ে গেলে?আচ্ছা,তুমি কি এখনো বৃষ্টি দিনে আমার কল্পনার আহ্লাদী নায়িকাদের মত
বৃষ্টি বিলাস করো?পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে কি এখনো মধ্যরাতে ছাদে শ্বেত কাপড়ে অবস্থান করো?শিশির ভেজা ঘাসে কি খালি পায়ে হাঁটো?
আমারও খুব ইচ্ছে করে শীতের সকালে তোমায় নিয়ে খালি পায়ে তোমার হাতটি ধরে শিশির ভেজা ঘাস পদদলিত করবো।আর তুমি উষ্ণতা খুঁজতে গিয়ে আমার বুকে মুখ লুকাবে।।
আর তোমার সাথে বৃষ্টি বিলাস করা?সেতো আমার মনের কোণে লুকানো সঞ্চিত ইচ্ছা।যার অপেক্ষা আমি আজো করি।।অনেক অভিমান হয়তো আমার বিপরীতে তুলে রেখেছো। কিছুটা ঘৃণাও হয়তো থাকতে পারে!! আমারও কিন্তু অনেক কষ্ট জমা হয়ে আছে। কিন্তু সেটা তখন আর প্রকাশ করি না, কষ্টকে লুকিয়ে রাখতে শিখেছি।মাঝে মাঝে ভাবী আবার হয়তো কোন এক স্বপ্নিল ভবিষ্যতে আমরা আবার একত্রিত হব।
যেখানে পুরনো ক্ষতগুলো আর বিরাজমান থাকবে না!
যেখানে তুমি-আমি মিলে গড়বো কোন কল্পরাজ্যের স্বপ্নিল নগরী।।

📝সুমন তালুকদার

(প্রাপ্তি প্রিন্ট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত লেখা থেকে নেওয়া)  

মেহরাজ হোসেন হিমেলের লেখা আত্ম মুকাভিনয়

 

