Tuesday, August 3, 2021

তাপস বিশ্বাসের লেখা কবিতা "তুমি ভোবো না পিতা"


 



তুমি ভেবো না পিতা

তাপস বিশ্বাস


আজ আকাশের মন ভালো নেই
পুঞ্জিভূত ব্যথায় ভারাক্রান্ত সে
বাতাসের চোখেও বেদনার জল,
তোমার রক্তাক্ত দেহের দিকে তাকিয়ে
দীর্ঘশ্বাসের ছোঁয়ায় দিশেহারা প্রাণীকুল।
পাখিদের বুকে বইছে কালবৈশাখী ঝড়
তাদের কণ্ঠে গান নেই আজ
আছে করুণ আহাজারি, কষ্টের কাকলি।
রক্তজবার লালে মিশেছে তোমার বুকের রক্ত
রজনীগন্ধার পাপড়ি যেন কাফনের কাপড়,
বিমর্ষ ফুলেরা বিলাপে ব্যাকুল
'পিতা নেই, বঙ্গবন্ধু নেই'।
.
খুনির খুন এখনো গরম
হিংসার আগুনে টগবগিয়ে ফোটে,
ট্রিগারে আঙুল চেপে চুপিসারে চলে আততায়ী
বর্ণচোরা হয়ে মিশে থাকে জনারণ্যে
মৃত তোমাকে আবার মারবে বলে।
কী অপরাধ ছিল তোমার ?
বজ্রকণ্ঠে তুমি জাগিয়ে তুলেছিলে
মুক্তিকামী বাঙালির মুক্তির চেতনা
এটাই কি অপরাধ ?
প্রচণ্ড ভূমিকম্পে কাঁপিয়ে দিয়েছিলে
অত্যাচারী শোষকের ঘৃণিত আস্তানা
এটাই কি অভিযোগ ?
চিহ্নিত দেশদ্রোহীদের সাধারণ ক্ষমা দিয়ে
টেনে নিয়েছিলে তোমার বিশাল বুকে
এটাই কি ছিল ভুল ?
জানি, উত্তর পাবো না কারো কাছে।
.
চোখের জলে কেউ ডুবে আছে অনন্তকাল
দুঃখে, কষ্টে ভেঙে খানখান হয়েছে কারো বুক,
শোকাহত সহযোদ্ধা পবিত্র পাগল হয়ে
তোমার স্মৃতিচারণ করছে রাস্তায় রাস্তায়
কোটালীপাড়ার শেখ সেকেন্দারের মতো ;
কোটি কোটি শিশুর হাহাকার হয়ে
বাংলার পথে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে
শেখ রাসেলের অতৃপ্ত আত্মা।
অনুশোচনার পরশ পাথরের ছোঁয়ায়
এতটুকু খাঁটি হয় না তবু নরপিশাচের অন্তর,
ইতিহাসের কোনো গোপন গর্তে লুকিয়ে থেকে
চক্রান্তের নতুন জাল বুনে যাচ্ছে তবু
অস্পৃশ্য সরীসৃপ, নিন্দিত নরাধম;
বারবার পরাজিত হয়েও নেচে যায়
রক্তবীজ নামের নগ্ন দৈত্য।
.
প্রিয়তম পিতা
দুচোখ মেলে তাকিয়ে দেখো একবার
বেশিরভাগ ফসল নষ্ট হয়নি আজও
তোমার স্বপ্নের সোনার বাংলায়।
নতুন কুঁড়িদের আগমনে উদ্দীপ্ত ফুলের বাগান
কিশোর-কিশোরীর চোখে চকচকে রোদ,
শোকেরা আজ শক্তির প্রতীক
তোমার পদচিহ্ন, পথের দিশারি।
তুমি ভেবো না পিতা
আবার আসে যদি অশুভ সময়
তোমার অস্তিত্ব মুছে দিতে চায় কেউ,
আকাশ, বাতাস, প্রাণী আর ফুলেদের দিব্যি
তোমার স্বপ্নের দিব্যি,
লাল-সবুজ পতাকার দিব্যি
লাখো শহিদের রক্তের দিব্যি,
সম্ভ্রমহারা মা-বোনের দিব্যি
সত্যের সার্থক সুনামি হবে তাহলে
ফুঁসে উঠবে পবিত্র জলরাশি,
প্রচণ্ড জলোচ্ছ্বাসে চিরতরে ভেসে যাবে
সব ময়লা, সব আবর্জনা
পুণ্যস্নান ক'রে শুদ্ধ হবে বাংলা মা।

