Friday, August 13, 2021

একজন পরী মনি এবং নারীর লাঞ্চনা..

 


একজন পরী মনি এবং নারীর লাঞ্চনা..

-----✒️📝জসিম মল্লিক

পরী মনির কোনো চলচ্চিত্র আমি দেখিনি কিন্তু তার নাম অনেক শুনেছি। সে বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় একজন নায়িকা। পরী মনি খুবই রুপসী নায়িকা। সে ভাল অভিনেত্রীও বটে না হলে সে শুধু রুপ দিয়ে জনপ্রিয় হতে পারত না। পরী মনি একজন চলচ্চিত্র কর্মীই নন তিনি কারো কন্যা, কারো বোন, কারো বন্ধু কারো বা প্রেয়সী। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় সে বাংলাদেশের নাগরিক এবং একজন গর্বিত নারী। নিশ্চয়ই তার জাতীয় পরিচয় পত্র আছে, পাসপোর্ট আছে। সে বাংলাদেশের ভোটার। সে পাসপোর্ট নিয়ে দেশ বিদেশে যায়। একজন নাগরিকের যা যা করার অধিকার আছে পরী মনিরও আছে। বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর যে অধিকারের কথা বলা আছে সবই পরী মনির জন্য প্রযোজ্য। সে অন্য আর দশটা নারীর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে শোবিজের মানুষ। মানুষকে বিনোদন দেয় সে। এঞ্জলিনা জুলি, কাজল বা রেখার মতোই তার গুরুত্ব। সরকারকে সে ইনকাম ট্যাক্স দেয়, সরকার তার অভিনীত চলচ্চিত্র থেকে আয়কর নেয়। চলচিত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার রুটি রুজির ব্যবস্থা হয় যখন একটা চলচ্চিত্র ব্যবসা সফল হয়।

আচ্ছা পরী মনিকে এতো হেনস্থা হতে হচ্ছে কেনো! সে তথাকথিত বোট ক্লাবে ধর্ষণ চেষ্টার বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলেই কি! পরী মনি নিশ্চিতভাবে সাপের লেজে পা দিয়েছে। যারা পরী মনিকে রাতের অন্ধকারে হেনস্থা করেছে তারা টাকা ওয়ালা মানুষ। বাংলাদেশ এমন একটা দেশ যেখানে টাকাই সব। আইনের শাসন, মানবতা, ন্যায়বিচার মাথা কুড়ে মরে। টাকা দিয়ে বাংলাদেশে সবই করা সম্ভব। সত্যকে মিথ্যা, দিনকে রাত করা যায়। নারীদের সুরক্ষায় বাংলাদেশে যথেষ্ট শক্ত আইন থাকা স্বত্বেও নারীরা প্রতিনিয়ত হেনস্থা হচ্ছে! ধষর্ন, হত্যা, নির্যাতন, লাঞ্চনা, অবিচার থেমে নেই। ঘরে বাইরে, রাস্তায়, হাটে বাজারে, বাসে, লঞ্চে, অফিসে সর্বত্র। বাংলাদেশ পুরুষশাসিত দেশ। পুরুষের ক্ষমতার কাছে নারী তুচ্ছ। পুরুষেরা হায়েনার ভূমিকায়। সেখানে নারীরা মোটেই নিরাপদ না। নারী খেকো পুরুষেরা কখনও ভাবে না যে এই নারীই তার কন্যা, জায়া, জননী। মনে হয় তারা ঘরেও এসব করতে দ্বিধা করে না।

৩ 

পরী মনির অপরাধ কী? যে সব গল্প ফাঁদা হচ্ছে তা চর্বিত চর্বন। গল্পের স্ক্রিপ্ট সবই এক। খুবই দুর্বল স্ক্রিপ্ট। দেশের যে হাজার হজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে, পাচার হয়ে যাচ্ছে, বড় বড় অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে সেসব নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যাথা নাই। কারণ এসব করছে প্রভাবশালীরা। তাদের পশমও ছুঁতে পারছে না কেউ। অথচ পুরো দেশ এক অসহায় নারীকে নিয়ে পড়ে আছে। যেনো পরী মনিকে অপমান করতে পারলে, চরিত্রহীন বানাতে পারলে, রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার করতে পারলে, শাস্তি দিতে পারলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। 

যে দেশে নারীর সম্মান নেই, যে দেশে নারীরা নিরাপদ নয়, যে দেশে নারীদের ভোগের সামগ্রী মনে করা হয় সে দেশ কখনও মর্যাদাশীল জাতি হতে পারবে না। নারীকে ভালবাসুন, তাদের সম্মান করুন। নারী সমাজেরও উচিত তাদের মর্যাদার প্রতি, অধিকারের প্রতি সচেতন হওয়া, সোচ্চার হওয়া। পরী মনির ঘটনাই শেষ ঘটনা না। অসংখ্য পরী মনি প্রতিদিন ঘরে বাইরে কর্মক্ষেত্রে, দেশে বিদেশে নির্যাতিত হচ্ছে, লাঞ্চিত হচ্ছে। নারীর লঞ্চনা বন্ধ করতে হবে। পরী মনিদের বাঁচতে দিন।

টরন্টো ১৪ আগষ্ট ২০২১



মোঃ মাজহারুল আলমের লেখা "শৈশবের স্মৃতি"


  

 শৈশবের স্মৃতি  


মোঃ মাজহারুল আলম


এই তো সেদিন পাখির ডাকে

  ঘুম পালাতো নদীর বাঁকে

  এই সময়ে দোয়ার খুলে

 বেড়িয়ে যেতাম দুলে দুলে।


ক্বোরআন হাতে এই প্রভাতে

   দলবেঁধে সব মক্তবেতে

  দোয়া দুরুদ আরবী পড়া

 ঘুচতো যতো গ্লানি-জরা।


এই তো সেদিন স্কুল পালিয়ে

  দলবেঁধে সব পা-চালিয়ে

  বনের ধারে,নদীর পাড়ে

গাছের শাখা,বাঁশের ঝারে।


পাখির ছানা মেলতো ডানা

  লুকিয়ে সবাই দিতাম হানা

বুলবুলি আর শালিক যতো

 চড়ুই সারস আরো কতো।


এই তো সেদিন বিকেল বেলা

গোল্লাছুট আর বউছি খেলা

 উঠোন ভরা ছেলে-মেয়েরা

মাতিয়ে দিতো নিরব পাড়া।


   বুড়ো দাদু লাঠি দেখিয়ে

বলতো এসে দেই ঝেটিয়ে?

   হঠাৎ গিয়ে লাঠি নিয়ে

বলতো সবাই দাদুর বিয়ে।


এই তো সেদিন বৃষ্টি এলে

মাঠ-ঘাট সব তলিয়ে গেলে

স্কুলে যেতে থাকতো মানা

তাই তো ঘরে দিতাম হানা।


চোর-পুলিশে হারিয়ে যেতাম

হুল্লোড়ে সব বকা খেতাম।

এরপরে সব লুকিয়ে গিয়ে

দিতাম সবাই পুতুল বিয়ে।


এই তো সেদিন,যেদিন গেলো

দাঁড় কাকেরা সময় খেলো

শালিক,সারস,ময়না,টিয়ে

ছাড়লো সবই না জানিয়ে।


দাদুর কবর পুকুর পাঁড়ে

হারিয়ে গেলো সব আঁধারে

সোনার ছিলো সেই স্মৃতি সব

করছি এখন খুব অনুভব।

Thursday, August 12, 2021

বান্দরবান জেলা ভ্রমণ

 

বান্দরবান জেলা ভ্রমণ

-------------------------✒️📝 কামরান চৌধুরী 


পাহাড়, নদী ও ঝর্ণার মিলনে অপরূপ সুন্দর বান্দরবান জেলা। বান্দরবানের দক্ষিণ-পশ্চিমে কক্সবাজার, উত্তর-পশ্চিমে চট্রগ্রাম জেলা, উত্তরে রাঙামাটি ও পুর্বে মায়ানমার। ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আচার-আচরন, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় উৎসব পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানের কাছে মানুষকে টেনে নিয়ে যায় অবিরত। 


বৌদ্ধ ধাতু জাদী (স্বর্ণ মন্দির)