আত্ম মুকাভিনয়

একটা কথা বলি, আপনার কাজ আপনাকেই করতে হবে। অন্য কেউ এসে করে দিবে না। এ পৃথিবীতে যদি ঐশ্বরিক কিছুতে বিশ্বাস করে থাকেন, তবে আপনি জেনে থাকবেন। প্রার্থনা সহ যাবতীয় ইতিবাচক কাজকর্ম আপনার হাত ধরেই করতে হবে। কারো দ্ধারা অন্য কারো পাপ পূন্য বিচার হয়না। শ্বাশ্বত ঐশ্বরিক বিষয়ে যদি এ হাল হয়ে থাকে তবে জাগতিক বিষয়ে "নিজের দ্ধারা করতে হবে" এ সংস্কৃতি কেন বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়? আপনার পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য আপনাকেই পেট পূজা করতে হবে। সারা পৃথিবীর মানুষ পেট পূরে উদরপূর্তি করলো আপনি থাকলেন ক্ষুধার্ত। লাভ নেই। খালি পেটে সেক্রিফাইজ মন বুঝলেও পেট বুঝবে না। বাসার সামনে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। তরুন তরুনী উদ্যাম নৃত্য করছে। মজা করছে। আপনি জানালার শিক দিয়ে দেখছেন। আপনার ভালো লাগছে। সত্যি কথা বলতে কি, এটা আপনার অর্ধেক ভালো লাগা। আলু সংকটে পড়েছে দেখে, পটল আলু দিয়ে মিশ্রিত ভাজির মতো। কারণ আপনি জানেন ঐ জানালার বাহিরে আপনি যেতে পারবেন না। আপনার আসলে সে সুযোগটাই নেই। আমি মনেপ্রাণে একটা কথা বিশ্বাস করি, মানুষ তার প্রতিটি কাজ করে তার স্বার্থের জন্য। সে যা করতে ব্যর্থ হয় এটা হয় তার সীমাবদ্ধতার কারণে, ভাগ্যের কারণে এবং পরিবেশগত কারণে। এই যে কারণ কেন্দ্রিক প্রতিবন্ধকতা তা কিন্তু কোন অন্য আরেকজন এসে দূর করে দেয় না। হয় সে বিধাতার সহায়তা ও ভাগ্যের জেরে পায়। অথবা কোন না কোন ভাবে কারণটাই থাকে না। কিছুই না হলে সে ব্যর্থ। কিন্তু, কোন মানুষ প্রত্যাশা ও কারণ-অকারণের প্রতিবন্ধকতা দূর করার ঝান্ডা হাতে বসে থাকে না। বড়জোর সার্পোট করতে পারে কিন্তু মূল কাজটা নিজেকেই করতে হবে। পরীক্ষা হবে এবং আপনাকে তা দিতেই হবে। কিভাবে দিবেন, তা আপনার ব্যাপার। এটার নীতি নির্ধারক আমরা কেউ না। 
আমি আমার জীবনে কিছু মানুষকে ভালোবাসি। তাদের আমি না ভালোবাসলেও তাদের চলবে। কিন্তু, আমি তাও বাসি কারণ ঠেকা আমার। কাউকে ভালোবেসে কষ্ট পেলে এক মুহুর্তের ভেতর আমি কঠিন রুপে আবির্ভূত হই। সেই পুরনো যুক্তি, দরকারটা আমার। আমি আঘাত পেলে আমি সম্ভাব্য সব ভাবে তা মোকাবেলার চেষ্টা করি কারণ প্রয়োজনটা আমার। আমার ঠেকা, আমার দরকার, আমার প্রয়োজন এবং আমাকে যা করতেই হবে তা অন্য কেউ করে দিবে এ অপেক্ষাতে থাকলে আমার অপ্রাপ্তি বাড়বে বৈ কমবে না। একটা কথা মনে রাখা উচিত আমাদের আমাদের সাফল্য, ব্যর্থতা, কারণ, অকারণ, প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির জিম্মাদার আমরা নিজেই। এর পরে যা আসবে তা নেহাৎই সম্ভাব্য পরিস্থিতি। পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর দৃশ্য রঙ্গিন পর্দাতে দেখে আমি অবশ্যই খুশি হবো। কিন্তু,সেখানে যাওয়ার খুশি আর দেখার খুশি এক না। পার্থক্য আছে। আমি যেতে পারবো না সেটা আমার ব্যর্থতা। আমাকে অন্য কেউ এসে নিয়ে যাবে এটা প্রত্যাশা করা এটা আমার জন্য লজ্জা। আমি ব্যর্থতার ভার বইতে পারলেও তুচ্ছ ভাবনার অযাচিত লজ্জা বইতে পারি না। জীবনে এটাই দর্শন হওয়া উচিত। আপনি কাউকে ভুলতে পারছেন না, পদক্ষেপ নিয়ে আটকে যাচ্ছেন এটা আপনার রেসপনসিবিলিটি। আপনি অপার হয়ে বসে আছেন অকস্মাৎ মনুষ্য গোত্রীয় আপনার সব ঠিক করে দিবে এটাকে বলে বোকামি। সিম্পল। 

মেহরাজ হোসেন (হিমেল)

Friday, July 2, 2021

সময়ের জনপ্রিয় লেখক দীপু মাহমুদের লেখা গল্প "উনিশ'শো একাত্তর"