ভারতীয় কবি নরেশ মন্ডলের লেখা কবিতা "বাসি রুটি ও ভোর নামচা"


 

      বাসি রুটি ও ভোর নামচা 

               নরেশ মণ্ডল

কোনো রাতে ট্রেন মিশ হলে
ফিরে আসি প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চে
পা তুলে খকখক করে কাশি
বাসি রুটি  বের করে চিবোই
পেট তো লকডাউনের বাইরে
আটকে গেলে ফেলে যাওয়া
জলের বোতল থেকে ঢক ঢক
গলায় ঢেলে খাকারি দিয়ে সাফ করে
আবার বাকি টুকরোগুলো গলাধঃকরণ
এ ভাবেই বেশ তো ছিল
হঠাৎ ছড়ালে রোগ, মহামারী
আমরা কি পারি।
ভদ্দরলোকে এ ভাবে পা তোলে না
খকখক করে কাশেও না
মুখে সুগন্ধী রুমাল, ঢাকা মাস্ক
মাস্ক কবে গেছে
কনুই দিয়ে কাশা ময়লা জামায়
কত ছড়ানো বিষ
কতটা দূরত্বে বসে আছি
আমরা কি পারি।

ট্রেনের শব্দ শুনতে পাচ্ছো
পুব আকাশে আলোর রেখা
আমরা সবাই সকাল থেকে
সবুজ গাছ হয়ে ছড়িয়ে পড়ি
শিশুরা থাকুক আমাদের জড়িয়ে
এক একটা শিশুর এক একটা গাছ।



Monday, August 2, 2021

আহমেদ রাজিবের লেখা কবিতা" দৃষ্টিকোণ"



 দৃষ্টিকোণ

আহমেদ রাজিব


আমরা দুজনে দুজনের জায়গায় থেকে ঠিক,
আবার দুজনে দুজনার দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল-
সত্যিটা কি জানো? তুমি চোখ বুজে অনুভব কর উত্তর পেয়ে যাবে।
তুমি আরো আরো আরো বেশি করে অনুভব করো
তুমি চোখ খুললে আমি আমার চোখ  বন্ধ করবো।
আমরা আসলে কে? আমাদের সম্পর্কটা আসলেই কি?
দুজনের দুজন পায়ে পায়ে ধরি দোষ-
হাটতে গেলে চলন বাঁকা,হাসতে গেলে হিসেব কষা।
আমরা আমাদের ছোট ছোট ভুল গুলো ফুল ভাবতে পারিনা
আমাদের সুখ গুলো ভাগ করি ঠিকই দুঃখ গুলো ভাগাভাগি করে নেই না,
যেখানে দুজনের সুখের অমিল জগৎ হলেও দুঃখের দিনে
কাঁধে হাত দিয়ে নির্ভরতা কণ্ঠস্বরে-
"সব কিছু ধ্বংস হোক আমি আছি তোমার পাশে"
মুহুর্তেই সব প্রলয় ঝড় মাড়িয়ে দেখতে উদাস্ত রক্তিম সূর্য্যি হাসি।
তুমি আরো আরো আরো বেশি অনুভব করতে থাকো-
আমাদের ভালোবাসাতে কোন ঘাটতি ছিলো না,
ঘাটতি ছিলো আমাদের দৃষ্টিকোণের বাচন ভঙ্গী।
দুজন দুজনকে চিনতে পারিনি এটাই বড় ব্যর্থটা
তাই দুজনের মাঝের দূরত্ব জমে জমে অভিমানের পাহাড় গড়েছে
যে পাহাড়ের এপাশে-ওপাশে দুজনের বসবাস।
দুজন দুজনের দৃষ্টিকোণ পাল্টাতে পারিনি
অদৌ কি দুজন দুজনকে এখনও ভালোবাসি?