শহর হতে ৫ কি.মি. দূরত্বে বান্দরবান-রাংগামাটি সড়কের পার্শ্বে পুরপাড়া নামক স্থানে সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় স্বর্ণ মন্দির  অবস্থিত। এ স্থানটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নিকট তীর্থস্থান। এ মন্দির সোনালী রংয়ের  এক অপূর্ব নির্মাণ শৈলী ও আধুনিক ধর্মীয় স্থাপত্য নকশার নিদর্শনস্বরুপ ও খুবই আকর্ষনীয়।  স্বর্ণ মন্দির আসার পথে সাঙ্গু নদী, বেতার কেন্দ্রসহ বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য  সহজেই উপভোগ করাতে পারবেন। এই প্যাগোডার নির্মাণ শৈলী মায়ানমার, চীন ও থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ টেম্পল গুলোর অনুরূপ।  


চিম্বুক: 

বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুকের পরিচিত অনেক পুরনো। পাহাড়ের এই দৃশ্যটি অতি  চমৎকার। এ পাহাড় থেকৈ সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের দৃশ্য যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করে। জেলা শহর হতে ২৩ কি.মি. দূরে ও সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ২৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এখানে হেলিপ্যাড, রেস্টহাউস রয়েছে। চিম্বুক যাওয়ার পথে মিলনছড়ি ও শৈলপ্রপাত ঝর্ণা পড়ে। চিম্বুক থেকে নীলগিরি ২০ কি.মি। 


মিলনছড়ি

শহর থেকে ৩ কি.মি. দূরে নয়নাভিরাম সবুজের কোলে মিলনছড়ি অবস্থিত। সাঙ্গু নদীর মোহনায় সৌন্দর্য্ মোহনীয়। 



নীলগিরি : 

জেলা সদর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোইমটার দক্ষিণ পূর্বে-থানছি সড়কে পাহাড় চূড়ায় নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে এর উচ্চতা ২২ শত ফুট। প্রকৃতির কারুকাজ মুগ্ধ করে ভ্রমণ পিয়াসীদের। পাহাড় মেঘের লুকোচুরি খেলা এখানে নিত্য চলে। এই রোদ, এই বৃষ্টি, আকাশে মেঘের গর্জন সেই সাথে রংধনুর হাসিমাখা আলোর রুশ্মি, বাতাসের সাথে ছন্দ আর তাল মিলিয়ে প্রকৃতির বৈবিত্র্যময় এই পরিবর্তনের এই পরিবর্তনের দৃশ্যগুলো পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এখানে রয়েছে আকর্ষীয় কটেজ, ক্যাফেটেরিয়া, হেলিপ্যাড। দিনের বেলায় খালি চোখে বঙ্গোপসাগর ও জাহাজ চলাচলের দৃশ্য দেখা যায়। পাহাড়ের কোল ঘেষে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নদীর আকাবাকা দৃশ্য মনোরম। এই স্থানটি বাংলার দার্জিলিং নামে পরিচিত। 



মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স- 

শহর থেকে ৪.৫ কিলোমিটার দূরে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র। এখানে একটি মনোরম কৃত্রিম হ্রদ, শিশু পার্ক, সাফারী পার্ক, পেডেল বোট, ঝুলন্ত  ব্রিজ, চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পট ও সুন্দর একটি রেস্ট হাউজ রয়েছে। 


বগালেক  : 

প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট পাহাড়ের ওপরে একটি লেক। যার পানির স্তর শীত বষায় কখনোই পরিবতন হয়না। লেকটির আয়তন ১৫ একর, উচ্চতা সমুদ্র সমতল হতে প্রায় ১২০০ ফুট। রুমা উপজেলা থেকে ১৭ কি.মি. দূরে কেওক্রাডং পাহাড়ের কোল ঘেষে। শীতকালে এ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষ খুব উপভোগ করে। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ  ও প্রাকৃতিক দৃশ্য অনেকে উপভোগ করে। 



নীলাচল- 

নীলাচল পাহাড়ি এলাকাটি  শহর থেকে ৫ কিমি দূরে সমুদ্রপৃষ্ঠা হতে ২০০০ ফুট উচুতে টাইগার পাড়া এলাকায় অবস্থিত। অনেকেই একে স্বর্গভূমি বলেন। নীলাচল থেকে সমগ্র বান্দরবান শহর একনজরে দেখা যায়। পাহাড় ঘেরা সবুজের সমারোহ ও প্রাকৃতির রূপ পর্যটকেরা উপভোগ করে। নীলাচলে বর্ষা, শরৎ আর হেমন্তে হাতের কাছে মেঘ খেলা করে। 


জীবননগর পাহাড়- 

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাস্তাটি জীবননগর পাহাড়ের উপর দিয়ে থানছি  উপজেলা সদর স্পর্শ করেছে। জীবননগর থেকে থানছির পথে ১০ কি. মি. দূরত্বের একটি ঢালু পাহাড় রয়েছে। এর ঢালে ভ্রমণ খুবই রোমাঞ্চকর।




তাজিংডং/ বিজয়: 

তাজিংডং বা বিজয় দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এর উচ্চতা প্রায় ৪১৯৮ ফুট।

বান্দরবান সদর হতে প্রায় ৭০ কি. মি. দূরে রুমা উপজেলায় অবস্থিত।


কেওক্রাডং-

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পবতশৃঙ্গ। এর উচ্চতা ৩১৯৬ ফুট। রুমা উপজেলা সদর হতে ৩০ কি. মি.। (বগালেক থেকে ১৫ কি. মি দূরত্ব)


আলী সুড়ঙ্গ- আলীকদম উপজেলায় অবস্থিত এ সুড়ঙ্গ।  গহীন অরণ্যে অবস্থিত হলেও এর রহস্য জয় করতে আসছে শতশত পযটক। উপজেলা সদর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ সুড়ঙ্গে যেতে একটি লোহার সিঁড়ি বেয়ে যেতে হয়। সাথে টর্চলাইট থাকা ভাল। মাতামুহুরী- টোয়াইন খাল ঘেঁষে দুই পাহাড়ের চুঁড়ায় এই রহস্যময় গুহা। ভিতরে স্যাঁতস্যাঁতে গা ছমছমে পরিবেশ। গুহার ভিতরে অনেক বাদুর রয়েছে। 



ক্যামলং জলাশয় : সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের ভাঙামুড়া পাহাড় সন্নিকটে ২৫ একর ক্যামলং জলাশয় বা বিশালকৃতির লেক। এ  লেকের পানি দিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় সেচ সুবিধা দেয়া হয়। শহর থেকে 10 কি. মি. দূরে অবস্থিত  স্যুাটিং ও পিকনিক স্পট। 


রাম জাদি : জেলা শহর থেকে ৫কি.মি. দূরে বান্দরবান রোয়াংছড়ি সড়কের কালাঘাটা এলাকায় রাম জাদি অবস্থিত । পাহাড় চূড়ায় এ মন্দির একটি তীথস্থান।


উপবন লেক : নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে অবস্থিত কৃত্রিম হ্রদ। এখানে মাছ  ধরা ও নৌকা ভ্রমণের সুবিধা রয়েছে। বান্দরবান শহর থেকে 120 কিলোমিটর দূরে হলেও কক্সবাজার থেকে মাত্র 20 কিলোমিটারের মধ্যে  হওয়াতে এ স্থানটি ইকো ট্যুর ও পিকনিক স্পট হিসাবে এর পরিচিত রয়েছে। 



কানাপাড়া পাহাড়- বান্দরবান-কেরানি হাট সড়কের পাশে যৌথখামার এলাকায় অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত কানাপাড়াটি বম সম্প্রদায় অধ্যুষিত। শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে।

এখান হতে পায়ে হেঁটে সাঙ্গু নদীতে পৌঁছা যায়।


নাফাখুম- থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নে অবস্থিত একটি জলপ্রপাত। সাঙ্গু নদী পথে রেমাক্রি হয়ে যেতে হয়। 


শৈলপ্রপাত ঝর্ণা- শহর থেকে ৮ কি.মি দূরে থানচি যাবার পথে স্বচ্ছ ও ঠান্ডা পানির ঝর্ণা। পিকনিক করার আদর্শ স্থান। এখানে পাহাড়, ঝর্ণা ও গ্রামীণ জীবনের মিতালী দৃশ্যমান। 