উনিশশো’ একাত্তর

        দীপু মাহমুদ


১৯৭১ সাল। নভেম্বর মাসের শুরু। ভয়ংকর ঘুটঘুটে রাত। হাসান আর সঞ্জু ফিরে যাচ্ছে কাঞ্চনঝি গ্রামে। তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাম্প আক্রমণের পরিকল্পনা করেছে। আজ রেকি করতে গিয়েছিল। তোজাম্মেল হোসেন কলেজে পড়ান। যুদ্ধে যেতে পারেননি সেই দুঃখ তার আছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের তাঁর বাড়ি ব্যবহার করতে দিতে চেয়েছেন। হাসান আর সঞ্জু খুশি মনে তোজাম্মেল হোসেনের বাড়ি থেকে রওনা হয়েছে। আসার সময় তোজাম্মেল হোসেন তাদের খেয়ে আসতে বলেছিলেন। তারা খেয়ে আসেনি। এখন ক্ষুধা পেয়েছে। পেটে মোচড় দেওয়া ক্ষুধা। তারা হাঁটছে লম্বা খালের পাড় দিয়ে। ক্যাম্পে ফিরে যাবে। ক্যাম্প প্রায় ৭ মাইল দূরে। যেতে সময় লাগবে। আশপাশে খাওয়ার মতো কিছু আছে বলে মনে হচ্ছে না।
হাসান বলল, পাশের জমিতে দেখ টমেটো বা মূলা কিছু আছে কিনা। তুলে কাঁচা খাওয়া যাবে।
আশপাশের জমিতে সেরকম কিছু পাওয়া গেল না। ধান উঠানোর পর খাঁ খাঁ করছে জমি। আকাশ ঘন মেঘে ছেয়ে গেছে। যেকোনো সময় বৃষ্টি হতে পারে। অসময়ের বৃষ্টি। শীত পড়ে গেছে। এখন বৃষ্টি হওয়ার কথা না। এ বছর শীতে বৃষ্টি হচ্ছে। তাতে মুক্তিযোদ্ধাদের অপারেশনে সুবিধা হয়েছে। পাকিস্তানি সৈন্যরা মরুভূমির দেশের লোক। তারা বৃষ্টি ভয় পায়।
বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টি। সেইসঙ্গে দমকা বাতাস। বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে সূঁচের মতো বিঁধছে। ঠান্ডার জমে যাচ্ছে ওরা। উঁচু গাছগুলো প্রবল বাতাসে নুইয়ে পড়েছে।
হাসান বলল, এর ভেতর হাঁটব কেমন করে?
আশপাশে কোনো ইশকুল নাহয় মাদ্রাসা পাওয়া গেলে হতো।
আশপাশে কিছু নেই।
কড়কড় আওয়াজ করে বাজ পড়ল। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। সঞ্জু বলল, ওই দেখ সামনে মনে হচ্ছে বাড়ি।
ওরা দুজনে দৌড়ে বাড়ির ভেতর ঢুকে গেল। যেমন হুট করে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়েছিল তেমনি হুট করেই বন্ধ হয়ে গেল। এখন ঠান্ডা বাতাস বইছে।
হাসান আর সঞ্জু বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে আছে। ঘরের ভেতর থেকে ছুটে আসার দুপদাপ শব্দ হলো। কেউ একজন উচ্ছ্বসিত গলায় বলল, মা, দেখো এসেছে!
কিশোরী কণ্ঠ। চমকে উঠেছে হাসান আর সঞ্জু। এ বাড়ি তাদের অচেনা। চারপাশে ঘোর অন্ধকার। কিছু দেখা যাচ্ছে না। একজন কিশোরী বলছে, মা, দেখো এসেছে। এর মানে কী!
 যে দৌড়ে এসেছিল সে শান্তচোখে জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে। মাঝবয়সী এক নারী ঘরের দরজা খুলে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছেন। তার হাতে কূপিবাতি জ্বলছে। চোখে বিস্ময়। তিনি দরজার কপাট ধরে তাকিয়ে আছেন হাসানদের দিকে। হাসান বোঝার চেষ্টা করছে ঘটনা কী ঘটছে। সে এখনো ঘটনা বুঝে উঠতে পারেনি।
মাঝবয়সী সেই নারী বললেন, ঘরে উঠে এসো।
হাসান আর সঞ্জু ঘরে উঠে পড়ল। তিনি আগলে রাখা দরজার কপাট ছেড়ে দাঁড়ালেন। নরম গলায় বললেন, ভেতরে এসো বাবা।
ঘরের মেঝেতে মাদুর পাতা। তার ওপর খাবার সাজানো। হাসানকে বিভ্রান্ত দেখাচ্ছে। তার সবকিছু এলোমেলো লাগছে। তাদেরকে গামছা দেওয়া হয়েছে। সঞ্জু গামছা দিয়ে মাথা মুছে ফেলল। সে ভিজে জবজবা হয়ে গেছে।
ঘরের মাঝখানে বেড়া। ওপাশে আরেকটা ঘর। ওখান থেকে সেই কিশোরীর গলা শোনা গেল আবার, না মা, সে না!
ভেঙে পড়া হতাশ গলা। কথাগুলো দীর্ঘশ^াসের মতো হাহাকার শোনালো।
হাসান আর সঞ্জু কিছু বুঝতে পারেনি। তারা গায়ের ভেজা কাপড় খুলে চিপে নিল। অস্ত্র দাঁড় করিয়ে রাখল ঘরের বেড়ার সঙ্গে। মাঝবয়সী সেই নারী তাদের খেতে দিলেন।
সঞ্জু বলল, আপনি আমাদের সঙ্গে খেয়ে নিন।
হাসান চুপ করে আছে। তারা কারও বাড়িতে খেতে গেলে বাড়ির কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে খেতে বসে। দুটো কারণে তারা এই কাজটা করে। প্রথমত নিশ্চিত হতে চায় খাবারে বিষ মেশানো হয়নি। এখন চারপাশে শত্রু। শত্রুর অভাব নেই।
আর একটা কারণ হচ্ছে অনেক সময় বাড়ির মানুষরা না খেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের খেতে দেন। সেইজন্য মুক্তিযোদ্ধারা একসঙ্গে খেতে চান। তারা চান না তাদের খাইয়ে বাড়ির মানুষ অভুক্ত থাকুক।
তিনি বললেন, তোমরা খাও। আমরা সন্ধ্যারাতে খেয়ে নিয়েছি।
তাহলে এই খাবার কি আপনার স্বামীর জন্য?
তিনি মারা গেছেন বহু বছর হলো।
তাহলে ছেলে?
মাঝবয়সী সেই নারী চুপ করে আছেন। হাসান খেয়াল করল তিনি কাঁদছেন। শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ চেপে ধরেছেন। হাসান হকচকিয়ে গেল। সে খাওয়া বন্ধ করে হাত গুটিয়ে বসে থাকল।
তিনি বললেন, আমার ছেলে নেই। একটা মেয়ে। যুদ্ধের কিছুদিন আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। জামাই দেখতে বড্ড সুন্দর। রাজপুত্রের মতো। টকটকে ফরসা। সেই আমার ছেলে। সে যুদ্ধে গেছে। পালিয়ে যায়নি। আমাদের বলে গেছে। আমরা তাকে যুদ্ধে যেতে নিষেধ করিনি। যাওয়ার সময় বলল, মা চিন্তা করবেন না। যুদ্ধ শেষ হলেই চলে আসব। আমি চিন্তা করি না। যুদ্ধ কবে শেষ হবে সেই আশায় বসে আছি। মেয়ে আমার প্রতিরাতে ভাত বেড়ে বসে থাকে। যদি ও আসে। যদি এসে ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাবার না পায়। তাই জেগে থাকি। উঠোনে শব্দ হলেই মেয়ে আনন্দে লাফিয়ে ওঠে। মনে করে সে এসেছে।
হাসানের আর খেতে ইচ্ছে করছে না। তার বুক ভার হয়ে এসেছে। সে মাথা নীচু করে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে।
দরজার কপাট ধরে স্থির দাঁড়িয়ে আছে এক কিশোরী। সে কাঁদছে। তার চোখের পানিতে শাড়ির আঁচল ভিজে গেছে।  
 