আলাউদ্দিন লাভলুর লেখা কবিতা "এই কি স্বাধীনতা!"

 


এই কি স্বাধীনতা!

....আলাউদ্দিন লাভলু


এই শহরে পথে পথে অনাহারি মানুষের সারি।
ক্ষুধার বিষাক্ত কামড়ে তারা শুধু গোঙায়
আর গোঙায়।
তাদের এই গোঙ্গানী ইট পাথর আর কংক্রিটের দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়,
তা এই শহরের মানুষের কানে পৌঁছায় না।
তাদের পেটের জ্বালায় চোখে নামে 
অশ্রুর কুয়াশা।
এরা পথের মানুষ।
এ কেমন জীবন?
ঠিক যেন পথের এই জেব্রাক্রসিং,
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত,
তাতে সাদা অংশ খুব কম।
রাস্তায়ফুটপাতে সন্তান কোলে কঙ্কালসার মা
হাড় জির জিরে মায়ের কোলে 
ততোধিক দূর্বল শিশু।
শূন্য থালা হাতে পথের ধারে ভিক্ষুক
ফুটপাতে কুকুরের সঙ্গে শুয়ে থাকা মানুষ।
পেটের জ্বালায় তারাশুধু গোঙা আর গোঙায়,
তাদের সামনেই কত ঝুটে ভাত ফেলে যায়।
পথের এই মানুষদের গোঙানীর শব্দ শোনার ফুরসত তাদের নেই।
এগুলো মানব সৃষ্ট ক্ষত।
এইক্ষত যেন আমাদের নিঃশব্দে ধিক্কার দিয়েবলে যায়,
এই কি স্বাধীনতা?

Sunday, August 1, 2021

ইমরান খান রাজের লেখা কবিতা "প্রতিশ্রুতি"

 


প্রতিশ্রুতি 

ইমরান খান রাজ 


সবকিছু মনে রাখা হবে। 
আমার প্রতি তোমার না বোধক উত্তরগুলো 
মনে রাখা হবে আরো কিছুকাল। 

সবকিছু মনে রাখা হবে। 
তোমার অবহেলা আর মিথ্যা অভিযোগগুলো 
মনে রাখা হবে আরো কিছুকাল। 

সবকিছু মনে রাখা হবে। 
তোমার মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয়টা 
মনে রাখা হবে আরো কিছুকাল। 

সবকিছু মনে রাখা হবে। 
প্রথম দেখার সেই মিথ্যে মুচকি হাসিটা 
মনে রাখা হবে আরো কিছুকাল। 

সবকিছু মনে রাখা হবে। 
তোমার মিথ্যা প্রতিশ্রুতিগুলো 
মনে রাখা হবে আরো কিছুকাল। 

সবকিছু মনে রাখা হবে। 
হঠাৎ তোমার পরিবর্তনের কথা 
মনে রাখা হবে আরো কিছুকাল। 


কঠোর বিধি নিষেধের নাটকে জনজীবন ক্ষতিগ্রস্থ

 

কতকাল চলবে এই কঠোর বিধি-নিষেধের নাটক?