মারায়ন তং- ১৬৪০ ফুট উচ্চতার এই পাহাড় চূড়ায় বৌদ্ধ উপাসনালয় রয়েছে। খোলা প্রকৃতির মাঝে বুদ্ধের বিশাল মূর্তি স্থানকে গাম্ভীর‌ময় করেছে। দিগন্তজোড়া পাহাড় ও নিচে মাতামুহুরী নদী ফসলের ক্ষেত সব মিলিয়ে অপূর্ব। 


তিন্দু- তিন্দুকে ভূ-স্বর্গ বলা হয়। পাহাড়, মেঘ, ঝর্ণা, রহস্য ও রোমাঞ্চ সব মিলিয়ে এডভেঞ্চার প্রিয় মানুষের আকর্ষন এখানে। শঙ্থ নদীর স্বচ্ছ পানির ঢল। স্থানীয় আদিবাসীদের সারল্য ও আতিথিয়তায় মুগ্ধ হবেন। 



জাদিপাই ঝর্ণা- কেওক্রাডং থেকে দেড় কিমি দূরে জাদিপাই ঝর্ণা। কেওক্রাডং, জংছিয়া ও জাদিপাই ৩টি পাহাড়ি ঝিরির স্বচ্ছ পানির ধারা একত্রে ২০০ ফুট উপর থেকে কালো পাথরের গা বেয়ে জাদিপাই ঝর্ণা সাংগু নদীতে মিশেছে। শীতকালে পানি কম থাকে ট্রেকিং করা সুবিধা। 


আমিয়াখুম- থানচি উপজেলার দুর্গম স্থানের একটি জলপ্রপাত। সাদা রঙের ফেনা ছড়িয়ে প্রবল বেগে শীতল পানি নিচে নেমে আসে। এখানে শব্দতরঙ্গের মূর্ছনায় মোহবিষ্ট হয় মানুষ। বর্ষায় এর প্রকৃত রূপ ফুটে ওঠে। 



সাতভাই খুম- আমিয়াখুম জলপ্রপাত থেকে কিছুটা দূরে পাহাড়ে ঘেরা স্বচ্ছ জলধারা সাতভাইখুম। বাঁশের ভেলায় করে পাড়ি দিতে দিতে মুগ্ধতায় ভরে যাবে অন্তর।  


ডিম পাহাড়- আলীকদম ও থানচি উপজেলার মাঝে ডিম পাহাড়ের অবস্থান। প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দয্য বৈচিত্রময় আদীবাসী জীবনধারায় পরিপূর্ণ স্থানটি। 


দামতুয়া ঝর্ণা- আলীকদম উপজেলার দুর্গম স্থানে এই ঝর্ণা। এখানে যেতে ও আসতে প্রায় ১২ কি.মি পাহাড়ি পথ হাঁটতে হয়।


চিংড়ি ঝর্ণা- বান্দরবানের অসংখ্য ঝর্ণার মধ্যে চিংড়ি ঝর্ণা অন্যতম। একসময় এখানে প্রচুর চিংড়ি পাওয়া যেতো। বগালেক থেকে কেওক্রাডং যাবার পথে ৩০ মিনিট হাঁটলে এটার দেখা পাওয়া যায়। বর্ষাকালে অপরূপা হয়ে ওঠে। 



নীলদিগন্ত- থানচি উপজেলার জীবননগর এলাকায় পাহাড়চূঁড়ায় ৩ একর এলাকা নিয়ে এটি গড়ে উঠেছে। সবুজ পাহাড়ের সাথে সাদা মেঘের খেলা নীল দিগন্তকে মোহনীয় করে। নীলগিরি থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে। এখানে পাহাড়ি আদিবাসীদের জীবনযাত্রা নজর কারবে সকলের।  


আন্ধারমানিক- নৈসর্গিক রহস্যঘেরা সৌন্দর্যময় আন্ধারমানিক বান্দরবান জেলার থানচির বড় মদক এলাকায় অবস্থিত। রেমাক্রি হয় ছোট মদক হয়ে বড় মদকে যেতে হয়। ৮ ঘন্টা হাঁটার পথ, উঁচু-নিচু ও নদীল পাড় ধরে ঝোপঝাড়পূর্ণ পাহাড়ি পথ। 



দেবতাখুম- রোয়াংছড়ি উপজেলায় দেবতাখুব অবস্থিত। প্রায় প্রায় ৫০-৭০ ফুট গভীর এই খুমের  দৈর্ঘ্য ৬০০ ফুট যা ভেলখুম থেকে অনেক বড় এবং অনেক বেশী বন্য। শীলবাঁধা পাড়া থেকে বাঁশের মজবুত ভ্যালা বানিয়ে নিতে হবে। শীলবাঁধা গিয়ে প্রথমে পং সু আং খুম পার হতে হবে। পং সু আং খুম পার হওয়ার পর দেবতাখুমের শুরু। স্থানীয়দের কাছে এটা হলো সোনাখুম। অনেকে আবার মারমা ভাষায় থংচিখুম নামেও ডাকে। পিচ্ছিল পাথরে পথে পা ফসকে যেতে পারে তাই সতর্ক থাকতে হয়।  আশে পাশের সব সুনসান। শব্দ হিসেবে থাকবে উপর থেকে পানির ফোটা পরার শব্দ, নিজেদের ভেলার আওয়াজ এবং আপনার কথারই প্রতিধ্বনি। 




এছাড়া দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে মিরিঞ্চা, শুভ্রশীল, লিক্ষ্যং ঝর্ণা, সাকাহাফং পর্বত, ডাবল ফলস বা ৎলাবং ঝর্ণা, তিনাপ সাইতা, লুং ফের ভা সাইতার ঝর্ণা, বাকলাই ঝর্ণা, রাজার বাড়ি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ইত্যাদি।


Tuesday, August 10, 2021

জেনে নেওয়া যাক লেবুপানি খাওয়ার কিছু উপকারি গুনাগুন:

 

লেবু পানি খাওয়ার উপকারিতা


এড. মোঃ ছোহরাব হোসেন ভূঁঞা(মিঠু)
(আইনজীবী, জজকোর্ট ঢাকা/কুমিল্লা, বাংলাদেশ)


লেবুতে প্রচুর পরিমাণে পেক্টিন থাকে। আঁশজাতীয় এই পদার্থ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ওজন কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের খাবারে এমন অম্লজাতীয় খাবার কম থাকে তাদের ওজন বাড়ে বেশি।লেবুর শরবতের কথা আমরা সবাই জানি, কিন্তু এর উপকারিতা সম্পর্কে কি জানি? সকাল সকাল হালকা গরম পানিতে লেবু  মিশিয়ে পান করে দিনটি শুরু করলে সেটি হয়ে উঠবে অনেক প্রানবন্ত ও স্বাস্থ্যকর। 


জেনে নেওয়া যাক লেবুর কিছু উপকারি গুনাগুন:


হজমে সহায়ক:

শরীর থেকে অযাচিত পদার্থ এবং টক্সিন বের করে দেয় লেবুর রস। আমাদের হজমের জন্য ব্যবহৃত লালা এবং পাচক রসের সাথে বেশ মিল আছে এর গঠন এবং কাজের। আর যকৃত থেকে হজমে সহায়ক এক ধরণের পদার্থ নিঃসরণেও এটি সহায়তা করে।


ডাইইউরেটিক হিসেবে কাজ করে:

শরীরে মূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং এর মাধ্যমে খুব দ্রুত ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এছাড়া মূত্রনালীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও এটি সহায়ক।


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

লেবুতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও লৌহ, যা ঠাণ্ডা জ্বর জাতীয় রোগের বিরুদ্ধে ভীষণ কার্যকর। এতে আরও আছে পটাসিয়াম, যা মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুকে সক্রিয় রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এতে থাকা অ্যাসকরবিক এসিড প্রদাহ দূর করে এবং অ্যাজমা বা এ জাতীয় শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমায়। এছাড়াও কফ কমাতে সাহায্য করে লেবু।


শরীরের পিএইচ মাত্রা ঠিক রাখে:

শরীরের অম্ল-ক্ষারকের মাত্রা ঠিক রাখে লেবু। লেবু হজম হয়ে যাবার পর কিন্তু আর অম্লীয় থাকে না, ক্ষারীয় হয়ে যায়। ফলে এটি রক্তে মিশে যায় এবং শরীরের অম্লতা বাড়তে দেয় না। অম্লতা বেড়ে গেলেই দেখা দেয় রোগ।


ত্বক পরিষ্কার করে:

