Thursday, August 5, 2021

জসীম উদ্দীন মুহম্মদ এর লেখা কবিতা "অন্তঃসত্বা"

 



অন্তঃসত্ত্বা

জসীম উদ্দীন মুহম্মদ

-
জন্মেই স্বাধীনতার মুখ দেখেছিলাম 
দেখেছিলাম শিশুর মতোন  কোমল মুখের মায়া,
বাংলার তাবত আকাশ জুড়ে বৈভবী ঢেউ
আজ তবে কি হয়েছে তোমাদের
মাথার উপর  চিল-শকুনের মতো কেউ!

এখনও কিছু টিকটিকি-চামচিকা জাবর কাটে
পাহাড় খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে কাটে  পাথর
সুগন্ধির নামে বিক্রি করতে চায় নকল আতর!

মালিকানাহীন পড়ে থাকে 
হাজার কোটি টাকা
মুখেই কেবল দেশপ্রেমের বুলি ওড়ে
বাইরে অন্তঃসত্ত্বা... ভেতরে সবকিছু ফাঁকা!!
------------------------------


পরিচিতিঃ সহযোগী অধ্যাপক,  আনন্দ মোহন সরকারী কলেজ, ময়মনসিংহ। 

Wednesday, August 4, 2021

কবি নাঈম আহমদ এর লেখা কবিতা "পিতাহীন ভূখণ্ড শ্মশান খন্ড"

 


পিতাহীন ভূখণ্ড শ্মশান খন্ড

নাঈম আহমদ


পিতা !
তোমার রক্তের প্রতিশোধ হয়নি শোধ
কিছু দুর্নীতিবাজ মানুষের প্রতিরোধ ।

ব্যর্থ আমরা তোমার বাংলায়  
বুভুক্ষ গৃহহীন এখনো অসংখ্য 
করুনা প্রাপ্তির জন্য হাত বাড়ায়
ট্রাফিকপোস্ট মসজিদ সম্মুখ
গ্রাম গঞ্জে হাটে ঘাটে রাস্তায়।

অথচ !
রাজনীতির প্রভাবে টি আর,কাবিখা
দুস্থমাতা-বয়ষ্ক ভাতার টাকা
যায় নেতাদের পকেট।
বিচার বিহীন কাঁদে বিচারের বাণী। 

এখনো তোমার শোকে
শোকযাত্রী ত্রস্ত বোমাতংকে
রাস্তা অবরোধ জঙ্গির ভয়ে ।
এখনো বাংলার আকাশে-বাতাসে
তোমার আকুতি কেঁদে মরে।
তুমি বলেছিলে,
"তোমার কৃষক তোমার শ্রমিক তোমার মজুর দুর্নীতি করে না" 
সত্যি তাই। 
তোমার বাংলায় কিছু নেতা-কর্মী
ডাক্তার শিক্ষক রক্ষকেরা ভক্ষক।
নেই প্রতিবাদ
আমাদের অস্থিমজ্জা নিয়েছে সয়ে।  

পিতা!
তোমার রক্তের প্রতিশোধ হবে তখন 
তোমার রক্তেস্নাত সোনার বাংলা
 দুর্নীতি-ভিক্ষুক-জঙ্গি মুক্ত হবে যখন ।

সাঈদা নাঈমের লেখা প্রবন্ধ "বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ"

 

 

বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ

সাঈদা নাঈম


"যতকাল রবে পদ্মা যমুনা
গৌরী মেঘনা বহমান,
ততকালীন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান। "


ধ্রুবতারার মতো সত্যি এ লাইন চারটি। বাংলাদেশের নাম যতদিন থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধুর নাম আদিগন্ত জুড়ে ধ্বনিত হবে। বাংলাদেশের হৃদয়পটে যাঁর নাম লেখা। তাঁর নাম কোনোদিন কেউ মুছে দিতে পারবে না। তিনি ছিলেন সবার ভরসা।