Thursday, July 1, 2021

শুভ্রা নিলাঞ্জনা'র অনুকথন


 

আপনি কখন নিজেকে সুখি ভাববেন অথবা কিভাবে সুখি হতে পারবেন কখনো কি ভেবেছেন ? 


আমি ভেবে ভেবে একটি জায়গায় এসে স্থির হতে পেরেছি । এখন নিজেকে আমি শতভাগ সুখি মনে করি ।সারাটা জীবন সুখের পিছনে ছুটতে ছুটতে আমি হয়রান হয়ে পড়েছিলাম ।ক্লান্ত, শ্রান্ত ,নিস্তেজ , নির্জিব হয়ে পড়েছিলাম !


এক সময় জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা এসে পড়েছিল ! মৃত্যুর জন্য ও প্রস্তুত ছিলাম ।

এতদিন কি বোকাটাই না ছিলাম ! তুচ্ছ কিছুর জন্য মরে যেতে চাইতাম ।তা ঠিক যে আবেগী মানুষেরাই বেশী কষ্ট পায় ছুতোয় নাতায় । মরে যেতে চায় যখন তখন ।আমি এসব তুচ্ছতাকে এখন জয় করেছি ।ধীরে ধীরে নিজেকেই নিজে ধরে ধরে বুঝিয়েছি , জীবনকে বুঝতে শিখেছি ।


যে কোন অবস্তায় প্রতিকূলতাকে জয় করে বেঁচে থাকার মধ্যে যে আনন্দ আর অনাবিল সুখ তা আর অন্য কিছুতে নেই। 


ধরুন আপনার প্রেমিক /প্রেমিকা আছে 

আপনার স্বামী / স্ত্রী আছে , আপনার ছেলে, মেয়ে আছে , ভাই/ বোন ,আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব কত জন আছে । আপন আছে ,  পর আছে । 