ত্বকের কুঞ্চন এবং দাগ দূর করে লেবুতে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের জন্য খুব দরকারি হল ভিটামিন সি। ব্রণ বা অ্যাকনি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া এটি দূর করে। আর ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতেও এটি কার্যকরী।


আপনার মন ভালো করে দেয়:

সকালেই প্রাণচাঞ্চল্য বাড়িয়ে দিতে এর জুড়ি নেই। খাবার থেকে শক্তি শোষণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় লেবু। আর এর গন্ধে আপনার মন ফুরফুরে হয়ে উঠবে নিমিষেই। দুশ্চিন্তা এবং বিষন্নতা দূরীকরণেও এটি অসামান্য।


নিঃশ্বাসে আনে তরতাজা ভাব:

লেবুর রস নিঃশ্বাসে সতেজতা আনা ছাড়াও, এভাবে গরম পানির সাথে লেবুর রস পানে দাঁতের ব্যথা এবং জিঞ্জিভাইটিসের উপশম হয়। তবে এটা পানের পরপরই দাঁত ব্রাশ করবেন না, কারণ সাইট্রিক এসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে ফেলে। আগে দাঁত ব্রাশ করে তারপর এটা পান করা ভালো। আর লেবুপানি পান করার পর বিশুদ্ধ পানি খেতে পারেন এক গ্লাস।


শরীরে তরলের পরিমাণ ঠিক রাখে:

রাতে ঘুমানোর সময়ে যে পানি খরচ হয় সেটা পূরণ হয়ে যায় সকাল সকাল এই এক গ্লাস লেবু পানি পানের মাধ্যমে।


ওজন কমাতে সহায়ক:

লেবুতে প্রচুর পরিমাণে পেক্টিন থাকে। আঁশজাতীয় এই পদার্থ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ওজন কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের খাবারে এমন অম্লজাতীয় খাবার কম থাকে তাদের ওজন বাড়ে বেশি।


গর্ভবতী নারীদের জন্য লেবুপানি খুবই উপকারী:

লেবুপানি দেহের ভাইরাস ধ্বংস করে ও হাড়ের টিস্যু মজবুত করে। এবং একই সময়ে লেবুর পটাশিয়াম উপাদান বাচ্চার মস্তিস্কের ও নার্ভতন্ত্রের কোষ সবল করতে সাহায্য করে। সুতরাং, গর্ভবতী নারীদের জন্য বেশ উপকারী এই লেবুপানি।


অতএব, আমাদের সকলের উচিত ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস উষ্ণ লেবুর পানি পান করা।

Monday, August 9, 2021

সেলিম রহমানে'র লেখা কবিতা "মুজিব মানে"

 


মুজিব মানে

সেলিম রহমান

মুজিব ছিলো বাংলাদেশে
সবার চোখের মনি;
মুজিব ছিলো সবার কাছে
সাহস নামের খনি।

সেই খনিতে সাহস ছিলো
রক্ত ছিলো বুকে;
অন্যায়েরা করলে খেলা
উঠত মুজিব রুখে।

ন্যায়ের পথে চলত মুজিব
মুষ্টি করা হাত;
জেল হাজতে তার কেটেছে
হাজার দিবস,রাত।

তার কথাতেই উঠত জেগে
শাহবাগের ঐ সড়ক;
তার কথাতেই ধ্বংস হতো
পাকিস্তানি নরক।

সব তরুণের আদর্শ হোক
শেখ মুজিবের মত;
বাংলাদেশের তরুণ সমাজ
মুছবে দেশের ক্ষত।


কবি, গবেষক, ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার ফজলুর রহমান

 


কবি/লেখক পরিচিতি

ফজলুর রহমান 

কবি, গবেষক, ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার

জন্ম: ০২ ফেব্রুয়ারি, পূর্বমজপুর, কুষ্টিয়া 

পেশা: অধ্যাপনা, সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট

শিক্ষা জীবন: 

এসএসসি : কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়; এইচএসসি : শোমসপুর আবু তালেব ডিগ্রি কলেজ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ও একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ' তারাশঙ্করের ছোটোগল্পে প্রান্তিক চরিত্রের স্বরূপ' শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য অর্জন করেছেন এমফিল ডিগ্রি।  বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধীনে 'সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসে  ইতিহাসচেতনা' শীর্ষক অভিসন্দর্ভের ওপর পিএইচডি গবেষণারত।



প্রকাশিত গ্রন্থ :

কাব্যগ্রন্থ : বিনি সুতোয় গাঁথা (২০১৮)

গল্পগ্রন্থ  :  লালদিঘি ও একজন  চিত্রশিল্পী (২০১৫), গহিনে দাগ(২০২০), নিঃশব্দে নির্বাসন (২০২১)

উপন্যাস : স্বপ্নঘুড়ি (২০১৪), সেতুবন্ধন(২০১৭), জলরঙের জীবন (২০১৯)

ই-মেইল : fazlur@acc.edu.bd

ফেরারী মুরাদের লেখা কবিতা "আগস্টের বুলেট"


 আগস্টের বুলেট

→ফেরারী মুরাদ


ততোটা রক্ত ঝরাসনি বুকে

বায়ান্ন একাত্তরে

যতোটা রক্ত ঝরালি বুলেট

আগস্টের সে ভোরে।


বাঙালি জাতিকে ঠেলে দিলি

অনিশ্চিত অন্ধকারে

পিতৃশোকে শোকাহত জাতি

আজ কাঁদে অকাতরে।


বুঝলিনা অবুঝ বাংলাদেশ মানে

শেখ মুজিবর রহমান

মৃত্যু পিতাকে নিঃশেষ করেনি

করেছে চিরো অম্লান।


১৫/০৮/২০১৬ইং

Sunday, August 8, 2021

#আজ_(বঙ্গমাতা)_রেণুর_একানব্বইতম_জন্মদিন_# ------✒️📝 ওয়াহিদ ফেরদৌস

 





#আজ_(বঙ্গমাতা)_রেণুর_একানব্বইতম_জন্মদিন_#

-----------------✒️📝 ওয়াহিদ ফেরদৌস

একটি বহুল প্রচলিত বাক্য, 'সব শ্রেষ্ঠ পুরুষের পেছনে থাকে এক নিভৃতচারী নারীর ভূমিকা'। 'বঙ্গমাতা' শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব' সম্পর্কে লিখতে গেলে মনে হয় এই বাক্যটি এই মহীয়সী নারীর ক্ষেত্রে যথাযোগ্য প্রবচন হওয়া আবশ্যক।


বাস্তবিক বঙ্গবন্ধুর সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠার নেপথ্যে, একদিকে যেমন তাঁর পিতার দৃঢ় সমর্থন ও অর্থনৈতিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, তেমনি গৃহকোণে বালিকাবধূ  থেকে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী, সন্তানদের মা, ও পুত্রবধু হিসেবে 'রেণু' জাতিরপিতার লক্ষ অর্জনে আপোষহীন অবস্থান এবং বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী হওয়ার কারণে ব্যক্তিগত সুখ,ভোগ-স্বাচ্ছন্দ বিস্বর্জন দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে পারিবারিক জীবনের দ্বায়িত্ব-কর্তব্যের চাপ থেকে মুক্তি দিয়ে, জাতিকে পরম লক্ষ স্বাধীনতার পথে নেতৃত্ব প্রদানে, সর্বক্ষেত্রে যোগ্যতাসম্পন্ন নেতা হিসেবে গড়ে উঠতে, সম্ভাব্য সব রকমের সহায়তা দিয়েছেন।





অন্যদিক থেকে বঙ্গবন্ধুর পিতাকেও সে যুগের নয় বরং এ যুগের পরিপ্রেক্ষিতে ও একজন অতি আধুনিক এবং অসাধারণ দুরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখতে পাই-তাঁর অসাধারণ উক্তির মধ্যে! "রাজনীতি কর আপত্তি করবো না--- তবে পড়া-লেখা না শিখলে মানুষ হতে পারবেনা"।


একসময় চারপাশের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ যখন তাঁকে বলতেন 'আপনার ছেলে যা আরম্ভ করেছে তাতে তার জেল খাটতে হবে'। তখন 'শেখ লুৎফর রহমানের' অসামান্য উক্তি ছিল, 'সে দেশের জন্য কাজ করছে,  অন্যায় তো করছে না'!