একাত্তরের উত্তাল ভয়াবহ সেইদিনগুলিতে বঙ্গবন্ধুর ধানমণ্ডির বত্রিশ নাম্বার বাড়িটি ছিল সবার ঠিকানা। সবাই এসে জড়ো হতো এই বাড়িটির সামনে। মুক্তির আন্দোলনের উদ্বেল বাঙালি শান্তির আশায় ছুটে যেত ধানমণ্ডির বত্রিশ নম্বর বাড়িটিতে। আন্দোলন আর শপথের সূতিকাগার ছিল এই বাড়ি। আজ এই বাড়িটি ঐতিহাসিক বাড়ি। চারদিক যেন মুক্তির বর্ণচ্ছটা, শান্ত, শীতল। এখানে বসবাস করতেন বাঙালির  নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

স্বাধীন বাঙলার স্থপতি তিনি। বাঙালি জনতা তাঁর নির্দেশে মুক্তির সংগ্রাম রচেছিল। কত টাটকা রক্ত, কত অত্যাচার, অনাচার, দগ্ধ বাড়ি, মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এসেছে বাঙালির মুক্তি, এসেছে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। 
আজও এই।বত্রিশ নম্বর সড়কের দশ নম্বর বাড়িটিতে ঘিরে রয়েছে হাজারো স্বপ্নময় স্মৃতি। কোটি বাঙালির ভালোবাসায় এই বাড়িটি এখন "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্মৃতি জাদুঘর "।

স্বাধীনতার পরবর্তীকাল বঙ্গবন্ধুর নিরলস প্রচেষ্টায় গড়তে চেয়েছিলেন একটি সোনার দেশ। দানবের হিংস্রতা সেই সুখস্বপ্ন শেষ করে দেয় একটি রাতেই। উনিশশো পঁচাত্তর সালের পনেরো আগস্ট নীল নকশার বাস্তবায়ন ঘটায় শত্রুপক্ষ। পৈশাচিক নির্মম হত্যা করে পরিবারের সবাইকে। অন্তঃসত্ত্বা থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর ছোট শিশু শেখ রাসেলকেও তারা হত্যা করে। এমন নিকষ কালো রাতের ঘটনা ইতিহাসের কোনো জাতির সাথে ঘটেনি। বাঙালির জন্য এটি ছিল একটি কালো অধ্যায়।

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের সময় তাঁর বিরুদ্ধে চলছিল গভীর ষড়যন্ত্র। খন্দকার মোস্তাকসহ আরো অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া বাংলাদেশের স্বপ্ন নিজেদের মতো করে দেখছিল। কিন্তু ওরা জানতো না। বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু দুটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যিনি পঁচিশ বছরের মধ্যে বারো বছর জেলের অন্ধকারে কাটিয়ে দিয়েছেন দেশের জন্য। কোনো ক্ষমতার জন্য নয়। ক্ষমতার মোহ তাঁকে কখনও টানেনি। তিনি সবাইকে বিশ্বাস করতেন। আর এই বিশ্বাসের কারণেই স্বপরিবারে শহীদ হতে হয়েছিল।

জনগনের কাছে দল মত নির্বিশেষে সবার নেতা বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি শুধু আওয়ামীলীগের নেতা নন, জাতির নেতা। ইতিহাসের নায়ক তিনি।
ভয়াল সেই দিনে বঙ্গবন্ধুসহ যারা ভোরের আলো দেখার সুযোগ পায়নি, যারা শহীদ হয়েছে। এ দিনটি জাতীয়ভাবে শোক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

ক্ষমতার লোভে বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের সবাইকে হত্যা করেছে বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক। তিনি মন্ত্রিসভা গঠন করে তার সভায় বঙ্গবন্ধুর কাছের মানুষদেরও ডেকেছিল। নীতিহীন, নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিলেন সবাই।
তারা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নাম চিরতরে মুছে দিতে। তাঁর বংশের সবাইকে হত্যা করতে। সৌভাগ্যক্রমে তাঁর দুই কন্যা তখন দেশের বাইরে থাকাতে প্রাণে বেঁচে যান। তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা এখন দেশের জননেত্রী, সবার প্রিয়। তিনি দেশের ক্ষমতায় থেকে দেশদ্রোহীদের বিচার করছেন। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা পূরণ করতে চাইছেন। গণতান্ত্রিক প্রগতিবাদী ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণ করার সংকল্প করেছেন বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা।