ফারহানা হৃদয়িনী////  গার্মেন্টস কর্মীদের জীবনকে বিপন্ন করে তাদের গরু ছাগলের মত হেটে বা ট্রাকে চড়ে ঢাকা পৌঁছাতে বাধ্যকরা এক ধরনের মানবতা বিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে।  গার্মেন্টস মালিকদের উচিত ছিলো আগে তাদের কর্মীদের ফিরিয়ে আনার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা তারপর ফিরে আসার নির্দেশনা দেওয়া। এত সুবিশাল কর্মী গোষ্ঠীকে কঠোর বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে এতটা পথ ফিরতে হলে পথে তাদের যে কত ভোগান্তী পোহাতে হবে এটা সবাই জানতো তবুও দ্বিতীয় বারের মত সেই একই অপরিকল্পিত নির্দেশনা দেওয়া হলো।



সরকারের দেওয়া কঠোর বিধি নিষেধ অমাণ্য করে ছোট খাট ব্যবসায়ীরা দোকান খুললে বা একজনের জায়গা দুজন বাইরে বের হলেই যেখানে সাধারণ জনগণকে জরিমানা গুণতে হলো,  সেখানে এসব বড় বড় ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য সরকার নিজেই স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে হাজার হাজার মানুষের জীবনকে বিপন্ন করার জন্য কঠোর বিধি নিষেধের ভিতরেও গার্মেন্টস কর্মীদের কাজে যোগদান করার জন্য অনুমতি দিলো। এখন যারা এই গার্মেন্টস কর্মীদের এমন জীবনবাজি রেখে বাহিরে ছুটতে বাধ্য করলো তাদের জন্য সরকারীভাবে কত টাকা জরিমানার ব্যাবস্থা করা হবে? বড় বড় ব্যবসায়ীরা তাদের বিজনেস চালু রাখলে করোনা কেন ছড়াবে না? আর ছোটখাট ব্যবসায়ীদের পেটে লাথি মেরে দিনের পর দিন তাদের ক্ষতি গ্রস্থ করে কঠোর বিধি নিষেধের নাটক আর কতকাল চলবে?

 




লেখক মোঃ জহিরুল হোসাইন খান নাসিমের লেখা কবিতা "বঙ্গবন্ধু তুমি"

 


"বঙ্গবন্ধু তুমি"
লেখক মো: জহিরুল হোসাইন খান নাসিম।

বঙ্গবন্ধু তুমি স্বাধীনতার ধারক, তুমি জাতির জনক
বাংলার গৌরব, বিশ্বের নন্দিত পুরুষ,
তোমার সততা, সাহস আর মূল্যবোধে তুমি ছিলে উদার
তাই পেরেছো দিতে ফিরিয়ে বাংলার জৌলুস।
বাংলাকে তুমি বেসেছিলে ভাল
বাঙ্গালীরা হয়েছিল তাই একত্রিত একে একে,
পশ্চিমা ষড়যন্ত্র পারেনি রুখে, তোমাকে বিচ্যুত করে
বাংলা আর বাঙ্গালীর চেতনা থেকে।
তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাস ছিল
বাংলার প্রতিটি মানুষের নিঃশ্বাস,
তাই তুমি সর্বোতভাবে হয়েছিলে জয়ী
পেয়েছিলে ভালবাসা আর মানুষের বিশ্বাস।
আগরতলা ষড়যন্ত্রেও পারেনি তোমাকে রুখে
পারেনি দুর্ভেদ্য খাঁচায় রাখে বন্দী,
নিজের সুখ করেছিলে ত্যাগ তবুও
সেদিন করোনি বর্বর গোষ্ঠীর সাথে কোন সন্ধি।
৭ই মার্চ ১৯৭১ এর ঐতিহাসিক ভাষণে
বলেছিলে তুমি, শোষকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে রুখে,
সেদিনের সেই কথায় লাখো কোটি বাঙ্গালী ঝাপিয়ে পড়ে নির্দ্বিধায়
শত্রুর মোকাবেলায়, মৃত্যুর কোলে ঢলে শত সহস্র বুলেট নিয়ে বুকে।
ত্রিশ লক্ষ প্রাণ আর লাখো মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে
স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র করেছো অর্জন,
সে তো তোমারই নির্জলা নেতৃত্ব, স্বাধীনতাকে করেছে ত্বরান্বিত
আমরা পেয়েছি মুক্তি, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনার ঘটেছে প্রতিফলন।