এই পিতার সংসারে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল বাবা-মা হারা তিনবছর বয়সের 'রেণু' তেরো বছর বয়সের 'খোকার' বিবাহিত স্ত্রী হয়ে! ভবিষ্যতে যিনি বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা-স্থপতি বঙালি জাতির পিতা হবেন,এবং তাঁরই সু-যোগ্য সহধর্মিণী হয়ে উঠবেন! সেই ঘটনাটিও বাঙালি জাতির জন্য সমান তাৎপর্যপূর্ণ। 




" বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যানকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী' অর্ধেক তার নর" 

কবি নজরুলের কবিতাংশের এই অমর বাণীটি 'রেণু' নামের এই নারীর জন্যই রচিত হয়েছিল হয়তো! বিশ্বের মহান সৃষ্টিতে যেসব নারীর নাম উল্লিখিত হয় তাঁরা স্বগুণে আপন মহিমায় ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। যেমন-প্রীতিলতা,বেগম রোকেয়া প্রমুখ, এরপর যে নামটি সগৌরবে উল্লেখ করতে হয় তিনি হলেন 'রেণু'। 



যাদের কথা নজরুল বলেছেন- '"জগতের যতবড় জয়, বড় অভিযান, মাতা-ভগ্নি ও বধুধের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান"

সেই নারী, সেই মাতা,সেই ভগ্নি,সেই বঁধু'দের অন্যতম হলেন 'মুজিব' পত্নী 'শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব' আমাদের অতল শ্রদ্ধার, অসীম গর্বের, 'বঙ্গমাতা' পরম মমতাময়ী 'মা'। 


সকল মহৎ ও সফল ব্যক্তির সাফল্যে 'প্রেরণা দিয়েছে,শক্তি যুগিয়েছে বিজয়লক্ষ্মী নারী' এইসব প্রেরণা ও শক্তির পেছনের নারীর কথা কখনো প্রকাশ পেয়েছে,কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই অপ্রকাশ্য রয়েগেছে। তেমনি একজন আমার 'মা' রেণু!



এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে আমরা দেখেছি অভিজাত ও শিক্ষিত ব্যক্তিরাই নেতৃত্ব দিয়েছন,বিশেষ করে নবাব ও জমিদার পরিবার। সেইসাথে মাড়োয়ারী, ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সন্তানেরা ছিল। কারণ এদের অর্থবিত্ত ছিল প্রভাব ও প্রতিপত্তিও ছিল।


ইতিহাসে খুব কম রাজনৈতিক নেতার পরিচয় পাওয়া যায়, যিনি পরিবার ও সমাজের টানাপোড়েনের মধ্যদিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন, যাদের প্রধান ভিত্তি,শক্তি ও উৎস ছিল জনগন! সেই বিরল দৃষ্টান্তটি স্থাপন করেছেন আমাদের টুঙ্গিপাড়ার 'খোকা'।


যে খোকা একাধারে বিপুলভবে জনসমর্থন অর্জন করেছেন। নিজের ও জনগনের শক্তি,সাহস বৃদ্ধি পায় সেই কাজটিই তিনি করতেন, জনগনের সাথে বেঈমানী করেন নি, জনকল্যান,সমাজসংস্কারের কথা ভবতেন, নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে কুন্ঠাবোধ করেন নি! তাই তিনি হয়ে ওঠেন স্বভাবজাত কিংবদন্তি,ওয়ে ওঠেন বিপ্লব ও স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা।


আব্রাহাম লিংকনের জীবন সংগ্রামের কথা আমরা জানি, শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হকের জনপ্রিয়তার কথা আমরা শুনেছি, হোসেন সহীদ সোহরাওয়ার্দীর দেশপ্রেমের কথা আমরা শুনেছি, মাহাত্মাগান্ধীর আত্মত্যাগের কথা আমরা শুনেছি! কিন্তু বাংলাদেশের স্থপতি,স্বাধীনতার রূপকার,জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও তাঁর প্রাণপ্রিয়তমা 'রেণু'র কথা আমরা কতটা জানি!? আমাদের প্রজন্মরা কতটুকু জানে!?


বঙ্গবন্ধু নামের এই 'খোকা' মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তিনি সাধারণ মানুষর জীবনঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাদের ভলোবেসেছেন, ভালোবাসা পেয়েছেনও। তাই তাদের অধিকার নিয়ে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন! স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন! বীরের জাতি হিসেবে বিশ্ব-দরবারে "বাংলাদেশ" নাম প্রতিষ্ঠা করেছেন! বাঙালি জাতিকে শিক্ষিত ও উন্নত জীবনের অধিকারী করতে চেয়েছেন, তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তার প্রধান আধার ছিল মানুষ,মানুষ এবং মানুষ।


এই মানুষের জন্যই তাঁর আদর্শ,দেশপ্রেম এবং সাহস। ধর্মবর্ণ, শ্রেনীগোষ্ঠী নির্বিশেষ সব মানুষর প্রতি তাঁর অঙ্গিকার,দায়বদ্ধতা ও আত্মত্যাগ ইতিহাসের গবেষণায় বিশ্লেষিত হওয়া উচিৎ । এই সবকিছুর নেপথ্যে যে নিভৃতচারীনি মানুষটি নিরলস ভূমিকা পালন করেছেন তিনিই হলেন আমাদের 'মা' বঙ্গমাতা 'শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।


বঙ্গবন্ধুর জীবনসঙ্গী 'রেণু'র সম্পর্কে একটি কথা বলবো, আমার মনে হয়েছে তিনি একজন ঈশ্বর প্রদত্ত নারী ছিলেন! কবির ভষায় বলতে পারি- "রাজা করিতেছে রাজ্য শাসন রাজারে শাসিছে রাণী, রাণীর দরদে ধুইয়া গিয়াছে রাজ্যের যত গ্লানি।"



বঙ্গবন্ধুর জীবনে তিনি ছিলেন একটি 'বাতিঘর' এবং মাইলস্টোন, যেমন-১। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর বিবাহ। ২। বঙ্গবন্ধুর বিএ পরীক্ষার সময় কলকাতায় গিয়ে অবস্থান। ৩। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অর্থের যোগান। ৪। ১৯৫৪সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের পর তিনি সন্তান সহ ঢাকায় এসে স্থায়ীভাবে বসবাস। ৫। ১৯৬৭ সালে ছাত্র-জনতার দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্যারোলে মুক্ত হয়ে আইয়ুবের গোলটিবিল বৈঠকে যেতে নিষেধ করা। ৬। ৭ই মার্চ ১৯৭১ সালে ঐতিহাসিক ভাষন দিতে যাওয়ার আগে বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন "তোমার অন্তর যা চাইছে আজ তা-ই বলবে"। ৭। ৩০ জুলাই ১৯৭৫ সালে দুইকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা কে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া। ৮। ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫'এ বঙ্গবন্ধুর  সাথে কুলাঙ্গার ঘাতকদের বুলেটে সাহাদাত বরণ করে মরণেও তাঁর সঙ্গী হওয়া!



সবশেষে- আমি বিস্মিত হই! বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তাঁর ভূমিকা নিয়ে! যার কোন প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চ ডিগ্রী ছিলনা,ছিলনা কোন রাজনৈতিক চর্চা, তথাপি এমন রাজনৈতিক দুরদর্শি, এতোটা মেধাবী ও প্রজ্ঞাবান, এমন মানবিক, এতোই সহনশীল,ত্যাগী ও দেশপ্রেমীক, শতশত সাধারণ মানুষদের আবদার অভিযোগ, অনুযোগ সামলানো, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের সময় দেওয়া,উকিলদের সাথে পরামর্শ, বঙ্গবন্ধুর শগতশত আত্মীয়স্বজন দের চাহিদা, তারপর সন্তানদের সবরকম দ্বায়িত্বপালন কি করে সম্ভব!? কোন্ অদৃশ্য বা দৈবশক্তি বলে তিনি তা পারতেন!? 