একদিন ঠিক এই স্বপ্নের রূপায়ণ হবেই হবে।
জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয় পনেরো আগস্ট। সেদিন স্মৃতিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। মনে হয় যেন এখনই বঙ্গবন্ধু দোতালার সিঁড়ি বেয়ে এসে সবার সামনে দাঁড়াবেন। তাঁকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। কিন্তু যখন বত্রিশ নাম্বারে সকালে যাই। তখন এই।মহান নেতাকে যেন উপলব্ধি করতে পারি। দেশ ও জাতির মহানায়ক তিনি। তাঁর বজ্রকণ্ঠ যেন শুনতে পাই।


" তোমাদের যার যা আছে, তা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ো। "
আবার কখনও শুনি, "এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। "


জাতীয় শোক দিবস, জনগনের শক্তিকে আরো বাড়িয়ে দেয়, চেতনাকে আরো সজীব করে।
হাজার চেষ্টা করেও বঙ্গবন্ধুর নাম ওরা মুছতে পারেনি, পারবেও না।

এ দেশের নির্মাতা, এমাটির সন্তান বঙ্গবন্ধু। আমরা সবাই তাঁকে স্মরণ করি প্রতিনিয়ত।

জয় বাংলা,
জয় বঙ্গবন্ধু।


নাসরীন জামানের লেখা কবিতা " আমি টুঙ্গী পাড়ার সন্তান"

 


আমি টুঙ্গীপাড়ার সন্তান

নাসরীন জামান


মায়ের নাম সায়েরা খাতুন, বাবা শেখ লুৎফর রহমান,

আমি টুঙ্গীপাড়া গায়ের সেই দুরন্ত কিশোর সন্তান।

বাবা মায়ের আদরের দেয়া নাম 'খোকা',

ফুটবল আর ভলিবলে আমি যে বড়ই একরোখা,

আমি স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা, বিজয়ের রাঙা রবি।


ভারত, বাংলা পাকিস্তান, আমি দ্রোহের অগ্নিসম্তান,

বাংলামাটির জলকাদায় আমি সুশোভিত গুলিস্তান,

মায়ের আঁচলে বেঁধে নেয়া আমি স্বপ্ন সুখের উদ্যান।

আমি মুক্তিকামী, আমিই সেই আমি,

স্বৈরশাসকের ঘরে আমি তাজা কবরের গোরস্থান।


আমি প্রেয়সীর রাঙা ঠোটের বাঁকা হাসি,

রাখালিয়ার উদাস কণ্ঠের মধুঝরা গান,

আমি "বিদ্রোহী" কবিতার বিদ্রোহী নজরুল,

একাত্তরের সংগ্রামী সুরে গানের পাখি বুলবুল,

আমি জনতার নেতা, ৭ই মার্চের অমর কবিতা।


সদ্য স্বাধীন দেশ, যুদ্ধবিধ্বস্ত মাতৃভূমি আমার,

স্বাধীনতার লাল সবুজ পতাকা বুকে বেঁধে

সময় তখন স্বাধীন স্বপ্ন রচনার, সময় তখন-

নতুন আশায় শিরদাড়া খাঁড়া করে দাঁড়াবার,

মুক্ত আকাশে শান্তির কপোত ওড়াবার।


আকাশে উড়লো বাজপাখি, গর্জে উঠলো কামান,

ওরা কেড়ে নিলো আমার স্বপ্ন, কেড়ে নিলো তাজা প্রাণ,

বাক্সবন্দি হলাম আমি টুঙ্গীপাড়ার সন্তান।

আমি অমর সমর নেতা, আমি বিজয়ের জয়গান,

আমি জাতির পিতা, আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।



ফারহানা হৃদয়িনী'র কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সঞ্চয়িতা বইটি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা

"সঞ্চয়িতা" গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা

 লেখা - ফারহানা হৃদয়িনী



 "আজি হতে শতবর্ষ পরে,
কে কবি পড়িছো বসি আমার কবিতাখানি?"