তাদের পিছনে আপনি কখনো ছুটবেন না । কারণ তারা সবাই আলাদা স্বত্বা । এরা কেউ আপনার আয়ত্বে বা অধীনে নয় ।এরা কেউ আপনার মনের মত নয় বলে আপনি দুঃখে মরে যাবেন না ।


এই পৃথিবীতে কেউ কারো মনের মত হয়না ।একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হতে পারে । এই সময় টা চলে গেলে খুব কাছের মানুষ বদলে যায় ।এই বদলে যাওয়া দেখে আপনি কেঁদে কেটে অস্থির হবেন না ।


সারাদিন মন খারাপে ডুবে থাকবেন না ।কারণ পৃথিবীতে কিছু অলিখিত নিয়ম আছে এরমাঝে স্বার্থপর হয়ে উঠা একটা ! কিন্তু সবাই এই নিয়মে গা ভাসাতে পারেনা ।তো আপনি কি করবেন ? আপনার নিজের আয়ত্বে যা আছে তার গভিরে ডুব দেন। যেমন গানের ভিতরে , পড়ার ভিতরে , আবৃত্তি শুনেন ইচ্ছে হলে শিখেন , অবসরে নিজের মনের কথা ডায়রীতে লিখে রাখেন । ঘুড়তে বেড়িয়ে পড়েন । 

গাছ লাগান , নিজের হাতে লাগানো গাছে যখন ফুল , ফল ধরবে এত সুখি হবেন , এত সুখি হবেন যে ভাবতেই পারবেন না ! এত অল্পতেই এতটা সুখের মালিক হওয়া যায় ।


এমন অনেক কিছু আছে যা আপনার নাগালের ভিতরে , আপনি নিজে নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন ।এমন কিছুর পিছনে ছুটবেন না যা আপনার নিয়ন্ত্রন বা আয়ত্বের বাইরে ।


নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন সব কিছু বাদ দিয়ে ।নিজেকে সময় দিন নিজে সুন্দর করে সাজুন ।নিজেকে নিজেই দেখে মুগ্ধ হোন ।নিজের সৌন্দর্য্যের চর্চা করুন । নিজের হাত পায়ের যত্ন নিন ।ডিজাইনার পোষাক পরুন । যেন নিজেকে নিজে দেখে ওয়াও বেরিয়ে আসে আপন মনে । 


এভাবেই আপনি অল্প অল্প করে নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন ।নিজের জন্য আলাদা একটা জগৎ তৈরী করুন । নিজে ভালো থাকার জন্য । আর হ্যাঁ উজার করে শুধু নিজেকেই ভালোবাসুন । আপনি নিশ্চয়ই আপনাকে ঠকাবেন না । 


নিজেকে নিজে সম্মান করুন । একদম বিগলিত হয়ে পাপোষ হতে যাবেন না । আর কাউকে সে যা না ,ভালোবেসে তাকে নিজের চেয়ে বেশী সম্মান দিতে যাবেন না । আসলে সে অন্যের কাছে কিছুই না আপনার কাছে অনেককিছু ছিল আর এই অহংকারেই সে সমূলে বিনাশ হল ! 


সে ভেবেছে সব জায়গায় তার একি রকম ভাবে গ্রহণযোগ্যতা ! যার যতটুকু প্রাপ্য ততটুকুই তাকে দিতে হয় । কারণ সবাই সবকিছু ধারণ করতে পারে না ! আপনি তাকে বেশুমার ভালোবেসে অহংকার ও দুর্লভ ভাবের জন্ম দিয়েছিলেন তার ভিতর ।আপনি সাধারণ কে অসাধারণ করে তুলেছিলেন সীমাহীন ভালোবেসে ! 


তাই আপনি নিজে অহংকারী হয়ে উঠুন নিজেকে ভালোবেসে অন্যকে নয় ।কেউ কাউকে সুখি করতে পারেনা । সুখ আপনার নাগালের ভিতর । সুখি হওয়ার জন্য নিজেই যথেষ্ট কারো উপর নির্ভরশীল বা পরগাছা হয়ে নয় ! 

সুখ হল অন্তর্নিহিত ব্যাপার ।সব সময় সব অবস্থায় নিজেকে সুখি ভাবুন একদিন দেখবেন পোষা বেড়ালের মত সুখ আপনার পায়ে পায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ! 


“আমি সবসময় নিজেক সুখী ভাবি, কারণ আমি কখনো কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করি না, কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করাটা সবসময়ই দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়"


(অনুকথন)

Shuvra Nilanjona