এমন বিরামহীন পরিশ্রমী,সঠিক দিক নির্দেশক,এমনই দেশপ্রেমী নারী'র এমন নজীর পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই! স্যালুট বঙ্গমাতা। আমি এই মহীয়সী, গরবিনী মায়ের শুভ জন্মদিনে আমার সবটুকু ভালোবাসা ও অতল শ্রদ্ধা তাঁর চরণে ওজাড় করে দিলাম। হে মহান আল্লাহ, আপনি আমাদের এই শহীদ মা'কে জান্নাতুল ফিরদৌস নসীব করুন।

'বঙ্গমাতার অনুপ্রেরণা ও আত্মোৎসর্গ' লেখক মোঃ মোফাজ্জেল হক

 

বঙ্গমাতার অনুপ্রেরণা ও আত্মোৎসর্গ 

মোঃ মোফাজ্জেল হক।

[সভাপতি বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখা।সদস্য তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।]

বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ আলোচনায় বঙ্গমাতার জীবনাচারও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উদ্ভাসিত। খোকা থেকে মুজিব, মুজিব থেকে মুজিব ভাই, মুজিব ভাই থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতির পিতা থেকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে ওঠার পেছনে যার অবদান অনস্বীকার্য, তিনি হচ্ছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।বঙ্গমাতার অনুপ্রেরণা ও আত্মোৎসর্গ অনস্বীকার্য। তার কারণেই একটি জাতির মনে স্বাধীনতার স্বপ্ন বপন করে এর স্বাদও এনে দিতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে পেছন থেকে কাজ করেছেন শেখ মুজিবের প্রিয় রেণু।

মহীয়সী নারীর এমন দৃঢ়প্রত্যয় সাহস জোগানোর ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন ৭ই মার্চের অমর ভাষণ দিয়েছিলেন, বাঙালি জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন, ৭ই মার্চের ভাষণের নেপথ্য শক্তি—তিনি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব। ডাকনাম রেণু। ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা শেখ জহুরুল হক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের জ্ঞাতি সম্পর্কের চাচা এবং গ্রামের বর্ধিষ্ণু কৃষক পরিবার। 



বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন, ‘একটা ঘটনা লেখা দরকার, নিশ্চয়ই অনেকে আশ্চর্য হবেন। আমার যখন বিবাহ হয় তখন আমার বয়স বারো-তেরো বছর হতে পারে। রেণুর বাবা মারা যাবার পরে ওর দাদা আমার আব্বাকে ডেকে বললেন যে আমার সাথে তার এক নাতনির বিবাহ দিতে হবে। কারণ তিনি তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ওদের দুই বোনকে লিখে দিয়ে যাবেন। রেণুর দাদা আমার আব্বার চাচা। মুরব্বির হুকুম মানার জন্যই রেণুর সাথে আমার বিবাহ রেজিস্ট্রি করে ফেলা হলো। আমি শুনলাম আমার বিবাহ হয়েছে। তখন কিছুই বুঝতাম না, রেণুর বয়স তখন বোধ হয় তিন বছর হবে। রেণুর যখন পাঁচ বছর বয়স তখন তার মা হোসনে আরা বেগম মারা যান। একমাত্র রইল তার দাদা। রেণুর সাত বছর বয়সে দাদাও মারা যান। তারপর সে আমার মায়ের কাছে চলে আসে। রেণুদের ঘর আমার ঘর পাশাপাশি ছিল, মধ্যে মাত্র দুই হাত ব্যবধান।’ 


শেখ মুজিবের মা বেগম সায়রা খাতুন পাঁচ বছর বয়সে মাতৃহীন রেণুকে ঘরে তুলে নেন এবং নিজের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে শিক্ষাদীক্ষা ও গৃহকর্মে বড় করে তোলেন। শৈশব থেকেই রেণু শেখ মুজিবসহ পরিবারের ছোট-বড় সব সদস্যের কাছে নিজেকে আপন হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন। বিশেষ করে বড় সন্তান খোকা (শেখ মুজিবের ছোটবেলার ডাকনাম), যাঁর সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক, তাঁর চলাফেরা, কিশোর বয়স থেকেই নানা কর্মকাণ্ড, খানিকটা দুরন্তপনা, বেপরোয়া ও সাহসী মনোভঙ্গি কিশোরী ফজিলাতুন নেছা রেণুর জন্যও বড় হওয়ার প্রেরণা ও মুগ্ধতার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের যেকোনো বিপর্যয়ে, অসুখ-বিসুখে উদ্ধারকর্মী হিসেবে শেখ মুজিবের সঙ্গে নিজেও তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ান। 

বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মজীবনীর প্রথম পাতা শুরু করেছিলেন সঙ্গী সহধর্মিণীর কথা দিয়ে। কেননা বেগম মুজিবের তাগিদেই এই প্রজন্মের বাঙালি আজ হাতে পেয়েছে স্বাধিকার আন্দোলনের এক অমূল্য দলিল। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের কাহিনি রচনার পেছনে স্ত্রীর যে উদ্যোগ ও উৎসাহ পেয়েছেন তাঁর বর্ণনায় লিখেছেন—  “আমার স্ত্রী আমাকে কয়েকটা খাতাও কিনে জেল গেটে জমা দিয়ে গিয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষ যথারীতি পরীক্ষা করে খাতা কয়টা আমাকে দিয়েছেন। রেণু আরো একদিন জেল গেটে বসে আমাকে অনুরোধ করেছিল। ‘বসেই তো আছ, লেখো তোমার জীবনের কাহিনি।’ বললাম, লিখতে যে পারি না; আর এমন কী করেছি যা লেখা যায়! আমার জীবনের ঘটনাগুলো জেনে জনসাধারণের কি কোনো কাজে লাগবে? কিছুই তো করতে পারলাম না। শুধু এইটুকু বলতে পারি, নীতি ও আদর্শের জন্য সামান্য একটু ত্যাগ স্বীকার করতে চেষ্টা করেছি।” 


সেই ছোট্টবেলা থেকে এবং পরবর্তীকালে স্বামীর রাজনৈতিক জীবনের এক আত্মত্যাগী সহযোগী হয়ে ওঠেন বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব। শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন ও কারাজীবনেও তিনি এক অনুকরণীয় ত্যাগী নারী হিসেবে আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। স্ত্রী হিসেবে তাঁর জীবনকালে কখনো স্বামীকে একনাগাড়ে দুই বছর কাছে পাননি। কিন্তু কোনো দিন কোনো অনুযোগ-অভিযোগ ছিল না, কখনো বলেননি যে তুমি রাজনীতি ছেড়ে দাও, চলে আসো বা সংসার করো বা সংসারের খরচ দাও। জীবনে কোনো প্রয়োজনে কোনো দিন বিরক্ত হননি। যত কষ্টই হোক কখনো ভেঙে পড়তে দেখা যায়নি তাঁকে।


একদিকে ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসার সামলানো, আবার কারাগারে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে তাঁর মনোবল দৃঢ় রাখা; অন্যদিকে আইনজীবীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মামলার খোঁজখবর নেওয়া। নিজের সোনার অলংকার বিক্রি করেও মামলার খরচ জুগিয়েছেন। নিজেকে বঞ্চিত করে তিনি স্বামীর আদর্শ ও সংগঠনের জন্য নিজের সম্বল প্রায় সবই বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, তাঁর স্বামী দেশের জন্য কাজ করছেন, মানুষের কল্যাণের জন্য করছেন। টাকার অভাব, সংসার চালাতে হচ্ছে, আওয়ামী লীগের নেতাদের সাহায্য দরকার, কেউ অসুস্থ তাকে টাকা দিতে হচ্ছে। কিন্তু কখনোই এসব কথা কাউকে বলতেন না। নীরবে কষ্ট করে সমস্যার সমাধান করেছেন।


এমনও দিন গেছে মামলা চালাতে গিয়ে তাঁর কাগজপত্র, উকিল জোগাড় করতে অনেক খরচ হয়ে গেছে। এদিকে বাজারও করতে পারেননি। কোনো দিন বলেননি যে টাকা নাই, বাজার করতে পারলাম না। চাল-ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করেছেন। আচার দিয়ে ছেলে-মেয়েদের বলেছেন যে প্রতিদিন ভাত-মাছ খেতে ভালো লাগে নাকি। আসো, আজকে আমরা গরিব খিচুড়ি খাই, এটা খেতে খুব মজা। একজন মানুষ, তাঁর চরিত্র কতটা সুদৃঢ় থাকলে যেকোনো অবস্থা মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা ধারণ করতে পারেন। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে পদে পদে তিনি আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে গেছেন। প্রকাশ্যে প্রচারে কখনোই আসেননি।