                  

আজ একটি ভালোলাগার বই নিয়ে আলোচনা করছি। বইয়ের শ্রেণী বিভাগে এটি কবিতা সংকলন। বইয়ের নাম সঞ্চয়িতা। লেখক কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলাদেশে বইটি মৌ প্রকাশনী হতে প্রকাশিত। ২০০৫ সালের সংস্করনের মূল্য : ১৮০ টাকা।

                                       (বইটির ভূমিকার কিছু অংশ)

সঞ্চয়িতার কবিতাগুলি সংকলনের ভার আমি নিজে নিয়েছি। অন্যের উপরেই দিতাম। কেননা কবিতা যে লেখে কবিতাগুলির অন্তরের ইতিহাস তার কাছে সুস্পষ্ট। বাহিরের প্রকাশে কবিতাগুলি উজ্জ্বল হয়েছে কি না হয়তো সেটা তার পক্ষে নিশ্চিত বোঝা কোনো কোনো স্থলে সহজ হয় না।

     কিন্তু, এই সংকলন উপলক্ষে একটি কথা বলার সুযোগ পাবো প্রত্যাশা করে এ কাজে হাত দিয়েছি। যাঁরা আমার কবিতা প্রকাশ করেন অনেক দিন থেকে তাদের সম্বন্ধে এই অনুভব করছি যে, আমার অল্প বয়সের যে সকল রচনা স্খলিত পদে চলতে আরম্ভ করেছে মাত্র, যারা ঠিক কবিতার সীমার মধ্যে এসে পৌঁছয় নি। আমার গ্রন্থাবলীতে তাদের স্থান দেওয়া আমার প্রতি অবিচার।...............

................

      আমার লেখা যে সকল কাব্যগ্রন্থ দীর্ঘকাল পাঠকদের পরিচিত, এই গ্রন্থে তাদেরই থেকে বিশেষ করে সংগ্রহ করা হয়েছে। যে গুলি অপেক্ষাকৃত অপরিচিত সেগুলি যথাস্থানে পূর্ণতর পরিচয়ের অপেক্ষায় রইলো।

শান্তিনিকেতন,

পৌষ১৩৩৮

                                                      শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

---------------------------------------------------------------------------------------------------////

"সঞ্চয়িতা" যে বইয়ের ভূমিকার কথাগুলোই পাঠককে অনেক কিছু শেখায়, হৃদয়কে মোহিত করে। যে বইয়ের কবিতা পড়লে অমৃতসুধা পানের অনুভব ঘটে,  যে সুধা অল্প অল্প করে বারে বারে পান করতে হয়। এখান থেকে প্রিয় কিছু কবিতার লাইন উল্লেখ করছি। 


                   দুর্লভ জন্ম
             একদিন এই দেখা হয়ে যাবে শেষ,
             পড়িবে নয়ন 'পরে অন্তিম নিমেষ।
             পরদিনো এইমতো পোহাইবে রাত,
              জাগ্রত জগৎ- 'পরে জাগিবে প্রভাত।


মানব জনম বড়ই দুর্লভ, একদিন সবাইকেই চলে যেতে হবে, একদিন অন্তিম সময়ের নিশ্বাস পড়বে। তারপরও পৃথিবী চলবে আপন গতিতে শুধু আমরাই থাকবোনা সেই নতুন প্রভাতে।


            " মরিতে চাহিনা এই সুন্দর ভুবনে,
             মানবের মাঝে আমি বঁচিবারে চাই।
             এই সূর্য করে এই পুষ্পিত কাননে
             জীবন্ত হৃদয়- মাঝে যদি স্থান পাই! "


হাজার বছরের বিরল প্রতিভা সম্পন্ন ব্যাক্তি কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, তিনি তার কর্মের মাধ্যমে জীবন্ত হৃদয়ের স্পন্দন হয়ে বেঁচে আছেন। কবি দেহের মৃত্যু হয়েছে কিন্তু কবির আত্মা আজো মিশে আছে লাখো হৃদয়ের ভালোবাসার মাঝে। কবির ক্ষয় নাই, মৃত্যু নাই। 