শরীফ আহমেদের লেখা গল্প ঃ ভুবন বিনাশী অবরোধ

 


ভুবনবিনাশী অবরোধ 

শরীফ আহমেদ 


মাথাটা টনটন করছে। মনে হচ্ছে একটা বেলুনের মতো প্রচণ্ড চাপ মাথার চামড়াগুলোতে। মনে হচ্ছে ফেটে যাবে সেই চাপে। যেমন করে বেলুন ফেটে যায়।
বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায় মনির। নীরব রাস্তা। খুব কড়া লকডাউন চলছে। তার মাথার চাপ আরও বাড়ে। চলে আসে রুমের ভেতরে।
মাথাটা ব্যথা করে প্রচণ্ড। নিশ্চয়ই মনের মধ্যে কোনো দুশ্চিন্তা ফুঁসে উঠছে। সেজন্যই মাথার চাপ বাড়ছে। সেজন্যই ব্যথা করতে শুরু করেছে মাথা। দুশ্চিন্তাটাকে সে প্রাণপণে ফেরাতে চায়। 
মনে মনে বিড়বিড় করে, সব ঠিক আছে। সব ঠিক আছে। সব ঠিক আছে। সব ঠিক মতো চলছে। সব ঠিক মতো চলছে। সব ঠিক মতো চলছে।
কিন্তু ব্যথাটা কমতে চায় না। মাথার চাপ কমার আগেই দুশ্চিন্তাটা স্পষ্ট হয়। দোকানের ভাড়া দিতে হবে। গত মাসের ভাড়া দিয়ে হাতে কিছু নাই। সংসার চালানোই কঠিন। তার উপর এই মাসও শেষ হবে আগামীকাল। অথচ হাতে তেমন কোনো টাকা আসেনি এখনো। 
সাতদিন ধরে লকডাউনে দোকান বন্ধ। আরও নাকি সাতদিন বন্ধ থাকবে। 
বাসা ভাড়াও দিতে হবে ১০ তারিখের মধ্যে। কীভাবে কী করবে?
গতবছর দুই মাস লকডাউনের পর থেকে সব হিসাব গোলমাল হয়ে যায়। তখন একেবারেই কোনো বেচাকেনা হয়নাই। দোকানই খুলতে পারেনাই। দুইটা কর্মচারী দোকানে। লকডাউনের দুইমাস বেতন না দিলেও বছরের বাকি মাস ঠিকই বেতন দিতে হয়েছে। লকডাউনে ঢাকার স্টুডেন্টরা সব ঢাকার বাইরে চলে গেছে। কে শিখবে কম্পিউটার? কে আসবে কম্পিউটারে টাইপ করাতে? কে আসবে প্রিন্ট করাতে?
বছরখানেক ধরে ধুঁকে ধুঁকে চলছে ব্যবসাটা। তবুও সে ব্যবসায়ি। ব্যবসায়ি মানেই ধনী। কিন্তু লকডাউনের অবরোধ যে ব্যবসায়িকে নিঃস্ব করতে পারে, তা কে বুঝবে? আর শুধু এই অবরোধ কেন? অবরোধ আসার আগেও কি ব্যবসা ভালো ছিলো? গত ১০ বছর ধরে দেশের অর্থনীতিতে গতি নেই। সব ব্যবসায়ই মন্দা।