১৯৬৬ সালে ছয় দফা দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু প্রথম তিন মাসে আটবার গ্রেপ্তার হন। পাকিস্তান সরকার ৮ মে বঙ্গবন্ধুকে আবার গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করে। ৭ জুন ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ও আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট সফলভাবে পালনে বেগম মুজিবের ভূমিকা ছিল অন্যতম। গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি লুকিয়ে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তাঁদের ছোট ফুফুর ফ্ল্যাট বাসায় চলে যেতেন। ওখানে গিয়ে নিজের স্যান্ডেল বদলাতেন, কাপড় বদলে, বোরকা পরে একটা স্কুটার ভাড়া করে ঢাকায় পড়ুয়া ছোট ভাইকে নিয়ে ছাত্রনেতা আর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতেন। আন্দোলন চালাবে কিভাবে তার পরামর্শ, নির্দেশনা তিনি নিজেই দিতেন। আবার ওই বাসায় ফিরে এসে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নিজের বাসায় ফিরতেন। বঙ্গবন্ধু ও আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে সারা দেশে এই ধর্মঘট যাতে পালিত হয় এবং চলমান আন্দোলনের সফলতার জন্য তিনি নিরলস কাজ করে যেতেন। সবই করতেন গোপনে এবং রাজনৈতিক মেধায়। 


একটা সময় এলো ছয় দফা, না আট দফা? পশ্চিম পাকিস্তান থেকে নেতারা চলে এলেন ঢাকায়। তদানীন্তন শাহবাগ হোটেলে থাকতেন নেতারা। বেগম মুজিব মাঝে মাঝে বড় মেয়ে হাসুকে (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনা) পাঠাতেন তাঁদের স্ত্রীদের একটু খোঁজখবর নিয়ে আসার জন্য, আর সেই সঙ্গে কে কে আছে একটু দেখে এসে তাঁকে জানাতে। ছোট ভাই রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে রুমে রুমে গিয়ে সব দেখেশুনে মাকে এসে রিপোর্ট দিতেন শেখ হাসিনা। বেগম মুজিবের একটা ভালো নেটওয়ার্ক ছিল সারা দেশে। কোথায় কী হচ্ছে তার সব খবর চলে আসত তাঁর কাছে। সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক নেতাই বেগম মুজিবের প্রতি আস্থাশীল ছিলেন।


আওয়ামী লীগের মধ্যে সে সময় খুব গোলমাল। একদল পিডিএমএ যোগদান করার পক্ষে, আর একদল ছয় দফা। ১৯ মে ১৯৬৬ সালে ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির বাড়িতে ওয়ার্কিং কমিটির বর্ধিত সভা। ডেকোরেটর, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সে যুগে ছিল না, নিজ হাতে রান্না করে তিন দিন সবাইকে খাইয়েছেন বেগম মুজিব। সঙ্গে বিভক্ত নেতাদের নানা পরামর্শ দিয়েছেন, সাবধান করেছেন যেন ছয় দফা থেকে আট দফার দিকে চলে না যায়। বেগম মুজিবের মানসিক দৃঢ়তা সেই সময়ের রাজনৈতিক জাতীয় সংকট উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কার্যকর ছিল।


নেতাদের নানামুখী পরামর্শে তিনি শুধু বলতেন, ‘লেখাপড়া জানি না কী বুঝব, খালি এটুকু বুঝি যে ছয় দফা আমাদের মুক্তির সনদ, এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’ জেলখানা থেকে শেখ মুজিব দৃঢ় উচ্চারণে জানিয়ে দিয়েছেন, আর যাই হোক ছয় দফা থাকতেই হবে। ছয় দফা থেকে একচুল এদিক-ওদিক হওয়া যাবে না। বিশেষ কাউন্সিলের সভায় সিদ্ধান্ত হলো ছয় দফা ছাড়া আর কিছু হবে না।


বেগম মুজিবের স্মরণশক্তি ছিল অসাধারণ। একবার যা শুনতেন তা আর ভুলতেন না। স্লোগান থেকে শুরু করে অনেক রাজনৈতিক পরামর্শ, নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত আসত বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে।


১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকাকালে প্রতিদিন কী বিপুল আগ্রহে স্ত্রীর আগমনের প্রতীক্ষায় থাকতেন তা তাঁর লেখনীতে দেখতে পাই। ঘরে-বাইরে বেগম মুজিবই ছিলেন তাঁর পরামর্শক, উপদেষ্টা, সহচর আর নির্ভরতার আশ্রয়স্থল। সে সময়ের লেখা কারাগারের রোজনামচা থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।


১৫ জুন ১৯৬৬  দুঃখ করে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘মাত্র ২০ মিনিট সময় যাবতীয় আলাপ করতে হবে। কথা আরম্ভ করতেই ২০ মিনিট কেটে যায়। নিষ্ঠুর কর্মচারীরা বোঝে না যে স্ত্রীর সাথে দেখা হলে আর কিছু না হউক একটা চুমু দিতে অনেকেরই ইচ্ছা হয়, কিন্তু উপায় কী? আমরা তো পশ্চিমা সভ্যতায় মানুষ হই নাই। তারা তো চুমুটাকে দোষণীয় মনে করে না। স্ত্রীর সাথে স্বামীর অনেক কথা থাকে, কিন্তু বলার উপায় নাই।’


২৬ জুন ১৯৬৬  রেণু স্যারিডন খেতে দিতে চাইত না। ভীষণ আপত্তি করত। বলত, হার্ট দুর্বল হয়ে যাবে। বলতাম, আমার হার্ট নাই, অনেক পূর্বেই শেষ হয়ে গেছে। বাইরে তার কথা শুনি নাই কিন্তু জেলের ভিতর তার নিষেধ না শুনে পারলাম না।


৬ জুলাই ১৯৬৬ বিকালে চা খাবার সময় সিকিউরিটি জমাদার সাহেবকে আসতে দেখে ভাবলাম বোধ হয় বেগম সাহেবা এসেছেন। গত তারিখে আসতে পারেন নাই অসুস্থতার জন্য। ‘চলিয়ে, বেগম সাহেবা আয়া।’ আমি কি আর দেরি করি? তাড়াতাড়ি পাঞ্জাবি পরেই হাঁটা দিলাম গেটের দিকে। রেণুকে জিজ্ঞাসা করলাম,  ‘খুব জ্বরে ভুগেছ। এখন কেমন আছ?’  ‘পায়ে এখনো ব্যথা। তবে জ্বর এখন ভালোই।’   বললাম, ‘ঠাণ্ডা লাগাইও না’।  আজ অনেক সময় কথা বললাম। সময় হয়ে গেছে, ‘যেতে দিতে হবে।’ বিদায় দিয়ে আমার স্থানে আমি ফিরে এলাম।  কখনো কখনো স্ত্রীর উপস্থিতি কামনায় আকুল হয়ে উঠতেন, অপেক্ষা করে থাকতেন, না এলে মুষড়ে পড়তেন কিছুক্ষণের জন্য—


২১ জুলাই ১৯৬৬ ভেবেছিলাম আজ রেণু ও ছেলে-মেয়েরা দেখতে আসবে আমাকে। হিসাবে পাওয়া যায় আর রেণুও গত তারিখে দেখা করার সময় বলেছিল, ‘২০ বা ২১ তারিখে আবার আসব।’ চারটা থেকে চেয়েছিলাম রাস্তার দিকে। মনে হতে ছিল এই বোধ হয় আসে খবর। যখন ৫টা বেজে গেল তখন ভাবলাম, না অনুমতি পায় নাই।  শেখ মুজিবের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে, সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেগম ফজিলাতুন নেছা ছিলেন অফুরান প্রেরণার উৎস। ১৯৬৬-তে ছয় দফা ঘোষণার পর থেকে শেখ মুজিব যখন বারবার জেলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তখন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা বেগম মুজিবের কাছে ছুটে আসতেন। তিনি তাঁদের বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন নির্দেশনা পৌঁছে দিতেন এবং লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাতেন। জেলখানায় দেখা করার সময় ছেলে-মেয়েদের শিখিয়ে নিতেন একটু হৈচৈ করার জন্য, আর ওই ফাঁকে বাইরের সমস্ত রিপোর্ট স্বামীর কাছে দেওয়া আর তাঁর কাছ থেকে পরবর্তী করণীয় নির্দেশনা জেনে নেওয়া। নির্দেশনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।