             " অতিথি"
প্রেম এসেছিলো, চলে গেল সে যে খুলিয়া দ্বার
                 আর কভু আসিবে না।
বাকী আছে শুধু আরেক অতিথি আসিবার 
                    তারি সাথে শেষ চেনা।
সে আসি প্রদ্বীপ নিবাইয়া দিবে একদিন
                       তুলি লবে মোরে রথে--
নিয়ে যাবে মোরে গৃহ হতে কোন গৃহহীন
                        গ্রহতারকার পথে।।


কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের লেখনীতে জীবনের বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে, এসেছে প্রেম, এসেছে মানবতা, এসেছে বিরহগাথা, এসেছে নবচেতনার দখিন হাওয়া। এক জনমে তার লেখনীর সবটুকু স্বাদ হয়তো গ্রহণ করার সময় সুযোগ হবেনা। তবু তার প্রতি গভীর প্রেম কখনো ফুরোবার নয়। তার লেখনীর সরোবরে অবগাহনে নবচেতনার উন্মেষ ঘটে, জীবনে আসে বসন্ত, আসে উচ্ছাস, আসে ২৫ শে বৈশাখ। যে দিনটির স্মরণে কবি লিখেছেন  ;




আজ মম জন্মদিন। সদ্যই প্রাণের প্রান্ত পথে
ডুব দিয়ে উঠেছে সে বিলুপ্তির অন্ধকার হতে
মরণের ছাড়পত্র নিয়ে।  মনে হতেছে,  কী জানি,
পুরাতন বৎসরের গ্রন্থিবাঁধা জীর্ণ মালাখানি।


****************************************************************************

               

            আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পান
                প্রাণের আশা ছেড়ে সপেছি প্রাণ।।
                 যতই দেখি তারে ততই দহি,
                 আপন মনো জ্বালা নীরবে সহি,
                 তবু পারিনা দূরে যেতে, মরিতে আসি-
                  লইগো বুক পেতে অনলবান।।
                   যতই হাসি দিয়ে দহন করে
                    ততই বাড়ে তৃষা প্রেমের তরে,
                     প্রেম-অমৃতধারা ততই যাচি
                    যতই করে প্রাণে অশনি দান।।
                                   --- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর



রহীম শাহের লেখা কবিতা "বীর পুরুষ"




বীরপুরুষ 

রহীম শাহ

মা বলেছেন, খোকন তুমি ঘরের কোণে থাকবে না 

জগৎটাকে দেখবে যদি মনকে বেঁধে রাখবে না। 


পাহাড় সাগর বন পেরিয়ে 

সকল বাধা যাও এড়িয়ে,

ছুটবে তুমি ছুটবে কেবল পেছন দিকে ফিরবে না। 


পড় যদি সাগর-মাঝে

থাকবে যে মীনরাজের সাজে,

যতই পড় ঝড়ের মুখে তীরে কভু ভিড়বে না। 


হাজার পাহাড় ঠেলে ঠেলে 

ছুটবে তুমি হেসে-খেলে, 

মনে মনেও বলবে না যে ছুটতে তুমি পারবে না। 


সামনে আবার দত্যি এসে 

ভয় দেখাতে এলে শেষে

হাতের মুঠোয় ভরবে তাকে ছল করলেও ছাড়বে না। 


এই পৃথিবী দেখার শেষে 

যেতে পার তারার দেশে, 

উঠবে যখন ওপর দিকে নিচের দিকে নামবে না।


ভয় দেখাতে বারেবারে 

সূর্য আগুন ঢালতে পারে,

ছুটবে তুমি ছুটবে কেবল ঘামবে তবে থামবে না। 


গ্রহে গ্রহে ঘুরে ঘুরে

হাজার তাজার মুঠোয় পুরে--

নেবে যখন, তোমার পাশে ঠিকই ছুটে আসবে মা;


উজল আলোয় চোখটা রেখে 

চমকাবে এক দৃশ্য দেখে, 

বিশ্বটাকে জয় করা এই বীরকে দেখে হাসবে মা।



Tuesday, August 3, 2021

মেহেদী হাসানুল হকের লেখা কবিতা "আজ শোক নয়"

 

আজ শোক নয়..