ড্রয়িং রুমে সোফায় বসে মনির। ডান চোখের ডানপাশটায় নক দিয়ে চুলকাতে গেলে কী যেন একটা কেটে যায়। জ্বালা করে খুব। আবার আঙুল দিয়ে ছুয়ে দেখে জায়গাটা। একটা ফুসকুড়ি হয়েছে। সেটা কেটেই যন্ত্রণা। একদকে ভালোই হয়েছে। এই চোখের পাশের জ্বালা আর ফুসকুড়ির দিকে চিন্তাটা সরে গিয়ে মাথার চাপটা কমে একটু।
সে দক্ষিণের জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। বাতাস আসছে। চারপাশ শুকনা। বৃষ্টি নাই দুইতিন দিন ধরে।
বৃষ্টিহীন শুকনো রাস্তা। দুইপাশের দোকানগুলো বন্ধ। বারান্দায় আবার দাঁড়ায় মনির। ধুঁ ধুঁ শূন্যতায় ভরে উঠে মনের সবটুকু খালি জায়গা। এখানে স্বপ্ন নাই কোনো। স্বপ্নের জন্য কোনো জায়গা খালি নাই। সব স্বপ্ন মরে গেছে ভুবনবিনাশী অবরোধে।

পরদিন হাঁটতে হাঁটতে পল্লবী শপিং কমপ্লেক্সে যায় মনির। খোঁজখবর নেয়। মার্কেট কবে খুলবে। দোকান কবে খোলা যাবে, সেটা বোঝার চেষ্টা করে। 
মার্কেটের সিকিউরিটি গার্ডের সাথে কথা বলে। মার্কেট কমিটির পরিচিত একজনকে সাথে মোবাইলে কল দেয়। তার সাথেও কথা বলে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হয় না। মার্কেট খোলার ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না। 
দুইমাস আগের একুশদিন লকডাউন ছিলো। তখন নয়দিন পর মার্কেট খুলে দিছিলো। এখন নাকি খুলবে না। সামনে কুরবানির ঈদ। এই অবস্থায় দোকান বন্ধ থাকলে টাকা আসবে কোথা থেকে?
বাসার দিকে হাঁটতে থাকে মনির। মাথায় রক্ত উঠতে থাকে। ব্যথা শুরু হয় মাথায়। কী করবে? ডাক্তার দেখাবে? তাতেও তো ২-৩ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাবে।
বাসায় ফিরে আসে মনির। আল্লা আল্লা করে। বাচ্চাদের সাথে কথা বললে মাথার ব্যথাটা কমে। কিন্তু আবার মাথায় চাপ। বেলুনের চামড়ার মতো টান মাথার চামড়ায়।
বেডরুমে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে সে। রোজা ঈদের আগে থেকে গত দেড়মাস দোকান চাকিয়ে ব্যাংকে যে কিছু টাকা জমা হয়েছে তা দিয়ে কর্মচারীদের ঈদ বোনাস দিতে হবে। বেতন দেওয়া যাবে না। বলতে হবে দোকান বন্ধ থাকলে বেতন দেওয়া যাবে না। অন্তত পনেরোদিনের বেতন কম দিতে পারলে, সে টাকা দিয়ে নিজের সংসারটা কোনোরকম চালানো যাবে।

Hridoye Bongo Bondhu


 

★হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু★ ফারহানা হৃদয়িনী

  


★হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু★

ফারহানা হৃদয়িনী


হৃদয়ে লিখেছি আমরা একটি নাম,
বিশ্বের বাতাসে ছড়ানো যার সুনাম
সেতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
বাঙ্গালীর প্রাণে বাজে তারই জয়গান।।

বিশ্বের দরবারে বাঙালী পেয়েছে মান,
স্বাধীন বাংলায় শিশুর সুখের কলতান,
কৃষকের মুখে এনেছে শেকল ছেড়ার গান,
বাংলার ইতিহাসে সে নেতা মহীয়ান।।

আমাদের স্বাধীনতার প্রতিটি নিঃশ্বাস,
হৃদয়ে যত দেশপ্রেম আর শত বিশ্বাস,
বঙ্গপিতা সে তো শুধু তোমারই দান,
তোমার বাণীতে উজ্জিবীত প্রতিটি প্রাণ।।

রক্তখেকো হায়েনার দল নিলো তার জান,
আজো ব্যাথার নিনাদে হৃদয় শ্মশান।
দেশের জন্য অগ্নিশপথে করে রক্তস্নান,
স্বাধীনতার মন্ত্রে বাঙালী হও তব আগুয়ান।।