আমাদের বঙ্গমাতা ছিলেন জ্ঞানী, বুদ্ধিদীপ্ত, দায়িত্ববান এবং ধৈর্যশীল মানবিক মানুষ। জাতির পিতার 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' এবং 'কারাগারের রোজনামচা' লেখার মূল প্রেরণা ও উৎসাহ ছিল তাঁর জীবনসঙ্গী ফজিলাতুন্নেছার। শেখ মুজিবের ১২ বছর কারাবাস-কালে ছেলেমেয়েদের পিতৃস্নেহ দিয়েছেন বেগম মুজিব। শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনে প্রধান অবলম্বন ছিলেন তাঁর স্ত্রী। স্ত্রীকে তিনি গভীরভাবে ভালোবাসতেন। সর্বগুণে গুণান্বিতা ফজিলাতুন্নেছার সাহায্য ও সহযোগিতা না পেলে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে রাজনীতি করা সম্ভব হত না। বেগম মুজিব তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে কাটিয়েছেন। ১৯৬৯ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান শেখ মুজিবুর রহমানকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে লাহোরে বৈঠকে যোগদান করতে অনুমতি দিয়েছিল, তখন বেগম মুজিব তাঁর স্বামীকে এভাবে বৈঠকে যোগদান না করার পরামর্শ দেন। এবং বলেন- 'যদি বৈঠকে যোগ দিতেই হয়, তবে মুক্ত মানুষ হিসেবে বৈঠকে যোগ দেবেন।' কতটুকু আত্মবিশ্বাস ও বিচক্ষণতা থাকলে এ ধরনের পরামর্শ দেয়া যায় তা অনুভবের বিষয়। শেখ মুজিব ফজিলাতুন্নেছার কথা রেখেছিলেন। তিনি প্যারোলে মুক্তি নেননি। বঙ্গমাতা বুঝতে পেরেছিলেন এই গণআন্দোলনকে রুখে দেয়ার সাধ্য আয়ুব সরকারের নেই। মাওলানা ভাসানী, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সহ অনেকে তখন রাজপথ গরম করে রেখেছিলেন। এদের আন্দোলনে দ্রোহের আগুন জ্বলে উঠলো চারিদিকে। প্রবল গণআন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নেয় এবং বঙ্গবন্ধুসহ সকল বন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয় আয়ুব সরকার। বঙ্গবন্ধুর এই নিঃশর্ত মুক্তির পেছনের কারিগর আমাদের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা। ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এবং এই মামলায় অভিযুক্তদের গণসংবর্ধনা দেয়া হয়। এবং এই জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়।



বঙ্গবন্ধুর পক্ষে রাজনীতির দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া সম্ভব ছিলো না, যদি না বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছার মত মানবিক নারীর সহযোগিতা না থাকতো। যতবার বঙ্গবন্ধু জেলে গেছেন, ততবারই তাঁর যোগ্য স্ত্রী কাপড়চোপড় গুছিয়ে দিতেন আর লেখালেখি করার জন্য সাথে দিতেন খাতা-কলম। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা 'কারাগারের রোজনামচা' গ্রন্থের শুরুতে ী ফজিলাতুন্নেছা প্রেরণা না দিলে আমরা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতেই পারতাম না।১৯৬৪ সালের আগস্ট মাসে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ৬৭৭ নম্বর বাড়ি নির্মাণের জন্য বঙ্গমাতা গৃহনির্মাণ সংস্থা থেকে ৩২ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। আমরা বেগম মুজিবকে এক দূরদর্শী নারীরূপে দেখি তাঁর সংসার যাত্রায়।১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামে উত্তাল হয়ে উঠল সারাদেশ। ভুট্টোর প্রবল বিরোধিতার মুখে ঢাকায় নির্ধারিত ৩ মার্চের গণ পরিষদ অধিবেশনে ১ মার্চ ঘোষণার মাধ্যমে স্থগিত করে দেয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে বাংলার আপামর জনতা। ২ মার্চ হরতাল পালিত হয়। ৩ মার্চ পল্টনের জনসভায় লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলেন বঙ্গবন্ধু। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৭ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক জনসভার ঘোষণা দিলেন তিনি। ৭ মার্চ ভাষণে যাওয়ার আগেও বঙ্গবন্ধু বঙ্গমাতার পরামর্শ শুনেছিলেন। ঘর থেকে বের হবার আগে তাঁর স্বামিকে ডেকে নিয়েছিলেন, তাঁর সাথে কারা যাচ্ছেন তা জেনে প্রথমে বলেছিলেন জনসভায় যাওয়ার পথ পরিবর্তন করতে। পরামর্শ দিয়েছিলেন অন্য কারো পরামর্শ না নিয়ে নিজের বুদ্ধি আর বিবেক যা বলে তা বলার জন্য। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ লিখিত ছিল না। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বঙ্গবন্ধুকে ফজিলাতুন্নেছা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন যে, 'তোমার পিছনে ইয়াহিয়ার বন্দুক এবং সামনে মুক্তিকামী মানুষের অগাধ বিশ্বাস আর ভালোবাসা।' ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আত্ম জাগৃতির দীর্ঘ পথ বেয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহাকাব্য রচিত হলো। তাতে সর্বত্রই শেখ মুজিবুর রহমানের কথা কাহিনী বর্ণিত আছে। সেই মহাকাব্যে ক্ষুদ্র পরিসরে আছেন আমাদের বঙ্গমাতা। বঙ্গমাতার বিশালতা ও ব্যাপ্তি প্রতি পাতায় পাতায় হওয়া উচিত ছিল।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে ও যুদ্ধকালীন তিনি তাঁর ডানার আড়ালে রেখেছেন সন্তানদের। তিনি নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে সন্তানদেরকে বলেছেন- ' কতবার কত দুর্দশায় পড়েছি, এবার না হয় একটু বেশি কষ্ট হবে।' চারিদিকে যুদ্ধ, যত্রতত্র হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ, এরমাঝে সমস্ত দেশের দায়িত্ব ছিলো বঙ্গবন্ধুর উপর। সে সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেনাপতিকে পেছন থেকে সাহস যুগিয়েছেন যিনি, তিনি আর কেউ নন, আমাদের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা একে অপরের সাথে এত অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত যে, কাউকে আলাদা করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। ফজিলাতুন্নেছা তিন বছর বয়স থেকে বঙ্গবন্ধুর সাথে মৃত্যু পর্যন্ত একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। তাঁরা পরস্পর পরস্পরের সৌরভে বিমোহিত ছিলেন। রেনুকে শেখ মুজিবের অলংকার মনে করা হলেও শুধুমাত্র শেখ মুজিবই জানতেন তাঁর জীবনীশক্তি আর প্রাণরস তিনি রেনুর থেকেই প্রতিনিয়ত পেয়ে রাজনীতির স্বর্ণশিখরে উঠেছিলেন।

পরিশেষে বলতে পারি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যত বেশি আলোচনা হবে, বঙ্গমাতার অবদান তত বেশি উদ্ভাসিত হবে। বঙ্গমাতার বিশালত্বের অজানা নতুন নতুন দিক উন্মোচিত হবে। বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার নাম চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। বঙ্গমাতার জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। 

তথ্যসূত্রঃ "আওয়ামী লীগের আত্মত্যাগী নেতাদের সংগ্রামী জীবন "  মোঃ মোফাজ্জেল হক।

'ইহকাল পরকালের ভাবনার গান ' লেখকঃ- স্বপন শাহ্ শ্যামলাপুরী।



ইহকাল পরকালের ভাবনার গান 

লেখকঃ- স্বপন শাহ্ শ্যামলাপুরী।


আমি সব হারাইছি নিঃস্ব হইছি, হইছি শুধু দেনার ভাগী।।

আমি বড়ো অপরাধী, আমি বড়ো অপরাধী, আমি বড়ই অপরাধী।।


মহাজনের ষোলআনা,  আমি সব হারাইয়া হইছি দেনা।।

সোনা ভেবে লইছি তামা।। কাঁচ কিনেছি হীরা ভাবি। 


লাভের আশায় ভবে এসে, মাতলাম ভবের রঙ্গ রসে।।

দিন কাটাইলাম মন হরষে।। নফছ রিপু মন হয় বিবাদী। 


কি জবাব দিবো হাল খাতার দিন, কেমনে আমি শোধরাবো ঋণ।।

স্বপন শাহ্ কয় জীবন সঙ্গীন।। এখন মিছেই বইসা ভাবি।