মেহেদী হাসানুল হক


আজ শোক নয়
আজ বাঙ্গালী জাতির সাহসের দিন 
আজ শোক নয়
আজ দেশ গড়ার শপথের দিন। 
আজ শোক নয় 
আজ পনেরই আগস্টের অঙ্গীকার 
আজ শোক নয় 
আজ বাংলাদেশের মানুষের হুংকার। 
আজ শোক নয়
আজ প্রতিবাদ প্রতিরোধের দিন
আজ শোক নয়
আজ শোধ করবো বঙ্গবন্ধুর রক্তের ঋণ।

      ০৩/০৮/২০২১

কাজী শেলীর লেখা কবিতা "বঙ্গবন্ধু"

 


বঙ্গবন্ধু

কাজী শেলী


কথায় গানে বঙ্গবন্ধু
সুরে তালে ছন্দে
সাত-ই মার্চের সেই ভাষণে
উদ্দিপনা রন্ধ্রে।

নারী-পুরুষ নাই ভেদাভেদ
মহা মিলন মেলা
রেসকোর্সের ঐ মাঠে সেদিন
কাটছে সারাবেলা। 

সেই ভাষণে গর্জে উঠলো
কাঁপলো বাংলার মাটি 
কামান-বন্ধুক ছিল না হায়
ছিলো বাশেঁর লাঠি।

হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান
সবাই এক ছিলো 
সাত-ই মার্চের ভাষণ শুনে 
দৃঢ় শপথ নিলো।

মুজিব বর্ষে আবার সবাই
জেগে উঠি আরো
পরাজিত শক্তিরা সব
জলদি বাংলা ছাড়ো।



এস.এম.রাসেল হাসান এর লেখা কবিতা "কে বলেরে মুজিব নাই"

 

কে বলেরে মুজিব নাই

এস.এম.রাসেল হাসান


কে বলেরে মুজিব নাই ? 
মুজিব... 
তুমি আছো নদী মাতৃক দেশে
প্রতিটি পাল তোলা নৌকায়,
তুমি আছো বাংলার কৃষকের লাঙ্গল-কাস্তে
আর প্রতিটি ফসলের ডগায়।
তুমি আছো প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধাদের নিঃস্বাসে
তুমি আছো শহীদের রক্তে
তুমি আছো বিরঙ্গনা নারীর ইজ্জতে।
তুমি আছো কোটি মানুষের বিশ্বাসে,
বাংলার প্রতিটি নগর- বন্দরে।

কে বলেরে মুজিব নাই ? 
মুজিব...
তুমি আছো শ্রমিকের শ্রমে
তুমি আছো বণিকের শিল্পে
তুমি আছো রাখাল ছেলের গল্পে
তুমি আছো বিপ্লবি জনতার শাণিত কন্ঠে
তুমি আছো নিপিড়িত শোষিত মানুষের অন্তরে
তুমি আছো প্রতিটি নিষ্পাপ শিশুর ধ্বনিতে।

কে বলেরে মুজিব নাই ? 
মুজিব...
তুমি আছো দেশ জুড়ে দিগন্তে
ঢেউ খেলানো ফসল আর বাংলার বিলে,
তুমি আছো এ দেশের কৃষকের মুখের হাসিতে
কোটি কোটি বাঙ্গালির হৃদয় স্পন্দে
কে বলেরে মুজিব নাই
মুজিব সারা বাংলায়।

তাপস বিশ্বাসের লেখা কবিতা "তুমি ভোবো না পিতা"


 



তুমি ভেবো না পিতা

তাপস বিশ্বাস


আজ আকাশের মন ভালো নেই
পুঞ্জিভূত ব্যথায় ভারাক্রান্ত সে
বাতাসের চোখেও বেদনার জল,
তোমার রক্তাক্ত দেহের দিকে তাকিয়ে
দীর্ঘশ্বাসের ছোঁয়ায় দিশেহারা প্রাণীকুল।
পাখিদের বুকে বইছে কালবৈশাখী ঝড়
তাদের কণ্ঠে গান নেই আজ
আছে করুণ আহাজারি, কষ্টের কাকলি।
রক্তজবার লালে মিশেছে তোমার বুকের রক্ত
রজনীগন্ধার পাপড়ি যেন কাফনের কাপড়,
বিমর্ষ ফুলেরা বিলাপে ব্যাকুল
'পিতা নেই, বঙ্গবন্ধু নেই'।
.
খুনির খুন এখনো গরম
হিংসার আগুনে টগবগিয়ে ফোটে,
ট্রিগারে আঙুল চেপে চুপিসারে চলে আততায়ী
বর্ণচোরা হয়ে মিশে থাকে জনারণ্যে
মৃত তোমাকে আবার মারবে বলে।
কী অপরাধ ছিল তোমার ?
বজ্রকণ্ঠে তুমি জাগিয়ে তুলেছিলে
মুক্তিকামী বাঙালির মুক্তির চেতনা
এটাই কি অপরাধ ?
প্রচণ্ড ভূমিকম্পে কাঁপিয়ে দিয়েছিলে
অত্যাচারী শোষকের ঘৃণিত আস্তানা
এটাই কি অভিযোগ ?
চিহ্নিত দেশদ্রোহীদের সাধারণ ক্ষমা দিয়ে
টেনে নিয়েছিলে তোমার বিশাল বুকে
এটাই কি ছিল ভুল ?
জানি, উত্তর পাবো না কারো কাছে।
.
চোখের জলে কেউ ডুবে আছে অনন্তকাল
দুঃখে, কষ্টে ভেঙে খানখান হয়েছে কারো বুক,
শোকাহত সহযোদ্ধা পবিত্র পাগল হয়ে
তোমার স্মৃতিচারণ করছে রাস্তায় রাস্তায়
কোটালীপাড়ার শেখ সেকেন্দারের মতো ;
কোটি কোটি শিশুর হাহাকার হয়ে
বাংলার পথে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে
শেখ রাসেলের অতৃপ্ত আত্মা।
অনুশোচনার পরশ পাথরের ছোঁয়ায়
এতটুকু খাঁটি হয় না তবু নরপিশাচের অন্তর,
ইতিহাসের কোনো গোপন গর্তে লুকিয়ে থেকে
চক্রান্তের নতুন জাল বুনে যাচ্ছে তবু
অস্পৃশ্য সরীসৃপ, নিন্দিত নরাধম;
বারবার পরাজিত হয়েও নেচে যায়
রক্তবীজ নামের নগ্ন দৈত্য।
.
প্রিয়তম পিতা
দুচোখ মেলে তাকিয়ে দেখো একবার
বেশিরভাগ ফসল নষ্ট হয়নি আজও
তোমার স্বপ্নের সোনার বাংলায়।
নতুন কুঁড়িদের আগমনে উদ্দীপ্ত ফুলের বাগান
কিশোর-কিশোরীর চোখে চকচকে রোদ,
শোকেরা আজ শক্তির প্রতীক
তোমার পদচিহ্ন, পথের দিশারি।
তুমি ভেবো না পিতা
আবার আসে যদি অশুভ সময়
তোমার অস্তিত্ব মুছে দিতে চায় কেউ,
আকাশ, বাতাস, প্রাণী আর ফুলেদের দিব্যি
তোমার স্বপ্নের দিব্যি,
লাল-সবুজ পতাকার দিব্যি
লাখো শহিদের রক্তের দিব্যি,
সম্ভ্রমহারা মা-বোনের দিব্যি
সত্যের সার্থক সুনামি হবে তাহলে
ফুঁসে উঠবে পবিত্র জলরাশি,
প্রচণ্ড জলোচ্ছ্বাসে চিরতরে ভেসে যাবে
সব ময়লা, সব আবর্জনা
পুণ্যস্নান ক'রে শুদ্ধ হবে বাংলা মা।